ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বৈরাচারের মতোই গুপ্তরা এখন নতুন জালিমে পরিণত হয়েছে : তারেক রহমান জুলাই সনদ রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর: আলী রীয়াজ মা-বোনদের কটু কথা নয়, সম্মান দিলেই বেহেশত পেতে পারি: মির্জা ফখরুল উত্তরবঙ্গকে আমরা কৃষিশিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব : জামায়াত আমির জনসভায় যোগ দিতে বরিশালে তারেক রহমান ফিলিস্তিনের পক্ষে স্টিকার লাগানোয় ব্রিটিশ দম্পতিকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত, ৩ জন গুলিবিদ্ধ লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফকে গুলি করে হত্যা ‘ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা সংসদে গেলে স্বর্ণের দেশে পরিণত হবে’: রেজাউল করিম শেখ হাসিনা চাচ্ছে না বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক : মেজর হাফিজ

ঝুঁকিতে ফারুক, ভাবনায় আমিনুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-১ আসনের বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়নের ঝুঁকিতে পড়েছেন। আর জামায়াতকে নিয়ে ভাবনায় পড়েছেন এই আসনটির তিনবারের এমপি বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হক।

জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটির এমপি হতে এবার অন্তত ১১ নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে বর্তমান এমপি ছাড়াও আছেন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আসাদুজ্জামান, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী, গোদাগাড়ী পৌর মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মকবুল হোসেন বদরুজ্জামান রবু মিয়া, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য একেএম আতাউর রহমান খান, জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব জেমস, সাধারণ সম্পাদক তাজবুল হক ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বজলুর রহমান।

এদের মধ্যে জেমস, তাজবুল হক ও বজলুর রহমান এককভাবেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে তার সমর্থকরা। এলাকায় ‘সেভেন স্টার’ নামে পরিচিত অন্য সাত নেতা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছিলেন বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে। তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন তাদের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। নৌকার বিজয় নিশ্চিত হবে। কিন্তু বর্তমান এমপিকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে থাকবেন না। মনোনয়ন ফরম তোলার পরও এই সাত নেতা একই কথা বলছেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে প্রথম এমপি হন ওমর ফারুক চৌধুরী। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসনটির এমপি থাকেন। কিন্তু সরকারের দুই মেয়াদে তিনি নানা বিতর্কিত কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েন। আর দলীয় প্রধান বলেছেন, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিই এবার মনোনয়ন পাবেন না। তাই এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী এবার মনোনয়ন নিয়ে ঝুঁকিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। তিনি মনোনয়ন না পেলে নৌকার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন মতিউর রহমান ও গোলাম রাব্বানী। চমক হতে পারেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান। দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি রাজশাহী-২ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে অবশ্য সরে গিয়ে জোটের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশার হাতে তাকে নৌকা প্রতীক তুলে দিতে হয়।

রাজশাহী-১ আসনে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর মনোনয়ন নিয়ে এবার অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও কোনো টেনশন করছেন না বলে দাবি করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের এই নেতা। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমি পার্টির নেতা। মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে চিন্তা করছি না। পার্টির জন্য কাজ করতে হবে, আমি সেটাই করে যাচ্ছি।

রাজশাহী-১ আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক। ছিলেন মন্ত্রীও। ২০০৭ সালে তার বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হন আমিনুল হকের বড় ভাই সাবেক পুলিশপ্রধান এনামুল হক। এবার আমিনুল হক প্রার্থী হতে দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তিনি ছাড়াও মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন শাহিন ও বিএনপি নেতা সাজেদুর রহমান খান মার্কনি।

তবে আমিনুল হক ভাবনায় পড়েছেন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন হারানো শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে নিয়ে। তিনি এই আসনের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। ১৯৮৬ সালে এই আসনের এমপি হয়েছিলেন তিনি। জোটগত নির্বাচন হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক এই নেতা এবার ধানের শীষ প্রতীক চাইবেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠরা। তবে বিএনপি তাদের প্রার্থী হিসেবে আমিনুলকেই এগিয়ে রাখবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে আমিনুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। জামায়াত নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি। তবে গোদাগাড়ী পৌর জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম মোর্তজা ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমাদের দলের প্রধানের বাড়ি গোদাগাড়ী। নিজের এলাকা থেকে তিনি মনোনয়ন চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক। শুনেছি তিনি মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছেন। আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে। তবে প্রার্থিতার বিষয়ে ২০ দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

ঝুঁকিতে ফারুক, ভাবনায় আমিনুল

আপডেট সময় ০২:০৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-১ আসনের বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়নের ঝুঁকিতে পড়েছেন। আর জামায়াতকে নিয়ে ভাবনায় পড়েছেন এই আসনটির তিনবারের এমপি বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হক।

জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটির এমপি হতে এবার অন্তত ১১ নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে বর্তমান এমপি ছাড়াও আছেন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আসাদুজ্জামান, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী, গোদাগাড়ী পৌর মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মকবুল হোসেন বদরুজ্জামান রবু মিয়া, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য একেএম আতাউর রহমান খান, জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব জেমস, সাধারণ সম্পাদক তাজবুল হক ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বজলুর রহমান।

এদের মধ্যে জেমস, তাজবুল হক ও বজলুর রহমান এককভাবেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে তার সমর্থকরা। এলাকায় ‘সেভেন স্টার’ নামে পরিচিত অন্য সাত নেতা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছিলেন বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে। তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন তাদের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। নৌকার বিজয় নিশ্চিত হবে। কিন্তু বর্তমান এমপিকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে থাকবেন না। মনোনয়ন ফরম তোলার পরও এই সাত নেতা একই কথা বলছেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে প্রথম এমপি হন ওমর ফারুক চৌধুরী। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসনটির এমপি থাকেন। কিন্তু সরকারের দুই মেয়াদে তিনি নানা বিতর্কিত কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েন। আর দলীয় প্রধান বলেছেন, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিই এবার মনোনয়ন পাবেন না। তাই এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী এবার মনোনয়ন নিয়ে ঝুঁকিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। তিনি মনোনয়ন না পেলে নৌকার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন মতিউর রহমান ও গোলাম রাব্বানী। চমক হতে পারেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান। দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি রাজশাহী-২ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে অবশ্য সরে গিয়ে জোটের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশার হাতে তাকে নৌকা প্রতীক তুলে দিতে হয়।

রাজশাহী-১ আসনে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর মনোনয়ন নিয়ে এবার অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও কোনো টেনশন করছেন না বলে দাবি করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের এই নেতা। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমি পার্টির নেতা। মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে চিন্তা করছি না। পার্টির জন্য কাজ করতে হবে, আমি সেটাই করে যাচ্ছি।

রাজশাহী-১ আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক। ছিলেন মন্ত্রীও। ২০০৭ সালে তার বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হন আমিনুল হকের বড় ভাই সাবেক পুলিশপ্রধান এনামুল হক। এবার আমিনুল হক প্রার্থী হতে দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তিনি ছাড়াও মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন শাহিন ও বিএনপি নেতা সাজেদুর রহমান খান মার্কনি।

তবে আমিনুল হক ভাবনায় পড়েছেন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন হারানো শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে নিয়ে। তিনি এই আসনের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। ১৯৮৬ সালে এই আসনের এমপি হয়েছিলেন তিনি। জোটগত নির্বাচন হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক এই নেতা এবার ধানের শীষ প্রতীক চাইবেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠরা। তবে বিএনপি তাদের প্রার্থী হিসেবে আমিনুলকেই এগিয়ে রাখবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে আমিনুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। জামায়াত নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি। তবে গোদাগাড়ী পৌর জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম মোর্তজা ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমাদের দলের প্রধানের বাড়ি গোদাগাড়ী। নিজের এলাকা থেকে তিনি মনোনয়ন চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক। শুনেছি তিনি মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছেন। আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে। তবে প্রার্থিতার বিষয়ে ২০ দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব।