অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মা ডাক দিয়ে ঘুম থেকে উঠানোর পর সৎমাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে দুই সৎছেলে। উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে মায়ের হাত ও পায়ের রগ কেটে গেছে। বুক ও পিঠেও তিনি মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন।
এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তার নাড়িভুড়ি বেরিয়ে আসে। চারতলা ভবন দখল করতেই সৎমা নাজমা হোসাইন হিরা বেগমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সৎছেলে মোহাম্মদ আলী ও আব্দুল্লাহ আল রেজা। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় রেজাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
হিরা বেগমের ছেলে ওমর বিন নাসের জানান, বাঁচার শেষ চেষ্টায় আম্মা খুব জোরে চিৎকার দিয়ে উঠেন। সকালে আম্মার এ চিৎকার শুনে ধড়ফড় করে বিছানা থেকে উঠে দেখি নিজ কক্ষে আম্মা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। এরপর তাকে আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, তার শরীরে আড়াইশ’ সেলাই দেয়া হয়েছে। সাত ব্যাগ রক্তও দেয়া হয়েছে। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিও) রাখা হয়েছে। শুক্রবার সরেজমিন মিরপুর পাইকপাড়া ছাপাখানা মোড়ের ৫৫/৭ নম্বর বাসায় হিরার কক্ষের দরজা ও এর আশপাশে রক্তের দাগ দেখা যায়। এ ভবনের দ্বিতীয় তলায় সন্তানদের নিয়ে থাকেন হিরা এবং তৃতীয় তলায় থাকেন রেজা ও আলী। তাদের কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। বর্তমানে পুরো ভবনে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মামলার আলামত সংগ্রহ করেছে।
যুগান্তরকে নাসের আরও বলেন, বিভিন্ন সময় আম্মাকে রেজা ও আলী মারধর করেছে। ১৭ বছর আগে তাকে কুপিয়ে আহত করেছিল আলী। সে সময় বাবা নিষেধ করায় মামলা করা হয়নি। তিনি বলেন, সৌদি আরবে বাবা চলে যাওয়ার এক দিন পর আম্মাকে খুন করতেই আলী ও রেজা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়েছে।
আম্মার চিৎকার শুনে আমি দৌড়ে না গেলে তারা হয়তো আম্মাকে মেরেই ফেলত। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর মডেল থানায় আলী ও রেজাকে আসামি করে হত্যা চেষ্টা মামলা করেছেন নাসের। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিরপুর মডেল থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, মামলার পর রেজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামি আলীকে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির যুগান্তরকে বলেন, পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওই ভবনের দখল নিয়ে দু’পক্ষের সন্তানদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল নাসের চারটি বিয়ে করেছেন। হিরা বেগম তার দ্বিতীয় স্ত্রী। দ্বিতীয় তলায় তিন সন্তান নিয়ে থাকেন হিরা। প্রথম স্ত্রীর চার সন্তান। এর মধ্যে আলী, রেজা ও মেয়ে ফাতেমা আক্তারকে নিয়ে নাসের ওই ভবনের তৃতীয় তলায় থাকেন। প্রথম স্ত্রীকে ২৫ বছর আগে তিনি তালাক দেন। বাকি দুই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আরেকটি ভবনে থাকেন। পুরো ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝগড়া হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















