ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৮ জেলায় ডিজিটাল জামিননামা (ই-বেইলবন্ড) উদ্বোধন করলেন আইন উপদেষ্টা ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি দর হারিয়েছে ১৭%

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারতের মুদ্রা রুপির দরপতন চলছেই। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই ডলারের বিপরীতে রুপির প্রায় ১৭ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

সোমবার প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য দাঁড়ায় ৭৪ রুপি। দেশটির ইতিহাসে এটিই রুপির সবচেয়ে নাজুক অবস্থা। খবর এনডিটিভি ও ইকোনমিক টাইমস।

শনিবারও ডলারের মূল্য ৭৪ রুপি ছুঁয়েছিল। তবে সেদিন লেনদেনের শেষভাগে রুপির মূল্য কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। কিন্তু সোমবার প্রথমবারের মতো লেনদেন শুরু হয় ৭৪ রুপির ওপরে। এদিন ডলারের সমাপনী মূল্য দাঁড়ায় ৭৪ রুপি ৬ পয়সা।

টানা দরপতনে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ এখন হুমকির মুখে। রুপির আরও দরপতন হতে পারে- এমন আশঙ্কায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশটির পুঁজিবাজার থেকে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

শেয়ার বিক্রির চাপে প্রায় প্রতিদিনই দেশটির শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হচ্ছে। গত সপ্তাহে দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে, যদিও সোমবার বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবে সেটি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকরা।

এদিকে রুপির দরপতন ঠেকাতে ভারত সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা ভারতীয় কোম্পানির ইস্যু করা বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকে সহজ করে দিয়েছে। অন্যদিকে কিছু বিলাসী পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে, যাতে সেগুলোর আমদানি কমে।

জ্বালানি তেলের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি ও বিপুল বাণিজ্য ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে ডলারের বিপরীতে মূল্য হারাচ্ছে ভারতীয় রুপি। বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ ভারতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়, যার প্রায় পুরোটাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয় দেশটিকে।

বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশটির আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমাতে হয়েছে ভারতকে। ইরানের তেল আমদানিতে দুই ধরনের সুবিধা পেত দেশটি।

প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের শিকার ইরান আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কিছুটা কম দামে ভারতের কাছে তেল বিক্রি করত। এছাড়া তেল আমদানি মূল্যের একটি অংশ ডলারের পরিবর্তে রুপিতে পরিশোধ করতে পারত দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমানোর জন্য ঘাটতি মেটাতে হয় অন্য দেশ থেকে তেল আমদানি করে। তাতে গুনতে হয় বাড়তি মূল্য, আবার দামও শোধ করতে হয় ডলারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে অনড় ট্রাম্প, বললেন পিছু হটার সুযোগ নেই

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি দর হারিয়েছে ১৭%

আপডেট সময় ০৬:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারতের মুদ্রা রুপির দরপতন চলছেই। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই ডলারের বিপরীতে রুপির প্রায় ১৭ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

সোমবার প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য দাঁড়ায় ৭৪ রুপি। দেশটির ইতিহাসে এটিই রুপির সবচেয়ে নাজুক অবস্থা। খবর এনডিটিভি ও ইকোনমিক টাইমস।

শনিবারও ডলারের মূল্য ৭৪ রুপি ছুঁয়েছিল। তবে সেদিন লেনদেনের শেষভাগে রুপির মূল্য কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। কিন্তু সোমবার প্রথমবারের মতো লেনদেন শুরু হয় ৭৪ রুপির ওপরে। এদিন ডলারের সমাপনী মূল্য দাঁড়ায় ৭৪ রুপি ৬ পয়সা।

টানা দরপতনে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ এখন হুমকির মুখে। রুপির আরও দরপতন হতে পারে- এমন আশঙ্কায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশটির পুঁজিবাজার থেকে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

শেয়ার বিক্রির চাপে প্রায় প্রতিদিনই দেশটির শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হচ্ছে। গত সপ্তাহে দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে, যদিও সোমবার বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবে সেটি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকরা।

এদিকে রুপির দরপতন ঠেকাতে ভারত সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা ভারতীয় কোম্পানির ইস্যু করা বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকে সহজ করে দিয়েছে। অন্যদিকে কিছু বিলাসী পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে, যাতে সেগুলোর আমদানি কমে।

জ্বালানি তেলের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি ও বিপুল বাণিজ্য ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে ডলারের বিপরীতে মূল্য হারাচ্ছে ভারতীয় রুপি। বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ ভারতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়, যার প্রায় পুরোটাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয় দেশটিকে।

বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশটির আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমাতে হয়েছে ভারতকে। ইরানের তেল আমদানিতে দুই ধরনের সুবিধা পেত দেশটি।

প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের শিকার ইরান আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কিছুটা কম দামে ভারতের কাছে তেল বিক্রি করত। এছাড়া তেল আমদানি মূল্যের একটি অংশ ডলারের পরিবর্তে রুপিতে পরিশোধ করতে পারত দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমানোর জন্য ঘাটতি মেটাতে হয় অন্য দেশ থেকে তেল আমদানি করে। তাতে গুনতে হয় বাড়তি মূল্য, আবার দামও শোধ করতে হয় ডলারে।