ঢাকা ০৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি দর হারিয়েছে ১৭%

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারতের মুদ্রা রুপির দরপতন চলছেই। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই ডলারের বিপরীতে রুপির প্রায় ১৭ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

সোমবার প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য দাঁড়ায় ৭৪ রুপি। দেশটির ইতিহাসে এটিই রুপির সবচেয়ে নাজুক অবস্থা। খবর এনডিটিভি ও ইকোনমিক টাইমস।

শনিবারও ডলারের মূল্য ৭৪ রুপি ছুঁয়েছিল। তবে সেদিন লেনদেনের শেষভাগে রুপির মূল্য কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। কিন্তু সোমবার প্রথমবারের মতো লেনদেন শুরু হয় ৭৪ রুপির ওপরে। এদিন ডলারের সমাপনী মূল্য দাঁড়ায় ৭৪ রুপি ৬ পয়সা।

টানা দরপতনে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ এখন হুমকির মুখে। রুপির আরও দরপতন হতে পারে- এমন আশঙ্কায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশটির পুঁজিবাজার থেকে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

শেয়ার বিক্রির চাপে প্রায় প্রতিদিনই দেশটির শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হচ্ছে। গত সপ্তাহে দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে, যদিও সোমবার বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবে সেটি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকরা।

এদিকে রুপির দরপতন ঠেকাতে ভারত সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা ভারতীয় কোম্পানির ইস্যু করা বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকে সহজ করে দিয়েছে। অন্যদিকে কিছু বিলাসী পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে, যাতে সেগুলোর আমদানি কমে।

জ্বালানি তেলের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি ও বিপুল বাণিজ্য ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে ডলারের বিপরীতে মূল্য হারাচ্ছে ভারতীয় রুপি। বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ ভারতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়, যার প্রায় পুরোটাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয় দেশটিকে।

বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশটির আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমাতে হয়েছে ভারতকে। ইরানের তেল আমদানিতে দুই ধরনের সুবিধা পেত দেশটি।

প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের শিকার ইরান আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কিছুটা কম দামে ভারতের কাছে তেল বিক্রি করত। এছাড়া তেল আমদানি মূল্যের একটি অংশ ডলারের পরিবর্তে রুপিতে পরিশোধ করতে পারত দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমানোর জন্য ঘাটতি মেটাতে হয় অন্য দেশ থেকে তেল আমদানি করে। তাতে গুনতে হয় বাড়তি মূল্য, আবার দামও শোধ করতে হয় ডলারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি দর হারিয়েছে ১৭%

আপডেট সময় ০৬:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারতের মুদ্রা রুপির দরপতন চলছেই। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই ডলারের বিপরীতে রুপির প্রায় ১৭ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

সোমবার প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য দাঁড়ায় ৭৪ রুপি। দেশটির ইতিহাসে এটিই রুপির সবচেয়ে নাজুক অবস্থা। খবর এনডিটিভি ও ইকোনমিক টাইমস।

শনিবারও ডলারের মূল্য ৭৪ রুপি ছুঁয়েছিল। তবে সেদিন লেনদেনের শেষভাগে রুপির মূল্য কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। কিন্তু সোমবার প্রথমবারের মতো লেনদেন শুরু হয় ৭৪ রুপির ওপরে। এদিন ডলারের সমাপনী মূল্য দাঁড়ায় ৭৪ রুপি ৬ পয়সা।

টানা দরপতনে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ এখন হুমকির মুখে। রুপির আরও দরপতন হতে পারে- এমন আশঙ্কায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশটির পুঁজিবাজার থেকে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

শেয়ার বিক্রির চাপে প্রায় প্রতিদিনই দেশটির শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হচ্ছে। গত সপ্তাহে দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে, যদিও সোমবার বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবে সেটি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকরা।

এদিকে রুপির দরপতন ঠেকাতে ভারত সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা ভারতীয় কোম্পানির ইস্যু করা বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকে সহজ করে দিয়েছে। অন্যদিকে কিছু বিলাসী পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে, যাতে সেগুলোর আমদানি কমে।

জ্বালানি তেলের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি ও বিপুল বাণিজ্য ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে ডলারের বিপরীতে মূল্য হারাচ্ছে ভারতীয় রুপি। বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ ভারতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়, যার প্রায় পুরোটাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয় দেশটিকে।

বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশটির আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমাতে হয়েছে ভারতকে। ইরানের তেল আমদানিতে দুই ধরনের সুবিধা পেত দেশটি।

প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের শিকার ইরান আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কিছুটা কম দামে ভারতের কাছে তেল বিক্রি করত। এছাড়া তেল আমদানি মূল্যের একটি অংশ ডলারের পরিবর্তে রুপিতে পরিশোধ করতে পারত দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমানোর জন্য ঘাটতি মেটাতে হয় অন্য দেশ থেকে তেল আমদানি করে। তাতে গুনতে হয় বাড়তি মূল্য, আবার দামও শোধ করতে হয় ডলারে।