অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
মালয়েশিয়ায় কারাগারে বাংলাদেশি অভিবাসীরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন অভিবাসীরা।
বন্দিশিবির হতে মুক্তি পাওয়া মুন্সিগঞ্জের হাসান যুগান্তর প্রতিনিধিকে অভিযোগ করে বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের বুকিতবিন্তাং এলাকা থেকে আমাকেসহ আরও কয়েকজনকে আটক করে মালয়শিয়া পুলিশ।
এ সময় সমস্ত বৈধ দলিলপত্র ইমিগ্রেশন পুলিশকে দেখানোর পরও আমাকে বন্দীশিবিরে নিয়ে যায় পুলিশ।
সেখানে আমাদেরকে বস্ত্রহীন অবস্থায় রাখা হয় ও কানে ধরে উঠবস করানো হয়।
বন্দীদশা থেকে বেরিয়ে আসতে সে দেশের পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে জানান হাসান।
তিনি আরও জানান, বন্দিশিবিরে বৈধ ও অবৈধ সব ধরনের প্রবাসী শ্রমিককে একসঙ্গে রাখা হয়েছিল এবং সবার সঙ্গে একইরকম আচরণ করা হয়েছিল।
কুয়ালালামপুরের কোটারায়াতে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাইমুল হক বলেন, কাজের পারমিটের জন্য আবেদনপত্র ও সব প্রয়োজনীয় ফি প্রদানের পরেও আমাকে ১৭ দিন ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে বন্দী রাখা হয়। এ সময় আমি কানে ধরে উঠবসসহ অনেক অপমানের সম্মুখীন হই।
মেঝেতে বসিয়ে প্রথম দিনে কোন খাবার দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আমার কি অপরাধ ছিল? এ কথা বারবার জিজ্ঞেস করেও কোনো উত্তর পান নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন নাইমুল হক।
নাইমুল আরও বলেন, এখানে আমাদের বিশেষকরে বাংলাদেশিদের কোন মর্যাদা নেই বললেই চলে।
ভুক্তভোগী হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ন্যায় বিচার কোথায়?
উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর মালয়শিয়ায় বিভিন্ন বন্দিশিবিরে আটককৃত বাংলাদেশিদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি বলে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা বার্নামার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলী বলেন, ৪ জানুয়ারি থেকে ৩০ হাজার বিদেশি কর্মীকে আটক করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৬ হাজার বাংলাদেশি।
অবৈধ অভিবাসী আটকের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান মুস্তাফার আলী।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে, প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশে রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই কাজের অবস্থা নিয়মিতকরণের জন্য ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার রিংগিট ব্যয় করেন।
তবে প্রায় ৮০ শতাংশ অভিবাসী এখনো পারমিট না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা ও আতংকে দিন কাটছে বাংলাদেশি অভিবাসীদের।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























