ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

‘চাকরি না পাওয়া’য় খুবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা!

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাকরি না পাওয়ার হতাশায় ডায়েরিতে সুইসাইড নোট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সৈকত রঞ্জন মন্ডল নামের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। তিনি ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজির ছাত্র ছিলেন।

শুক্রবার আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেটের পূর্ব দিকের ইসলামনগর এলাকার একটি মেসের রুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সৈকত সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজান নগর ইউনিয়নের কৃষ্ণ মন্ডলের ছেলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, রাতে সৈকতের পাশের দালানের এক প্রতিবেশী জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে একজনকে ঝুলতে দেখেন। এরপর বিষয়টি জানালে সৈকতের রুমমেট, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সৈকতকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া পায়। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার ডায়েরির লেখা দেখে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। দুই বছর আগে পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করলেও চাকরি না পাওয়ার হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করতে পারেন সৈকত। তার রুমে বিসিএস প্রস্তুতির বিভিন্ন বই পাওয়া গেছে।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায়, সৈকত দুইবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তার টেবিলের ড্রয়ার থেকে পাওয়া প্রেসক্রিপশন থেকে জানা যায়, হতাশা থেকে বাঁচতে ডাক্তারের শরণাপন্নও হয়েছিলেন।

সম্প্রতি সৈকত নিজের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে হতাশার কথা লেখা শুরু করেন। তার রুম থেকে উদ্ধার হওয়া ডায়েরির একটি পাতায় লেখা রয়েছে- ‘অনেক স্বপ্ন ছিল চাকরি করবো, মার মুখে হাসি ফোটাবো। কিন্তু সব এলোমেলো হয়ে গেলো। মার শরীর খুব খারাপ। তবুও আমি খুলনা থেকে পড়ার কথা ভাবছি। বাড়িতে যেতে গেলে সবকিছু নিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া আর কোনো উপায় নেই। না আছে টিউশনি, যার উপর নির্ভর করে খুলনায় চলছিলাম। কোনো চাকরিতেও ভয় পাচ্ছি। আজ এতো কঠিন অবস্থা তৈরি হয়ে গেলো। আমি শুধু বন্ধুদের কে কি করছে সেই দিকে খেয়াল করে চলছি। আমরা এক মেসে চার বন্ধু থাকতাম। এর মধ্যে আমার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছে। অন্য তিনজন চাকরি পেয়েছে। আসলে প্রত্যেকটি কাজ করতে করতে সেটা ছেড়ে দিয়ে BCS এর দিকে যাওয়ায় হঠাৎ চাপ বেড়ে যায়। সে জন্য আমি আরও Abnormal Behaviour প্রদর্শন করছি। প্রজেক্টের কাজে চাপ থাকায় শরীরটা গড়তে পারিনি। সেজন্য অতিরিক্ত চাপ সহ্য হয়নি।’

হরিনটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খান বলেন, সৈকতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘চাকরি না পাওয়া’য় খুবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা!

আপডেট সময় ১২:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাকরি না পাওয়ার হতাশায় ডায়েরিতে সুইসাইড নোট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সৈকত রঞ্জন মন্ডল নামের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। তিনি ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজির ছাত্র ছিলেন।

শুক্রবার আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেটের পূর্ব দিকের ইসলামনগর এলাকার একটি মেসের রুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সৈকত সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজান নগর ইউনিয়নের কৃষ্ণ মন্ডলের ছেলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, রাতে সৈকতের পাশের দালানের এক প্রতিবেশী জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে একজনকে ঝুলতে দেখেন। এরপর বিষয়টি জানালে সৈকতের রুমমেট, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সৈকতকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া পায়। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার ডায়েরির লেখা দেখে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। দুই বছর আগে পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করলেও চাকরি না পাওয়ার হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করতে পারেন সৈকত। তার রুমে বিসিএস প্রস্তুতির বিভিন্ন বই পাওয়া গেছে।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায়, সৈকত দুইবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তার টেবিলের ড্রয়ার থেকে পাওয়া প্রেসক্রিপশন থেকে জানা যায়, হতাশা থেকে বাঁচতে ডাক্তারের শরণাপন্নও হয়েছিলেন।

সম্প্রতি সৈকত নিজের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে হতাশার কথা লেখা শুরু করেন। তার রুম থেকে উদ্ধার হওয়া ডায়েরির একটি পাতায় লেখা রয়েছে- ‘অনেক স্বপ্ন ছিল চাকরি করবো, মার মুখে হাসি ফোটাবো। কিন্তু সব এলোমেলো হয়ে গেলো। মার শরীর খুব খারাপ। তবুও আমি খুলনা থেকে পড়ার কথা ভাবছি। বাড়িতে যেতে গেলে সবকিছু নিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া আর কোনো উপায় নেই। না আছে টিউশনি, যার উপর নির্ভর করে খুলনায় চলছিলাম। কোনো চাকরিতেও ভয় পাচ্ছি। আজ এতো কঠিন অবস্থা তৈরি হয়ে গেলো। আমি শুধু বন্ধুদের কে কি করছে সেই দিকে খেয়াল করে চলছি। আমরা এক মেসে চার বন্ধু থাকতাম। এর মধ্যে আমার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছে। অন্য তিনজন চাকরি পেয়েছে। আসলে প্রত্যেকটি কাজ করতে করতে সেটা ছেড়ে দিয়ে BCS এর দিকে যাওয়ায় হঠাৎ চাপ বেড়ে যায়। সে জন্য আমি আরও Abnormal Behaviour প্রদর্শন করছি। প্রজেক্টের কাজে চাপ থাকায় শরীরটা গড়তে পারিনি। সেজন্য অতিরিক্ত চাপ সহ্য হয়নি।’

হরিনটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খান বলেন, সৈকতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।