ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার রাজীব

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নিজের দেহটাকে যেন কিছুতেই টানতে পারছেন না ১৯ বছর বয়সী রাজীব গাইন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দেহের ভারও বেড়ে গেছে। সেই যে জন্ম থেকে বিরল রোগে আক্রান্ত তিনি!

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের মাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রাজীব। জন্মের সময় থেকেই তাঁর দেহে লক্ষণ দেখা যায়। তিন বছর বয়সে একবার সাতক্ষীরার চিকিৎসককে দেখানো হয়। কিছুদিন পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের কলকাতায়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁকে ১০ বছর বয়সের পর আসতে বলেছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তা আর হয়ে ওঠেনি। রাজীবের মা মমতা গাইন জানালেন, ‘একবার ঢাকায় নিয়েছিলাম। কিন্তু রোগ ধরতে পারেনি ডাক্তার।’

পেট-পিঠজুড়ে টিউমার। রাজীব জানান, ভেতরে নরম, পানির মতো মনে হয়। মাঝে মাঝে দুই-একটা ছোট টিউমার ফেটে গেলে তীব্র যন্ত্রণা হয়। বাম হাত সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে তাঁর। হাতটি উঁচু করলে নিচের দিকে ভারী হয়। আবার নিচু করলেই হাতের শেষ প্রান্ত ভারী হয়ে ওঠে। কোনো ওষুধ খেলে তাঁর মাথা ঘোরে। এ কারণে ওষুধ খাওয়াও বন্ধ রয়েছে।

রাজীবের বাবা কার্তিক গাইন বাড়িতে মাদুর তৈরি করে তা ঢাকায় বিক্রি করেন। এ কাজে সহায়তা করেন রাজীবের মা মমতা গাইন। ভিটেমাটি ছাড়া কোনো জমি নেই তাঁদের। এর মধ্য দিয়েই এ বছর জিপিএ ২.৭৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেছেন রাজীব। আর এসএসসিতে পেয়েছিলেন জিপিএ ৩.০৬। এখন আর লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্যও নেই তাঁর।

মা মমতা গাইন বলেন, ‘ছেলের সুস্থতার জন্য কোনো চিকিৎসা করাতে পারি না। এখন কী করে লেখাপড়া চালাব সেটাই আমাদের ভাববার বিষয়।’ তাঁদের পিতৃপরিবারে, এমনকি মাতুল পরিবারের কারো এ রোগ কখনো দেখা যায়নি বলে জানান মমতা। রাজীব কিছুদিন ধরে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন।

রাজীবকে দেখে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. নাসিরুদ্দিন বলেন, তাঁর HAEMANGIOMA (হেমাংজিওমা) অথবা LYMPHANGIOMA (লিমফাংজিওমা) রোগ হয়েছে। তবে ঢাকায় নিয়ে মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। বাংলাদেশে এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. তাওহিদুর রহমান জানান, ছেলেটি বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হবে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্যসচিব ডা. সিরাজুল ইসলাম তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছেন।

রাজীবের মা-বাবা জানান, সরকারের সহায়তা ছাড়া তাঁদের ছেলের চিকিৎসা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার রাজীব

আপডেট সময় ১১:০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নিজের দেহটাকে যেন কিছুতেই টানতে পারছেন না ১৯ বছর বয়সী রাজীব গাইন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দেহের ভারও বেড়ে গেছে। সেই যে জন্ম থেকে বিরল রোগে আক্রান্ত তিনি!

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের মাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রাজীব। জন্মের সময় থেকেই তাঁর দেহে লক্ষণ দেখা যায়। তিন বছর বয়সে একবার সাতক্ষীরার চিকিৎসককে দেখানো হয়। কিছুদিন পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের কলকাতায়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁকে ১০ বছর বয়সের পর আসতে বলেছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তা আর হয়ে ওঠেনি। রাজীবের মা মমতা গাইন জানালেন, ‘একবার ঢাকায় নিয়েছিলাম। কিন্তু রোগ ধরতে পারেনি ডাক্তার।’

পেট-পিঠজুড়ে টিউমার। রাজীব জানান, ভেতরে নরম, পানির মতো মনে হয়। মাঝে মাঝে দুই-একটা ছোট টিউমার ফেটে গেলে তীব্র যন্ত্রণা হয়। বাম হাত সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে তাঁর। হাতটি উঁচু করলে নিচের দিকে ভারী হয়। আবার নিচু করলেই হাতের শেষ প্রান্ত ভারী হয়ে ওঠে। কোনো ওষুধ খেলে তাঁর মাথা ঘোরে। এ কারণে ওষুধ খাওয়াও বন্ধ রয়েছে।

রাজীবের বাবা কার্তিক গাইন বাড়িতে মাদুর তৈরি করে তা ঢাকায় বিক্রি করেন। এ কাজে সহায়তা করেন রাজীবের মা মমতা গাইন। ভিটেমাটি ছাড়া কোনো জমি নেই তাঁদের। এর মধ্য দিয়েই এ বছর জিপিএ ২.৭৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেছেন রাজীব। আর এসএসসিতে পেয়েছিলেন জিপিএ ৩.০৬। এখন আর লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্যও নেই তাঁর।

মা মমতা গাইন বলেন, ‘ছেলের সুস্থতার জন্য কোনো চিকিৎসা করাতে পারি না। এখন কী করে লেখাপড়া চালাব সেটাই আমাদের ভাববার বিষয়।’ তাঁদের পিতৃপরিবারে, এমনকি মাতুল পরিবারের কারো এ রোগ কখনো দেখা যায়নি বলে জানান মমতা। রাজীব কিছুদিন ধরে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন।

রাজীবকে দেখে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. নাসিরুদ্দিন বলেন, তাঁর HAEMANGIOMA (হেমাংজিওমা) অথবা LYMPHANGIOMA (লিমফাংজিওমা) রোগ হয়েছে। তবে ঢাকায় নিয়ে মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। বাংলাদেশে এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. তাওহিদুর রহমান জানান, ছেলেটি বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হবে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্যসচিব ডা. সিরাজুল ইসলাম তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছেন।

রাজীবের মা-বাবা জানান, সরকারের সহায়তা ছাড়া তাঁদের ছেলের চিকিৎসা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।