ঢাকা ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি

নির্বাচনী মাঠে ঢাকা মহানগর আ’লীগ দুর্বল অবস্থানে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটির মেয়াদ আর মাত্র ছয় মাস বাকি আছে। অপরদিকে আড়াই বছর পার হলেও নানা কারণে ওয়ার্ড ও থানা কমিটি স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া পদপ্রত্যাশী নেতারা হতাশাগ্রস্ত ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ডাকলেও দলীয় কর্মসূচিতে অনেককে পাওয়া যায় না।

এ অবস্থায় জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী মাঠ দখলের রাজনীতিতে বর্তমান কমিটি কতটুকু পেরে উঠবে তা নিয়ে সন্দিহান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের আগে-পরে সহিংস আন্দোলন প্রতিরোধে এ মুহূর্তে প্রভাবশালী সাবেক মহানগর নেতাদের টানার চিন্তাভাবনা করছে দলটি। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগরের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের তিন বছর পর মহানগরকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত করে আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল ৪৫টি থানা, ১০০টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর নানা জটিলতায় দীর্ঘ আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়নি।

মহানগরের ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকাকে দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, সামনে নির্বাচন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলে ভালো হতো। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী প্রতিপক্ষ জোরালো আন্দোলন করলেও আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।

মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, নির্বাচনী মাঠ দখলে অপূর্ণাঙ্গ কমিটি দুর্বল অবস্থানে আছে। এই আনাড়ি কমিটি দিয়ে প্রতিপক্ষের আন্দোলন দমন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, এখন প্রশাসনের সহযোগিতায় রাজপথে নিজেদের অবস্থান চোখে পড়ার মতো হলেও নির্বাচনের আগে বেগ পেতে হবে। তখন মাঠে কর্মীদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, নানা অনিয়মের মাধ্যমে থানা কমিটিতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির লোকদের স্থান দেয়া হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে নেত্রী (শেখ হাসিনা) কমিটি স্থগিত করেছেন। খোলস পাল্টানো এই নেতাদের নিয়ে মাঠে নামলে পালাতে হবে। আন্দোলনের মাঠ দখলে রাখতে পুরনো ও ত্যাগী নেতাদের স্থান দিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের একাধিক নেতা জানান, অন্য দলের নেতাদের নিয়ে থানা ও ওয়ার্ড কমিটি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বঞ্চিত নেতারা দলীয় সভাপতির কাছে অভিযোগ করেন। নানা অনিয়ম তারা তুলে ধরেন। এ কারণে উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত ওয়ার্ড ও থানা কমিটি স্থগিত করা হয়। এরপর অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও তা সংশোধন করতে পারেননি মহানগর নেতারা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তালিকা সংশোধন করে পাঠানোর তাগিদ দিলেও তা করা হয়নি।

বুধবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আবুল হাসনাত যুগান্তরকে বলেন, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের কমিটি কী পর্যায়ে আছে তা জানি না। তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। আলোচনা করে মাঠের রাজনীতিতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে হবে। নির্বাচনের আগেই কমিটি ঘোষণা করে মাঠ চাঙ্গা রাখতে হবে। এ নিয়ে শিগগির আলোচনায় বসা হবে। তিনি বলেন, কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হলেও নেতাকর্মীরা সক্রিয় আছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ বলেন, আমরা কমিটি করে কেন্দ্রে জমা দিয়েছি। এখন ঘোষণা বাকি। এ ছাড়া কমিটির নেতাদের কাজ করতে তো সমস্যা হচ্ছে না। নেতাকর্মীরা সক্রিয় আছে ও নির্বাচনের আগে-পরেও সক্রিয় থাকবে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ গোছানোর তালিকায় ঢাকা মহানগরকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ওয়ার্ড ও থানা কমিটি না থাকায় দলের পক্ষ থেকে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তারা বলেন, ঢাকার নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখতে নানা কৌশল নেয়া হচ্ছে। নতুনদের পাশাপাশি পুরনোদের সমন্বয় করার চিন্তাও চলছে। সে ক্ষেত্রে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচন ও নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে সফল মহানগরের সাবেক নেতাদের তালিকা করা হচ্ছে। এই নেতারা বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে থাকলেও ঢাকা মহানগরের রাজনীতিতে তাদের সক্রিয় করা হতে পারে।

এই তালিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অভিন্ন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, হাজী সেলিম ও তাদের নিষ্ক্রিয় অনুসারীদের রাখা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: ওসি জাহাঙ্গীর প্রত্যাহার, রদবদল পুলিশে

নির্বাচনী মাঠে ঢাকা মহানগর আ’লীগ দুর্বল অবস্থানে

আপডেট সময় ০১:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটির মেয়াদ আর মাত্র ছয় মাস বাকি আছে। অপরদিকে আড়াই বছর পার হলেও নানা কারণে ওয়ার্ড ও থানা কমিটি স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া পদপ্রত্যাশী নেতারা হতাশাগ্রস্ত ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ডাকলেও দলীয় কর্মসূচিতে অনেককে পাওয়া যায় না।

এ অবস্থায় জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী মাঠ দখলের রাজনীতিতে বর্তমান কমিটি কতটুকু পেরে উঠবে তা নিয়ে সন্দিহান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের আগে-পরে সহিংস আন্দোলন প্রতিরোধে এ মুহূর্তে প্রভাবশালী সাবেক মহানগর নেতাদের টানার চিন্তাভাবনা করছে দলটি। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগরের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের তিন বছর পর মহানগরকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত করে আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল ৪৫টি থানা, ১০০টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর নানা জটিলতায় দীর্ঘ আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়নি।

মহানগরের ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকাকে দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, সামনে নির্বাচন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলে ভালো হতো। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী প্রতিপক্ষ জোরালো আন্দোলন করলেও আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।

মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, নির্বাচনী মাঠ দখলে অপূর্ণাঙ্গ কমিটি দুর্বল অবস্থানে আছে। এই আনাড়ি কমিটি দিয়ে প্রতিপক্ষের আন্দোলন দমন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, এখন প্রশাসনের সহযোগিতায় রাজপথে নিজেদের অবস্থান চোখে পড়ার মতো হলেও নির্বাচনের আগে বেগ পেতে হবে। তখন মাঠে কর্মীদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, নানা অনিয়মের মাধ্যমে থানা কমিটিতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির লোকদের স্থান দেয়া হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে নেত্রী (শেখ হাসিনা) কমিটি স্থগিত করেছেন। খোলস পাল্টানো এই নেতাদের নিয়ে মাঠে নামলে পালাতে হবে। আন্দোলনের মাঠ দখলে রাখতে পুরনো ও ত্যাগী নেতাদের স্থান দিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের একাধিক নেতা জানান, অন্য দলের নেতাদের নিয়ে থানা ও ওয়ার্ড কমিটি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বঞ্চিত নেতারা দলীয় সভাপতির কাছে অভিযোগ করেন। নানা অনিয়ম তারা তুলে ধরেন। এ কারণে উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত ওয়ার্ড ও থানা কমিটি স্থগিত করা হয়। এরপর অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও তা সংশোধন করতে পারেননি মহানগর নেতারা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তালিকা সংশোধন করে পাঠানোর তাগিদ দিলেও তা করা হয়নি।

বুধবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আবুল হাসনাত যুগান্তরকে বলেন, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের কমিটি কী পর্যায়ে আছে তা জানি না। তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। আলোচনা করে মাঠের রাজনীতিতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে হবে। নির্বাচনের আগেই কমিটি ঘোষণা করে মাঠ চাঙ্গা রাখতে হবে। এ নিয়ে শিগগির আলোচনায় বসা হবে। তিনি বলেন, কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হলেও নেতাকর্মীরা সক্রিয় আছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ বলেন, আমরা কমিটি করে কেন্দ্রে জমা দিয়েছি। এখন ঘোষণা বাকি। এ ছাড়া কমিটির নেতাদের কাজ করতে তো সমস্যা হচ্ছে না। নেতাকর্মীরা সক্রিয় আছে ও নির্বাচনের আগে-পরেও সক্রিয় থাকবে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ গোছানোর তালিকায় ঢাকা মহানগরকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ওয়ার্ড ও থানা কমিটি না থাকায় দলের পক্ষ থেকে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তারা বলেন, ঢাকার নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখতে নানা কৌশল নেয়া হচ্ছে। নতুনদের পাশাপাশি পুরনোদের সমন্বয় করার চিন্তাও চলছে। সে ক্ষেত্রে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচন ও নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে সফল মহানগরের সাবেক নেতাদের তালিকা করা হচ্ছে। এই নেতারা বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে থাকলেও ঢাকা মহানগরের রাজনীতিতে তাদের সক্রিয় করা হতে পারে।

এই তালিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অভিন্ন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, হাজী সেলিম ও তাদের নিষ্ক্রিয় অনুসারীদের রাখা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।