ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিদ্দিকুরকে একটি চোখ দিতে চান জাহাঙ্গীর কবীর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কলেজ ছাত্র জাহাঙ্গীর কবীর পুলিশের টিয়ারশেলে চোখ হারানো সিদ্দিকুরকে একটি চোখ দিতে চান। রাজধানীর মোহাম্মদপুর আলহাজ্ব মকবুল হোসেন কলেজের বিএসএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাহাঙ্গীর কবীর।

জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, সিদ্দিকুরের অবস্থানে নিজেকে চিন্তা করলে দিশেহারা হয়ে যাই। যদি অন্ধই হয়ে যায় সে, তাহলে কিভাবে কাটবে বাকি জীবন! এছাড়া মানুষ মানুষের জন্য এই কথা শুধু লোকমুখে শুনে এসেছি। এখন কাউকে দামি কথাটার বাস্তবায়ন করতে দেখা যায় না। একজন মানুষ কয়েকদিন আগেও সুন্দর এই পৃথিবী দেখতেন। মায়ের মুখ দেখতেন। তার বাকি জীবন কাটবে অন্ধকার দেখে। তা হতে পারে না। আমার দুইটা চোখ সুস্থ। সেখান থেকে একটা সিদ্দিকুরকে দিয়ে দিতে চাই।

‘পৃথিবীর সব কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই দেব। আমার পরিবারকে যখন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছি তারা অবাক হয়েছে। যখন বুঝিয়েছি, মানতে কষ্ট হলেও তারা অমত করেনি’, বলছিলেন জাহাঙ্গীর কবীর।

একটা চোখ দিলে তার নিজের জন্যও পৃথিবীটা কঠিন হয়ে যাবে সেটা জানেন জাহাঙ্গীর কবীর। তারপরও দিতে চান চোখ। নিয়েছেন নিজ পরিবারের সম্মতি। জাহাঙ্গীর কবীর একদিন তিনঘণ্টা একচোখ বন্ধ করে কাজ করেছেন। কষ্ট হলেও একচোখে কাজ করা অসম্ভব না। এছাড়া জাহাঙ্গীর কবীর একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউটের ডাক্তার জাহিদ আহসান বলেন, জাহাঙ্গীর কবীরসহ অনেকেই সিদ্দিকুরকে চোখ দিতে চাইছেন। এটা খুবই ভালো দিক। তবে সিদ্দিকুরের চোখের যে অবস্থা তাতে প্রতিস্থাপনের সুযোগ নেই। তার চোখসহ চোখের ভেতরের নার্ভও ড্যামেজ হয়ে গেছে। শুধু মাত্র কর্নিয়া সমস্যা হলে সেটা পালটানো যেত। কিন্তু টোটাল আইবল চেঞ্জ করার মতো কোনো পদ্ধতি চক্ষু বিজ্ঞানে এখনো প্রচলন হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিদ্দিকুরকে একটি চোখ দিতে চান জাহাঙ্গীর কবীর

আপডেট সময় ০৬:২৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কলেজ ছাত্র জাহাঙ্গীর কবীর পুলিশের টিয়ারশেলে চোখ হারানো সিদ্দিকুরকে একটি চোখ দিতে চান। রাজধানীর মোহাম্মদপুর আলহাজ্ব মকবুল হোসেন কলেজের বিএসএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাহাঙ্গীর কবীর।

জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, সিদ্দিকুরের অবস্থানে নিজেকে চিন্তা করলে দিশেহারা হয়ে যাই। যদি অন্ধই হয়ে যায় সে, তাহলে কিভাবে কাটবে বাকি জীবন! এছাড়া মানুষ মানুষের জন্য এই কথা শুধু লোকমুখে শুনে এসেছি। এখন কাউকে দামি কথাটার বাস্তবায়ন করতে দেখা যায় না। একজন মানুষ কয়েকদিন আগেও সুন্দর এই পৃথিবী দেখতেন। মায়ের মুখ দেখতেন। তার বাকি জীবন কাটবে অন্ধকার দেখে। তা হতে পারে না। আমার দুইটা চোখ সুস্থ। সেখান থেকে একটা সিদ্দিকুরকে দিয়ে দিতে চাই।

‘পৃথিবীর সব কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই দেব। আমার পরিবারকে যখন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছি তারা অবাক হয়েছে। যখন বুঝিয়েছি, মানতে কষ্ট হলেও তারা অমত করেনি’, বলছিলেন জাহাঙ্গীর কবীর।

একটা চোখ দিলে তার নিজের জন্যও পৃথিবীটা কঠিন হয়ে যাবে সেটা জানেন জাহাঙ্গীর কবীর। তারপরও দিতে চান চোখ। নিয়েছেন নিজ পরিবারের সম্মতি। জাহাঙ্গীর কবীর একদিন তিনঘণ্টা একচোখ বন্ধ করে কাজ করেছেন। কষ্ট হলেও একচোখে কাজ করা অসম্ভব না। এছাড়া জাহাঙ্গীর কবীর একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউটের ডাক্তার জাহিদ আহসান বলেন, জাহাঙ্গীর কবীরসহ অনেকেই সিদ্দিকুরকে চোখ দিতে চাইছেন। এটা খুবই ভালো দিক। তবে সিদ্দিকুরের চোখের যে অবস্থা তাতে প্রতিস্থাপনের সুযোগ নেই। তার চোখসহ চোখের ভেতরের নার্ভও ড্যামেজ হয়ে গেছে। শুধু মাত্র কর্নিয়া সমস্যা হলে সেটা পালটানো যেত। কিন্তু টোটাল আইবল চেঞ্জ করার মতো কোনো পদ্ধতি চক্ষু বিজ্ঞানে এখনো প্রচলন হয়নি।