ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নওগাঁয় বিএনপির প্রচারণা চালিয়ে চাকরি হারালেন মুয়াজ্জিন বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী নিহত বাকহীন বাকশক্তি পেয়ে জুলাই যোদ্ধাদের ভুলে গেছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল

শেখ হাসিনার কি আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে: রিজভীর প্রশ্ন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে বলে তথ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোথায় পেয়েছেন, সেটি জানতে চেয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। সরকার প্রধানের আধ্যাত্মিক শক্তি আছে কি না, সেই প্রশ্নও রেখেছেন তিনি।

শুক্রবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। এ সময় তিনি আগের রাতে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান।

ওই সভায় শেখ হাসিনা দলীয় সংসদ সদস্যদের বলেন, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। সেভাবেই যেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রস্তুতি নেন।

প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী বলেন, ‘আপনি কোন আধ্যাত্মিক ক্ষমতার জোরে জানতে পারলেন যে, আপনার অধীনেই বিএনপি নির্বাচনে আসবে? আপনি তো অবাধ ও সুষ্ঠূ নির্বাচনকে লোহার সিন্দুকে আটকিয়ে রেখেছেন। আর অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনকে তো আপনি পুলিশের রাইফেলের নলের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।’

‘সুতরাং আপনার অধীনে জাতীয় নির্বাচন আর নেকড়ের অধীনে নিরীহ প্রাণীর নিরাপত্তা সমান কথা। বর্তমানে দেশে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই।’
নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা এখনও দেয়নি দলটি। তবে নিবন্ধন আইনের খড়্গ মাথায় নিয়ে এবার ভোট বর্জন সহজ হবে না তাদের জন্য। কারণ, এই আইন অনুযায়ী পরপর দুইবার ভোট বর্জনকারী দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মনে হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে খুলনা-গাজীপুর মার্কা নির্বাচনকে বুঝিয়েছেন। যে নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল করে জাল ভোটের মহৌৎসব চলে, কেন্দ্রে শুধু আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডাররা থাকে, অন্য কোনো দলের এজেন্টকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করে বা তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বা পিটিয়ে রক্তাক্ত করে বের করে দেওয়া হয়, নিজেদের দলীয় ক্যাডাররা লাইন ধরে নৌকায় সিল মারে এরকম নির্বাচনকে তিনি বুঝিয়েছেন নিশ্চয়।’

শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি বা হবেও না-এমন দাবি করে রিজভী বলেন, ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে।’

কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়াও ভোটে না যাওয়ার ঘোষণা দেন বিনেপি নেতা। বলেন, খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছে যেন খালেদা জিয়াবিহীন আরেকটি জালভোটের নির্বাচন করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা যায়।’

‘প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যেও সেরকম ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। কিন্তু পাতানো নির্বাচনের ষড়যন্ত্র কোনো কাজে আসবে না।’

শেখ হাসিনার সব ‘ষড়যন্ত্রে’ ফাটল ধরতে শুরু করেছে বলেও মনে করেন রিজভী। বলেন, ‘নীলনকশার নির্বাচনের ছক জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। আবারও একটি একতরফা ভোট ডাকাতির নির্বাচন এদেশের মানুষ হতে দেবে না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটকে রাখা যাবে না।’

চারদিকে শেখ হাসিনার সরকারবিরোধী আওয়াজ শুরু হয়েছে দাবি করে রিজভী বর্তমান সরকারের বিদায় অত্যাসন্ন বলেও ভবিষ্যতবাণী করেন। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করারও আহ্বান জানান বিএনপি নেতা। সেই সঙ্গে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শিক্ষার ‘সুষ্ঠু পরিবেশ’ ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন রিজভী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় বিএনপির প্রচারণা চালিয়ে চাকরি হারালেন মুয়াজ্জিন

শেখ হাসিনার কি আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে: রিজভীর প্রশ্ন

আপডেট সময় ০৫:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুলাই ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে বলে তথ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোথায় পেয়েছেন, সেটি জানতে চেয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। সরকার প্রধানের আধ্যাত্মিক শক্তি আছে কি না, সেই প্রশ্নও রেখেছেন তিনি।

শুক্রবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। এ সময় তিনি আগের রাতে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান।

ওই সভায় শেখ হাসিনা দলীয় সংসদ সদস্যদের বলেন, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। সেভাবেই যেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রস্তুতি নেন।

প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী বলেন, ‘আপনি কোন আধ্যাত্মিক ক্ষমতার জোরে জানতে পারলেন যে, আপনার অধীনেই বিএনপি নির্বাচনে আসবে? আপনি তো অবাধ ও সুষ্ঠূ নির্বাচনকে লোহার সিন্দুকে আটকিয়ে রেখেছেন। আর অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনকে তো আপনি পুলিশের রাইফেলের নলের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।’

‘সুতরাং আপনার অধীনে জাতীয় নির্বাচন আর নেকড়ের অধীনে নিরীহ প্রাণীর নিরাপত্তা সমান কথা। বর্তমানে দেশে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই।’
নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা এখনও দেয়নি দলটি। তবে নিবন্ধন আইনের খড়্গ মাথায় নিয়ে এবার ভোট বর্জন সহজ হবে না তাদের জন্য। কারণ, এই আইন অনুযায়ী পরপর দুইবার ভোট বর্জনকারী দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মনে হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে খুলনা-গাজীপুর মার্কা নির্বাচনকে বুঝিয়েছেন। যে নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল করে জাল ভোটের মহৌৎসব চলে, কেন্দ্রে শুধু আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডাররা থাকে, অন্য কোনো দলের এজেন্টকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করে বা তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বা পিটিয়ে রক্তাক্ত করে বের করে দেওয়া হয়, নিজেদের দলীয় ক্যাডাররা লাইন ধরে নৌকায় সিল মারে এরকম নির্বাচনকে তিনি বুঝিয়েছেন নিশ্চয়।’

শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি বা হবেও না-এমন দাবি করে রিজভী বলেন, ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে।’

কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়াও ভোটে না যাওয়ার ঘোষণা দেন বিনেপি নেতা। বলেন, খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছে যেন খালেদা জিয়াবিহীন আরেকটি জালভোটের নির্বাচন করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা যায়।’

‘প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যেও সেরকম ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। কিন্তু পাতানো নির্বাচনের ষড়যন্ত্র কোনো কাজে আসবে না।’

শেখ হাসিনার সব ‘ষড়যন্ত্রে’ ফাটল ধরতে শুরু করেছে বলেও মনে করেন রিজভী। বলেন, ‘নীলনকশার নির্বাচনের ছক জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। আবারও একটি একতরফা ভোট ডাকাতির নির্বাচন এদেশের মানুষ হতে দেবে না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটকে রাখা যাবে না।’

চারদিকে শেখ হাসিনার সরকারবিরোধী আওয়াজ শুরু হয়েছে দাবি করে রিজভী বর্তমান সরকারের বিদায় অত্যাসন্ন বলেও ভবিষ্যতবাণী করেন। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করারও আহ্বান জানান বিএনপি নেতা। সেই সঙ্গে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শিক্ষার ‘সুষ্ঠু পরিবেশ’ ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন রিজভী।