ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

নওগাঁয় বিএনপির প্রচারণা চালিয়ে চাকরি হারালেন মুয়াজ্জিন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোয় মসজিদের মুয়াজ্জিনকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর সাপাহার উপজেলায়। সোমবার মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে অব্যহতি পেয়েই বিষয়টি সামনে আনেন মুয়াজ্জিন আল আমিন চৌধুরী। তিনি ফেসবুক পোস্ট দিতেই আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

সাপাহার উপজেলা সদরের তালপুকুর মাস্টারপাড়া জামে মসজিদে আল আমিন গত চার বছর ধরে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের চাপে তিনি চাকরি হারিয়েছেন। বিষয়টি ভাইরাল হয়ে গেলে অবশ্য উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়।

চাকরি হারানো আল আমিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় ধরে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় এবং ছাত্রদলের রাজনীতি করার জন্য বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় মসজিদ কমিটি আমাকে বারবার রাজনীতি ছাড়তে চাপ দিচ্ছিল। বিশেষ করে এলাকার জামায়াতের কিছু নেতা-কর্মী আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য মসজিদ কমিটির লোকদের চাপ দিচ্ছিল।’

আল আমিন আরও বলেন, ‘রাজনীতি করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা খোঁজা হচ্ছিল। এর সাথে যোগ হয় মসজিদের সামনে থেকে দোকান উচ্ছেদে আমার প্রতিবাদ করা। গতকাল রাতে মসজিদের সামনের একটি মুদিদোকান উচ্ছেদ করে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মুদিদোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে সামান্য সময় দেওয়ার অনুরোধ করি। এতে মসজিদের কমিটির সভাপতি এলাহী বক্সসহ অন্যরা আমার ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত হন। পরে তাঁরা আমাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেন। রাজনীতির কারণেই মূলত আমাকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে।’

মসজিদ কমিটির সভাপতি এলাহী বক্স এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানান, ‘মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন হয়ে রাজনীতি করা কেউ পছন্দ করবেন না। নির্দিষ্ট দলের পক্ষে তাঁর বিশেষ পক্ষপাতিত্ব অনেকেই পছন্দ করতেন না। এ ছাড়া আমাদের মসজিদের সামনে একটি দোকান বসতে দেওয়া হয়েছিল। রকি নামের একটি ছেলে সেখানে মুদিদোকান করতেন। মসজিদের কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই দোকানদার বিষয়টি জানানো হয়। জানানোর পরও দোকান সরিয়ে না নেওয়ায় গতকাল দোকানটি উচ্ছেদ করা হয়। এলাকার লোকজন সবাই মিলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে আল আমিন ওই দোকানদারের পক্ষে অবস্থান নেন। যে কারণে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দিতে হয়েছে।’

এ ঘটনায় জামায়াতের দিকেও অভিযোগের তির ছুটে গেছে। উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জামায়াত অবশ্য বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে। সেখানে বলা হয়, ‘সাপাহার উপজেলা সদরের একটি মসজিদ থেকে আল আমিন নামের একজনকে মুয়াজ্জিনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল আমিন তাঁর ফেসবুক আইডিতে যে বক্তব্য দিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওই ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মী বা সংগঠনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নওগাঁয় বিএনপির প্রচারণা চালিয়ে চাকরি হারালেন মুয়াজ্জিন

আপডেট সময় ১১:১৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোয় মসজিদের মুয়াজ্জিনকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর সাপাহার উপজেলায়। সোমবার মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে অব্যহতি পেয়েই বিষয়টি সামনে আনেন মুয়াজ্জিন আল আমিন চৌধুরী। তিনি ফেসবুক পোস্ট দিতেই আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

সাপাহার উপজেলা সদরের তালপুকুর মাস্টারপাড়া জামে মসজিদে আল আমিন গত চার বছর ধরে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের চাপে তিনি চাকরি হারিয়েছেন। বিষয়টি ভাইরাল হয়ে গেলে অবশ্য উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়।

চাকরি হারানো আল আমিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় ধরে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় এবং ছাত্রদলের রাজনীতি করার জন্য বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় মসজিদ কমিটি আমাকে বারবার রাজনীতি ছাড়তে চাপ দিচ্ছিল। বিশেষ করে এলাকার জামায়াতের কিছু নেতা-কর্মী আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য মসজিদ কমিটির লোকদের চাপ দিচ্ছিল।’

আল আমিন আরও বলেন, ‘রাজনীতি করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা খোঁজা হচ্ছিল। এর সাথে যোগ হয় মসজিদের সামনে থেকে দোকান উচ্ছেদে আমার প্রতিবাদ করা। গতকাল রাতে মসজিদের সামনের একটি মুদিদোকান উচ্ছেদ করে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মুদিদোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে সামান্য সময় দেওয়ার অনুরোধ করি। এতে মসজিদের কমিটির সভাপতি এলাহী বক্সসহ অন্যরা আমার ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত হন। পরে তাঁরা আমাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেন। রাজনীতির কারণেই মূলত আমাকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে।’

মসজিদ কমিটির সভাপতি এলাহী বক্স এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানান, ‘মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন হয়ে রাজনীতি করা কেউ পছন্দ করবেন না। নির্দিষ্ট দলের পক্ষে তাঁর বিশেষ পক্ষপাতিত্ব অনেকেই পছন্দ করতেন না। এ ছাড়া আমাদের মসজিদের সামনে একটি দোকান বসতে দেওয়া হয়েছিল। রকি নামের একটি ছেলে সেখানে মুদিদোকান করতেন। মসজিদের কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই দোকানদার বিষয়টি জানানো হয়। জানানোর পরও দোকান সরিয়ে না নেওয়ায় গতকাল দোকানটি উচ্ছেদ করা হয়। এলাকার লোকজন সবাই মিলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে আল আমিন ওই দোকানদারের পক্ষে অবস্থান নেন। যে কারণে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দিতে হয়েছে।’

এ ঘটনায় জামায়াতের দিকেও অভিযোগের তির ছুটে গেছে। উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জামায়াত অবশ্য বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে। সেখানে বলা হয়, ‘সাপাহার উপজেলা সদরের একটি মসজিদ থেকে আল আমিন নামের একজনকে মুয়াজ্জিনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল আমিন তাঁর ফেসবুক আইডিতে যে বক্তব্য দিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওই ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মী বা সংগঠনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।’