ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের কথা বলা জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি: সালাহউদ্দিন প্লেব্যাক থেকে বিদায় নিলেন অরিজিৎ, জানালেন একাধিক কারণ কোন উস্কানিমূলক কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডে পা দিবে না বিএনপির: মির্জা আব্বাস জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে: প্রধান উপদেষ্টা গতকালের ঘটনার পরে অসহিষ্ণুতা দেখতে পাচ্ছি: নাহিদ ইসলাম কাজ দেওয়ার নামে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনও পক্ষ নেবে না : মার্কিন রাষ্ট্রদূত দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে হামলার শিকার কংগ্রেস সদস্য ইলহান শ্রমিক নেতা বাসু হত্যা: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

বার্নিকাট যেন বিএনপির মুখপাত্র: জয়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাটকে এক হাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তার কাছে মনে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূত বিএনপির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছেন।

সোমবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই মন্তব্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী পুত্র। বার্নিকাটের বক্তব্যকে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর সামিল হিসেবেও দেখছেন তিনি।

গত ১৫ মে এবং ২৬ জুন খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট হয়। এর মধ্যে খুলনায় প্রায় ৬৮ হাজার এবং গাজীপুরে দুই লাখ ভোটে হেরেছে বিএনপি। কিন্তু দলটির অভিযোগ, কেন্দ্র দখল করে সিল মেরে তাদের প্রার্থীকে হারানো হয়েছে।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, যেসব কেন্দ্রে গোলযোগ হয়েছে, সেগুলোতে তারা ব্যবস্থা নিয়েছে। খুলনায় তিনটি এবং গাজীপুরে নয়টি কেন্দ্রে সিল মারার পর সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। বাকি কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছ ভোট হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

এর মধ্যে ২৮ জুন এক প্রতিক্রিয়ায় বার্নিকাট বলেন, ‘আমরা যখন খুলনা আর গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে প্রশংসা করছি, তখন জাল ভোটে ব্যালট বাক্স ভরার মত অনিয়ম এবং ভোটের আগে ও ভোটের দিন প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের হয়রানির খবর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে।’

‘পাশাপাশি বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পোলিং এজেন্টদের গ্রেপ্তার ও পুলিশি হয়রানির খবর নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত যে কথা বলেছেন, সেগুলো বিএনপি নেতাদের অভিযোগেরই প্রতিধ্বনী। আর এর প্রতিক্রিয়ায় একজন নির্বাচন কমিশনার গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ধরে বলেছেন, তার দেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় কি না। বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বার্নিকাটের মন্তব্য অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাগ গলানোর মতো।

জয় তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস অনেকটা বিএনপি’র মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি গাজীপুরে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপি’র মন্তব্যগুলোই তারা পুনরাবৃত্তি করছে এবং অনিয়মের কথা বলছে অথচ নির্বাচনে বিএনপি’র সহিংসতা চালানোর চেষ্টা নিয়ে কিছুই বলছে না।’

গাজীপুর নির্বাচনের অনিয়মের বিষয়ে জয় লেখেন, ‘নির্বাচনে ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯টি অর্থাৎ ২.১ শতাংশ কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছিল। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর ভোটগ্রহণ বাতিল ঘোষণা করে।’

‘আমাদের নতুন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বিএনপির প্রার্থী হাসান থেকে ২ লক্ষের বেশি ভোট, অর্থাৎ দ্বিগুণ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। সকল নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা একমত যে অনিয়মের অভিযোগ যা এসেছে তা কোনোভাবেই নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলতে পারেনি।’

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজানুর রহমানে কথিত ফোনালাপের অডিও প্রকাশের বিষয়টি নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান জয়। লেখেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমানের ফোনালাপ থেকে আমরা জানতে পারি যে তার দল সহিংসতা তৈরি করার মাধ্যমে নির্বাচনটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করেছিল।’

বিএনপি নেতার এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কথাও তুলে ধরেন জয়। লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো। তাই বক্তব্যটি বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেরই বলে ধরে নেয়া যায়। বুঝাই যা যাচ্ছে দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের বিএনপির বন্ধুদের সাথে খুব বেশি সময় কাটাচ্ছেন আজকাল।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের কথা বলা জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি: সালাহউদ্দিন

বার্নিকাট যেন বিএনপির মুখপাত্র: জয়

আপডেট সময় ১১:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুলাই ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাটকে এক হাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তার কাছে মনে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূত বিএনপির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছেন।

সোমবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই মন্তব্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী পুত্র। বার্নিকাটের বক্তব্যকে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর সামিল হিসেবেও দেখছেন তিনি।

গত ১৫ মে এবং ২৬ জুন খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট হয়। এর মধ্যে খুলনায় প্রায় ৬৮ হাজার এবং গাজীপুরে দুই লাখ ভোটে হেরেছে বিএনপি। কিন্তু দলটির অভিযোগ, কেন্দ্র দখল করে সিল মেরে তাদের প্রার্থীকে হারানো হয়েছে।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, যেসব কেন্দ্রে গোলযোগ হয়েছে, সেগুলোতে তারা ব্যবস্থা নিয়েছে। খুলনায় তিনটি এবং গাজীপুরে নয়টি কেন্দ্রে সিল মারার পর সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। বাকি কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছ ভোট হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

এর মধ্যে ২৮ জুন এক প্রতিক্রিয়ায় বার্নিকাট বলেন, ‘আমরা যখন খুলনা আর গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে প্রশংসা করছি, তখন জাল ভোটে ব্যালট বাক্স ভরার মত অনিয়ম এবং ভোটের আগে ও ভোটের দিন প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের হয়রানির খবর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে।’

‘পাশাপাশি বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পোলিং এজেন্টদের গ্রেপ্তার ও পুলিশি হয়রানির খবর নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত যে কথা বলেছেন, সেগুলো বিএনপি নেতাদের অভিযোগেরই প্রতিধ্বনী। আর এর প্রতিক্রিয়ায় একজন নির্বাচন কমিশনার গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ধরে বলেছেন, তার দেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় কি না। বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বার্নিকাটের মন্তব্য অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাগ গলানোর মতো।

জয় তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস অনেকটা বিএনপি’র মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি গাজীপুরে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপি’র মন্তব্যগুলোই তারা পুনরাবৃত্তি করছে এবং অনিয়মের কথা বলছে অথচ নির্বাচনে বিএনপি’র সহিংসতা চালানোর চেষ্টা নিয়ে কিছুই বলছে না।’

গাজীপুর নির্বাচনের অনিয়মের বিষয়ে জয় লেখেন, ‘নির্বাচনে ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯টি অর্থাৎ ২.১ শতাংশ কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছিল। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর ভোটগ্রহণ বাতিল ঘোষণা করে।’

‘আমাদের নতুন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বিএনপির প্রার্থী হাসান থেকে ২ লক্ষের বেশি ভোট, অর্থাৎ দ্বিগুণ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। সকল নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা একমত যে অনিয়মের অভিযোগ যা এসেছে তা কোনোভাবেই নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলতে পারেনি।’

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজানুর রহমানে কথিত ফোনালাপের অডিও প্রকাশের বিষয়টি নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান জয়। লেখেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমানের ফোনালাপ থেকে আমরা জানতে পারি যে তার দল সহিংসতা তৈরি করার মাধ্যমে নির্বাচনটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করেছিল।’

বিএনপি নেতার এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কথাও তুলে ধরেন জয়। লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো। তাই বক্তব্যটি বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেরই বলে ধরে নেয়া যায়। বুঝাই যা যাচ্ছে দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের বিএনপির বন্ধুদের সাথে খুব বেশি সময় কাটাচ্ছেন আজকাল।’