ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

৯ কোটি শিশুর বাবা একদিনও বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ছুটি পান না: ইউনিসেফ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বে এক বছরের কম বয়সীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ৯ কোটি শিশু এমন দেশে বসবাস করে, যেখানে তাদের বাবারা আইন অনুযায়ী একদিনের জন্যও বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ছুটি পান না। ইউনিসেফের নতুন গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে খবরটি দিয়েছে ইউনিসেফ।

নতুন এই গবেষণা হলো বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে ইউনিসেফের ‘সুপার ড্যাডস’ প্রচারাভিযানের অংশ। এর লক্ষ্য শিশুদের বিকাশে তাদের বাবাদের সক্রিয় ভূমিকা পালনে বাধা দেয় এমন সব প্রতিবন্ধকতা দূর করা। শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকর বিকাশে ভালোবাসা, খেলাধুলা, সুরক্ষা ও ভালো পুষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করছে এই প্রচারণা।

বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ও মাতৃত্বকালীন ছুটি, বিনামূল্যে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং বেতনসহ স্তন্যদানের বিরতিসহ শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশে সহায়তা করে এমন পরিবারবান্ধব নীতিমালার পেছনে বিনিয়োগের আহ্বানও জানিয়েছে ইউনিসেফ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত ও নাইজেরিয়াসহ ৯২ দেশে মোট জনসংখ্যার মধ্যে নবজাতকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব দেশে এমন কোনও জাতীয় নীতিমালা নেই যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়, নতুন বাবারা তাদের নবজাতক সন্তানদের সঙ্গে বেতনসহ পর্যাপ্ত ছুটি কাটাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের আটটি দেশে, যেখানে নবজাতকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ, সেসব দেশে বেতনসহ কোনও মাতৃত্ব বা পিতৃত্বকালীন ছুটির বিধান নেই।

অন্যদিকে ব্রাজিল ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোসহ অন্য দেশগুলোতে মোট জনসংখ্যার মধ্যে নবজাতকের সংখ্যা বেশি হলেও এসব দেশে বেতনসহ জাতীয় পিতৃত্বকালীন নীতিমালা রয়েছে। যদিও এই ছুটির সময়সীমা তুলনামূলকভাবে বেশ কম।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েত্তা এইচ ফোর বলেন, “একেবারে শুরু থেকেই মা ও বাবার সঙ্গে ইতিবাচক ও অর্থপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও জীবন গড়তে সহায়তা করে, তাদের স্বাস্থ্যকর ও সুখী করে এবং শেখার সক্ষমতা বাড়ায়। এই ভূমিকা পালনে তাদের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা ‘সব শিশুর জন্য’ হতে পারবো না, যদি আমরা ‘সব বাবা-মার জন্য’ না হই। বাবাদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে শিশুদের মিথস্ক্রিয়া হলে দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মসম্মান ও জীবন-সন্তুষ্টি অনেক ভালো হয়।”

এ বছরের শুরুতে ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী নিজেদের সব কার্যালয়ে ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ছুটির বিধান রেখে মা-বাবার ছুটি সংক্রান্ত বিধিমালার আধুনিকায়ন করেছে। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে ইউনিসেফই প্রথম এ ধরনের ছুটি নির্ধারিত চার সপ্তাহ থেকে বাড়িয়েছে।

এদিকে বিশ্বব্যাপী পরিবারবান্ধব নীতিমালার পক্ষে জনমত বাড়ছে। ভারতে পার্লামেন্টের পরবর্তী অধিবেশনে বিবেচনার জন্য পিতৃত্বকালীন সুবিধা বিলের প্রস্তাব করছেন কর্মকর্তারা। ফলে দেশটিতে বাবাদের তিন মাস পর্যন্ত বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ছুটি কাটানোর সুযোগ থাকছে।

‘অ্যাডভান্সড আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট: ফ্রম সায়েন্স টু স্কেল’ শিরোনামে ২০১৬ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া ল্যানসেট সিরিজের তথ্য অনুযায়ী, খর্বাকৃতি ও অতিদারিদ্র্যের কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২৫ কোটি শিশু দুর্বল বিকাশের ঝুঁকিতে ছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

৯ কোটি শিশুর বাবা একদিনও বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ছুটি পান না: ইউনিসেফ

আপডেট সময় ০৯:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বে এক বছরের কম বয়সীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ৯ কোটি শিশু এমন দেশে বসবাস করে, যেখানে তাদের বাবারা আইন অনুযায়ী একদিনের জন্যও বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ছুটি পান না। ইউনিসেফের নতুন গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে খবরটি দিয়েছে ইউনিসেফ।

নতুন এই গবেষণা হলো বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে ইউনিসেফের ‘সুপার ড্যাডস’ প্রচারাভিযানের অংশ। এর লক্ষ্য শিশুদের বিকাশে তাদের বাবাদের সক্রিয় ভূমিকা পালনে বাধা দেয় এমন সব প্রতিবন্ধকতা দূর করা। শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকর বিকাশে ভালোবাসা, খেলাধুলা, সুরক্ষা ও ভালো পুষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করছে এই প্রচারণা।

বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ও মাতৃত্বকালীন ছুটি, বিনামূল্যে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং বেতনসহ স্তন্যদানের বিরতিসহ শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশে সহায়তা করে এমন পরিবারবান্ধব নীতিমালার পেছনে বিনিয়োগের আহ্বানও জানিয়েছে ইউনিসেফ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত ও নাইজেরিয়াসহ ৯২ দেশে মোট জনসংখ্যার মধ্যে নবজাতকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব দেশে এমন কোনও জাতীয় নীতিমালা নেই যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়, নতুন বাবারা তাদের নবজাতক সন্তানদের সঙ্গে বেতনসহ পর্যাপ্ত ছুটি কাটাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের আটটি দেশে, যেখানে নবজাতকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ, সেসব দেশে বেতনসহ কোনও মাতৃত্ব বা পিতৃত্বকালীন ছুটির বিধান নেই।

অন্যদিকে ব্রাজিল ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোসহ অন্য দেশগুলোতে মোট জনসংখ্যার মধ্যে নবজাতকের সংখ্যা বেশি হলেও এসব দেশে বেতনসহ জাতীয় পিতৃত্বকালীন নীতিমালা রয়েছে। যদিও এই ছুটির সময়সীমা তুলনামূলকভাবে বেশ কম।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েত্তা এইচ ফোর বলেন, “একেবারে শুরু থেকেই মা ও বাবার সঙ্গে ইতিবাচক ও অর্থপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও জীবন গড়তে সহায়তা করে, তাদের স্বাস্থ্যকর ও সুখী করে এবং শেখার সক্ষমতা বাড়ায়। এই ভূমিকা পালনে তাদের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা ‘সব শিশুর জন্য’ হতে পারবো না, যদি আমরা ‘সব বাবা-মার জন্য’ না হই। বাবাদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে শিশুদের মিথস্ক্রিয়া হলে দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মসম্মান ও জীবন-সন্তুষ্টি অনেক ভালো হয়।”

এ বছরের শুরুতে ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী নিজেদের সব কার্যালয়ে ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ছুটির বিধান রেখে মা-বাবার ছুটি সংক্রান্ত বিধিমালার আধুনিকায়ন করেছে। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে ইউনিসেফই প্রথম এ ধরনের ছুটি নির্ধারিত চার সপ্তাহ থেকে বাড়িয়েছে।

এদিকে বিশ্বব্যাপী পরিবারবান্ধব নীতিমালার পক্ষে জনমত বাড়ছে। ভারতে পার্লামেন্টের পরবর্তী অধিবেশনে বিবেচনার জন্য পিতৃত্বকালীন সুবিধা বিলের প্রস্তাব করছেন কর্মকর্তারা। ফলে দেশটিতে বাবাদের তিন মাস পর্যন্ত বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ছুটি কাটানোর সুযোগ থাকছে।

‘অ্যাডভান্সড আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট: ফ্রম সায়েন্স টু স্কেল’ শিরোনামে ২০১৬ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া ল্যানসেট সিরিজের তথ্য অনুযায়ী, খর্বাকৃতি ও অতিদারিদ্র্যের কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২৫ কোটি শিশু দুর্বল বিকাশের ঝুঁকিতে ছিল।