ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আসন সমঝোতা হলেও জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে: নাহিদ ইসলাম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বিপিএল এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল, সময়সূচি প্রকাশ গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নির্ধারণ আইন অনুমোদন হয়েছে : আসিফ নজরুল বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের ঘরে ঘরে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: দুলু জামায়াত জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত, রাতে প্রার্থী ঘোষণা শহীদ হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড়, পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস আবারও ঢাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, মানুষের ভোগান্তি ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন তারা যেন প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করেন’:নজরুল ইসলাম

পশ্চিমবঙ্গের অমতে তিস্তা চুক্তি নয়: সুষমা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ‍মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনঢ় অবস্থান নিয়ে যখন আলোচনা, তখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মতি ছাড়া এই চুক্তি হচ্ছে না। সোমবার নয়াদিল্লিতে মোদি সরকারের চার বছর পূর্তি এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

সুষমা বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি করতে কেন্দ্রীয় সরকার খুবই আন্তরিক। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মতি ছাড়া তিস্তা চুক্তি সম্ভব নয়।’

২০১১ সালে মনমোহন সিং ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। মনমোহন চুক্তি করতে ঢাকায় এসেওছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বেঁচে যান মমতা। জানান, এই চুক্তি করলে তিনি সেই সময়ের কংগ্রেস সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেবেন।

তখন মমতার তৃণমূলের সমর্থন কংগ্রেসের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জরুরি ছিল। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকারের এটা জরুরি নয়। তারপরও মমতারে রাজি না করিয়ে চুক্তি করতে চাইছে না বিজেপি সরকার।

২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতর সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই চুক্তি করার আশ্বাস দেন। আর চলতি বছরের ডিসেম্বরে বা জানুয়ারিতে হবে আগামী নির্বাচন। আর ভোটের আগে তিস্তা নিয়ে চুক্তি করতে চাইছে আওয়ামী লীগ।

গত শুক্র এবং শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পশ্চিমবঙ্গ সফরকে ঘিরেও তিস্তার প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। যদিও এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল অন্য। তারপরও মোদির সঙ্গে তার এক ঘণ্টার একান্ত বৈঠক এবং পরে মমতার সঙ্গে আধা ঘণ্টার আলাপনে তিস্তা নিয়ে নাকটীয় কোনো ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এরই মধ্যে জানিয়েছেন তিস্তা চুক্তি নিয়ে জটিলতার ক্ষেত্রে অগ্রগতি আছে। আর ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসছিল যে মমতা রাজি না হলে তাকে বাদ দিয়েই চুক্তি করবে মোদি সরকার। তবে সুষমার ঘোষণা এর পুরোপুরি উল্টো।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তাচুক্তি শুধু ভারত আর বাংলাদেশ সরকারের বিষয় নয়। এখানে পশ্চিমবঙ্গও খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পক্ষ। সে জন্যই আমরা বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনার কথা বলছি।’

এক বছর আগে মোদি যে অনুষ্ঠানে সরকারের চলতি মেয়াদেই তিস্তা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন সেখানে মমতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সুষমাও। কিন্তু মমতা আগের মতোই চুক্তিবিরোধী অবস্থান ধরে রেখেছেন।

তবে কী তিস্তা চুক্তি নিয়ে মোদি তার অঙ্গীকার রাখতে পারবেন না?- এমন প্রশ্নে সুষমা বলেন, ‘সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হতে এখনো একটা বছর বাকি।’

২০১৭ সালে মমতা তিস্তার চুক্তি না করে তোর্সার পাশাপাশি ছোট আরও দুটি নদীর পানি বাংলাদেশকে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই নদীর পানি তিস্তায় আনতে খনন করতে হবে নদীর মতোই বড় খাল।

সুষমা জানান, ‘২০১৭ সালে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটাকে কাজে লাগানো যায় কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই প্রস্তাবটা ছিল তিস্তা বাদ দিয়ে উত্তরবঙ্গের অন্য তিনটি নদী থেকে একই পরিমাণ পানি বাংলাদেশে পাঠানোর।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গের অমতে তিস্তা চুক্তি নয়: সুষমা

আপডেট সময় ১১:০২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ‍মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনঢ় অবস্থান নিয়ে যখন আলোচনা, তখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মতি ছাড়া এই চুক্তি হচ্ছে না। সোমবার নয়াদিল্লিতে মোদি সরকারের চার বছর পূর্তি এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

সুষমা বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি করতে কেন্দ্রীয় সরকার খুবই আন্তরিক। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মতি ছাড়া তিস্তা চুক্তি সম্ভব নয়।’

২০১১ সালে মনমোহন সিং ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। মনমোহন চুক্তি করতে ঢাকায় এসেওছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বেঁচে যান মমতা। জানান, এই চুক্তি করলে তিনি সেই সময়ের কংগ্রেস সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেবেন।

তখন মমতার তৃণমূলের সমর্থন কংগ্রেসের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জরুরি ছিল। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকারের এটা জরুরি নয়। তারপরও মমতারে রাজি না করিয়ে চুক্তি করতে চাইছে না বিজেপি সরকার।

২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতর সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই চুক্তি করার আশ্বাস দেন। আর চলতি বছরের ডিসেম্বরে বা জানুয়ারিতে হবে আগামী নির্বাচন। আর ভোটের আগে তিস্তা নিয়ে চুক্তি করতে চাইছে আওয়ামী লীগ।

গত শুক্র এবং শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পশ্চিমবঙ্গ সফরকে ঘিরেও তিস্তার প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। যদিও এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল অন্য। তারপরও মোদির সঙ্গে তার এক ঘণ্টার একান্ত বৈঠক এবং পরে মমতার সঙ্গে আধা ঘণ্টার আলাপনে তিস্তা নিয়ে নাকটীয় কোনো ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এরই মধ্যে জানিয়েছেন তিস্তা চুক্তি নিয়ে জটিলতার ক্ষেত্রে অগ্রগতি আছে। আর ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসছিল যে মমতা রাজি না হলে তাকে বাদ দিয়েই চুক্তি করবে মোদি সরকার। তবে সুষমার ঘোষণা এর পুরোপুরি উল্টো।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তাচুক্তি শুধু ভারত আর বাংলাদেশ সরকারের বিষয় নয়। এখানে পশ্চিমবঙ্গও খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পক্ষ। সে জন্যই আমরা বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনার কথা বলছি।’

এক বছর আগে মোদি যে অনুষ্ঠানে সরকারের চলতি মেয়াদেই তিস্তা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন সেখানে মমতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সুষমাও। কিন্তু মমতা আগের মতোই চুক্তিবিরোধী অবস্থান ধরে রেখেছেন।

তবে কী তিস্তা চুক্তি নিয়ে মোদি তার অঙ্গীকার রাখতে পারবেন না?- এমন প্রশ্নে সুষমা বলেন, ‘সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হতে এখনো একটা বছর বাকি।’

২০১৭ সালে মমতা তিস্তার চুক্তি না করে তোর্সার পাশাপাশি ছোট আরও দুটি নদীর পানি বাংলাদেশকে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই নদীর পানি তিস্তায় আনতে খনন করতে হবে নদীর মতোই বড় খাল।

সুষমা জানান, ‘২০১৭ সালে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটাকে কাজে লাগানো যায় কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই প্রস্তাবটা ছিল তিস্তা বাদ দিয়ে উত্তরবঙ্গের অন্য তিনটি নদী থেকে একই পরিমাণ পানি বাংলাদেশে পাঠানোর।’