ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকিং কেলেংকারি রোধে শিগগিরই কমিশন হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের কেলেংকারি রোধে শিগগিরই কমিশন গঠন করা হচ্ছে। এটি বাজেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। যে কোনো সময় গঠন হতে পারে। সোমবার বিএসটির প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী বাজেটে কালো টাকা সাদা করতে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে না। ইতিপূর্বে এ ধরনের নেয়া উদ্যোগ অকার্যকর হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ক্রমশই বাস্তবায়ন হার কমছে। এটি আমাদের জন্য খারাপ সংকেত। বাজেট বাস্তবায়ন হার বাড়াতে প্রশাসনিক সংস্কার করা হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘স্বপ্ন পূরণের বাজেট : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির রূপরেখা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্ট (বিএসটি)।

সংস্থার চেয়ারম্যান ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি এতে অনেক গোলমালও আছে। এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের কালচারও আছে। উভয়ের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে এগুলো হয়। আমার ধারণা ছিল, এত বড় ব্যাংকিং খাতে মারজারের দরকার হবে। কিন্তু সেটা আর হয়নি।

কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে একটি ব্যাংক কমিশন হয়েছিল। এরপর আর দ্বিতীয় কোনো কিছু হয়নি। ব্যাংক কমিশন গঠনের পর তা পর্যবেক্ষণ করবে।

কালো টাকা সাদার উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে কোনো কিছু করার ইচ্ছা আমার নেই। এর জন্য বিদেশে টাকা চলে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাইরে গেলে আমি কী করব। কালো টাকা সাদা করার উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। এর জন্য যতবার ঘোষণা দেয়া হয়েছে সব সময় অকার্যকর হয়েছে।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরই কমছে বাজেট বাস্তবায়ন হার। এটি বড় খারাপ সংকেত। কীভাবে এর উন্নীত করা যায় তা চিন্তা করতে হবে। বাজেট বাস্তবায়ন সহজ করতে সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি কাজে আসেনি। প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে একটি পরিচালক পুল গঠনের কথা বলা হলেও দু’বছরেও তা হয়নি।

বৈঠকে দারিদ্র্যবিমোচন প্রসঙ্গে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশে দারিদ্র্যবিমোচনের হার কমে যাচ্ছে। এটি নিয়ে ভাবতে হবে। ডলারের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটের পর এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

প্রাক বাজেট বৈঠকে বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বিএসটির চেয়ারম্যান। প্রস্তাবে বলা হয়, আয়কর বাড়াতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে কে কত টাকা আয়কর দিয়েছে তা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ কেলেংকারির প্রতিকার বাজেটে রাখার সুপারিশ করা হয়।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর অথনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের হার ৪৩ শতাংশে নিতে হবে। জেলা বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের আইনের ভিত্তিতে কোথাও জেলা বাজেটের কথা উলে­খ নেই। আমাদের এটি মনে রাখা দরকার।

সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন হার ক্রমশ কমছে। ২০১২ সালে মোট বাজেটের ৯৩ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়। বর্তমানে কমে বাস্তবায়ন হার ৮০ শতাংশে নেমেছে। বাস্তবায়ন হার বাড়াতে প্রশাসনিক দক্ষতা ও সংস্কার দরকার। ব্যাংকিং খাতের কেলেংকারি বন্ধে তিনি দুটি নির্দিষ্ট সুপারিশ করেছেন। প্রথম সুপারিশে বলেন ঋণ গ্রহণ ও আদায়ে রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতা বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গিকার দরকার। দ্বিতীয় হচ্ছে বিচার ব্যবস্থা শ্লথ গতির কারণে অর্থ ঋণ আদালতে মামলার অনুকূলে হাজার হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। এই অকার্যকর বিচারব্যবস্থা উত্তরণের দিকনির্দেশনা বাজেটে থাকতে হবে। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বাজেটে কৃষকের দিকে নজর দিতে হবে। এতে উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি দারিদ্র্য কমবে এবং প্রবৃদ্ধি বাড়বে। তিনি সাঁওতাল বেদে প্রতিবন্ধী এদের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, মাথাপিছু ব্যয়ের দিক থেকে হিসাব করলে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের ব্যয় হচ্ছে ৩৪০ মার্কিন ডলার, ভারতে হচ্ছে ২৮০ ডলার এবং পাকিস্তানে ৩৩৬ ডলার। ফলে বাজেট উচ্চাভিলাষী সেটি বলা যাবে না।

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম, পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাহিদী সাত্তার প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনার হুঁশিয়ারি ইসির

ব্যাংকিং কেলেংকারি রোধে শিগগিরই কমিশন হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:০০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের কেলেংকারি রোধে শিগগিরই কমিশন গঠন করা হচ্ছে। এটি বাজেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। যে কোনো সময় গঠন হতে পারে। সোমবার বিএসটির প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী বাজেটে কালো টাকা সাদা করতে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে না। ইতিপূর্বে এ ধরনের নেয়া উদ্যোগ অকার্যকর হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ক্রমশই বাস্তবায়ন হার কমছে। এটি আমাদের জন্য খারাপ সংকেত। বাজেট বাস্তবায়ন হার বাড়াতে প্রশাসনিক সংস্কার করা হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘স্বপ্ন পূরণের বাজেট : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির রূপরেখা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্ট (বিএসটি)।

সংস্থার চেয়ারম্যান ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি এতে অনেক গোলমালও আছে। এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের কালচারও আছে। উভয়ের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে এগুলো হয়। আমার ধারণা ছিল, এত বড় ব্যাংকিং খাতে মারজারের দরকার হবে। কিন্তু সেটা আর হয়নি।

কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে একটি ব্যাংক কমিশন হয়েছিল। এরপর আর দ্বিতীয় কোনো কিছু হয়নি। ব্যাংক কমিশন গঠনের পর তা পর্যবেক্ষণ করবে।

কালো টাকা সাদার উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে কোনো কিছু করার ইচ্ছা আমার নেই। এর জন্য বিদেশে টাকা চলে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাইরে গেলে আমি কী করব। কালো টাকা সাদা করার উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। এর জন্য যতবার ঘোষণা দেয়া হয়েছে সব সময় অকার্যকর হয়েছে।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরই কমছে বাজেট বাস্তবায়ন হার। এটি বড় খারাপ সংকেত। কীভাবে এর উন্নীত করা যায় তা চিন্তা করতে হবে। বাজেট বাস্তবায়ন সহজ করতে সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি কাজে আসেনি। প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে একটি পরিচালক পুল গঠনের কথা বলা হলেও দু’বছরেও তা হয়নি।

বৈঠকে দারিদ্র্যবিমোচন প্রসঙ্গে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশে দারিদ্র্যবিমোচনের হার কমে যাচ্ছে। এটি নিয়ে ভাবতে হবে। ডলারের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটের পর এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

প্রাক বাজেট বৈঠকে বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বিএসটির চেয়ারম্যান। প্রস্তাবে বলা হয়, আয়কর বাড়াতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে কে কত টাকা আয়কর দিয়েছে তা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ কেলেংকারির প্রতিকার বাজেটে রাখার সুপারিশ করা হয়।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর অথনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের হার ৪৩ শতাংশে নিতে হবে। জেলা বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের আইনের ভিত্তিতে কোথাও জেলা বাজেটের কথা উলে­খ নেই। আমাদের এটি মনে রাখা দরকার।

সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন হার ক্রমশ কমছে। ২০১২ সালে মোট বাজেটের ৯৩ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়। বর্তমানে কমে বাস্তবায়ন হার ৮০ শতাংশে নেমেছে। বাস্তবায়ন হার বাড়াতে প্রশাসনিক দক্ষতা ও সংস্কার দরকার। ব্যাংকিং খাতের কেলেংকারি বন্ধে তিনি দুটি নির্দিষ্ট সুপারিশ করেছেন। প্রথম সুপারিশে বলেন ঋণ গ্রহণ ও আদায়ে রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতা বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গিকার দরকার। দ্বিতীয় হচ্ছে বিচার ব্যবস্থা শ্লথ গতির কারণে অর্থ ঋণ আদালতে মামলার অনুকূলে হাজার হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। এই অকার্যকর বিচারব্যবস্থা উত্তরণের দিকনির্দেশনা বাজেটে থাকতে হবে। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বাজেটে কৃষকের দিকে নজর দিতে হবে। এতে উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি দারিদ্র্য কমবে এবং প্রবৃদ্ধি বাড়বে। তিনি সাঁওতাল বেদে প্রতিবন্ধী এদের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, মাথাপিছু ব্যয়ের দিক থেকে হিসাব করলে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের ব্যয় হচ্ছে ৩৪০ মার্কিন ডলার, ভারতে হচ্ছে ২৮০ ডলার এবং পাকিস্তানে ৩৩৬ ডলার। ফলে বাজেট উচ্চাভিলাষী সেটি বলা যাবে না।

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম, পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাহিদী সাত্তার প্রমুখ।