ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, ২০ হাজার টাকায় দফারফা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন উজ্জ্বল মিয়া নামে দুই সন্তানের জনক। পরে সেটি ২০ হাজার টাকায় দফারফা করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার ওই শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা করার জন্য সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশুটির পরিবার জানায়, তারা খুবই দরিদ্র। চলতি বোরো মৌসুমে হাওরে ধান কাটা শ্রমিকের কাজ করেন তারা। প্রতিদিনের মতো গত ২ মে শিশুটিকে বাড়িতে একা রেখে বাবা-মা হাওরে কাজে যান। এ সুযোগে উজ্জ্বল মিয়া তাদের বাড়িতে আসে এবং শিশুটিকে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত জুস দেয়। শিশুটি জুস খেয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করে। পর দিন

একই কায়দায় শিশুটিকে ঘরে একা পেয়ে সে ধর্ষণ করে। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন মা-বাবার কাছে সে বিষয়টি জানায়। বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে তা ধামাচাপা দিতে ৪ মে চুনারুঘাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজল মিয়া সালিশের উদ্যোগ নেন। তিনি ধর্ষিত শিশুটির পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে মেয়েটির সঙ্গে যা হয়েছে তা ভুলে যেতে বলেন।

ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, তাকে জুস খেতে দিয়েছিল উজ্জ্বল। তার পর সে আর কিছু বলতে পারে না।

শিশুটির বাবা জানান, ৩ মে শারীরিকভাবে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে আগের ঘটনাগুলো তাদের কাছে খুলে বলে শিশুটি। এর পর ঘটনাটি স্থানীয়রাও জেনে যান। পরে ৪ মে কাউন্সিলর কাজল মিয়া সালিশ ডেকে ২০ হাজার টাকা তাদের হাতে দিয়ে ঘটনার কথা ভুলে যেতে বলেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়নের কর্মসূচির অফিসার অল্লিকা দাস ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে চিকিৎসা সহায়তা এবং আইনি সহযোগিতার পরামর্শ দেন।

সালিশকারী চুনারুঘাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজল মিয়া দৈনিক আকাশকে বলেন, মেয়েটির পরিবার দরিদ্র। মামলা দিয়ে তারা কোনো ফায়দা পাবে না বলেই ঘটনাটি সালিশে মীমাংসা করি। উজ্জ্বল মিয়ার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে তা শিশুটির চিকিৎসার জন্য তার বাবা-মাকে দেয়া হয়েছে।

চুনারুঘাট থানার ওসি কেএম আজমিরুজ্জামান জানান, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ভিকটিমের পিতা থানায় হাজির হয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। আসামী ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আজ শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, ২০ হাজার টাকায় দফারফা

আপডেট সময় ০৩:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন উজ্জ্বল মিয়া নামে দুই সন্তানের জনক। পরে সেটি ২০ হাজার টাকায় দফারফা করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার ওই শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা করার জন্য সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশুটির পরিবার জানায়, তারা খুবই দরিদ্র। চলতি বোরো মৌসুমে হাওরে ধান কাটা শ্রমিকের কাজ করেন তারা। প্রতিদিনের মতো গত ২ মে শিশুটিকে বাড়িতে একা রেখে বাবা-মা হাওরে কাজে যান। এ সুযোগে উজ্জ্বল মিয়া তাদের বাড়িতে আসে এবং শিশুটিকে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত জুস দেয়। শিশুটি জুস খেয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করে। পর দিন

একই কায়দায় শিশুটিকে ঘরে একা পেয়ে সে ধর্ষণ করে। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন মা-বাবার কাছে সে বিষয়টি জানায়। বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে তা ধামাচাপা দিতে ৪ মে চুনারুঘাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজল মিয়া সালিশের উদ্যোগ নেন। তিনি ধর্ষিত শিশুটির পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে মেয়েটির সঙ্গে যা হয়েছে তা ভুলে যেতে বলেন।

ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, তাকে জুস খেতে দিয়েছিল উজ্জ্বল। তার পর সে আর কিছু বলতে পারে না।

শিশুটির বাবা জানান, ৩ মে শারীরিকভাবে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে আগের ঘটনাগুলো তাদের কাছে খুলে বলে শিশুটি। এর পর ঘটনাটি স্থানীয়রাও জেনে যান। পরে ৪ মে কাউন্সিলর কাজল মিয়া সালিশ ডেকে ২০ হাজার টাকা তাদের হাতে দিয়ে ঘটনার কথা ভুলে যেতে বলেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়নের কর্মসূচির অফিসার অল্লিকা দাস ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে চিকিৎসা সহায়তা এবং আইনি সহযোগিতার পরামর্শ দেন।

সালিশকারী চুনারুঘাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজল মিয়া দৈনিক আকাশকে বলেন, মেয়েটির পরিবার দরিদ্র। মামলা দিয়ে তারা কোনো ফায়দা পাবে না বলেই ঘটনাটি সালিশে মীমাংসা করি। উজ্জ্বল মিয়ার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে তা শিশুটির চিকিৎসার জন্য তার বাবা-মাকে দেয়া হয়েছে।

চুনারুঘাট থানার ওসি কেএম আজমিরুজ্জামান জানান, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ভিকটিমের পিতা থানায় হাজির হয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। আসামী ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আজ শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে।