ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল রাষ্ট্র পরিচালানার জন্য অভিজ্ঞতার দরকার আছে: নজরুল ইসলাম একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: তারেক রহমান নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে: আইজিপি

ব্যাংকের দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুটে আ.লীগ: বিএনপি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাত থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেয়া ঋণের ৬৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। তবে বিএনপি অভিযোগ করেছে, লীগের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং সরকারি পদদপুষ্টরা দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে।

‘ব্যাংকিং খাতে লুটপাট’ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দাবি করেন, ব্যাংকিং খাতকে ধসিয়ে দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। তবে ফখরুল ব্যাংকিং খাতে যে পরিমাণ টাকা লুটের অভিযোগ করছেন, সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণ তার চেয়ে বহু কম।

গত কয়েক বছর ধরেই অর্থনীতির আকার বড় হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকে নানা ঋণ কেলেঙ্কারি আলোচনায় এসেছে। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি, সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারি এবং বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংকে ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনায় মামলা হলেও টাকা উদ্ধার বা দায়ীদের বিচার কাজ এখনও শেষ হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শেষ হিসাব অনুযায়ী ২০১৭ সাল শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। খেলাপি ঋণের এ পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা বেশি।

অবশ্য এক বছর আগের তুলনায় খেলাপি ঋণ বাড়লেও আগের প্রান্তিক অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে কমেছে। গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা তথা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ঋণ খেলাপি ছিল।

এর বাইরে আরও ৩৬ হাজার কোটি টাকা অবলোপন হয়েছে। অর্থাৎ এসব অর্থ ধরলে মোট খেলাপির পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছরে বর্তমান সরকারের আমলে খেলাপির পরিমাণ বেড়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বর্তমান সরকার আসার আগ অবধি খেলাপির পরিমাণ ছিল ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

ফখরুল বলেন, ‘সুশাসনের-জবাবদিহিতার অভাব, দুর্নীতি, লুটপাট, নীতিহীনতা আর বিশৃংখলা সব মিলিয়ে এক অস্থিতিকর ও নৈরাজ্যকর অবস্থায় রয়েছে বর্তমান ব্যাংকিং খাত।’

‘ঋণের নামে ও বিভিন্ন কারসাজি করে গ্রাহকের প্রায় দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে আওয়ামী নেতাকর্মী, সমর্থক ও আওয়ামী মদদপুষ্ট গোষ্ঠী। মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের ব্যাংকিং সেক্টর।

ফখরুল বলেন, ‘দেশের একটি স্বনামধন্য গবেষণা সংস্থা তাই ২০১৭ সালে ব্যাংকিং সেক্টরের সার্বিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে ২০১৭ সালকে ‘ব্যাংক কেলেংকারির বছর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।’

‘একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দুই দফায় আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছর মেয়াদকে ‘ব্যাংক কেলেঙ্কারির দশক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতির জন্য বর্তমান সরকার দায়ী। সরকারকে এর দায় নিতে হবে। দেশে লাখ লাখ কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এসব হচ্ছে।’

‘পাহাড় সমান দুর্নীতি করেও সরকারি দলের লোক হওয়ায় তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। ভোটারবিহীন সরকারের কাছে এটা কোনো বিষয় না। জনগণের কাছে এর জবাব দিতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না

ব্যাংকের দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুটে আ.লীগ: বিএনপি

আপডেট সময় ০৬:০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাত থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেয়া ঋণের ৬৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। তবে বিএনপি অভিযোগ করেছে, লীগের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং সরকারি পদদপুষ্টরা দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে।

‘ব্যাংকিং খাতে লুটপাট’ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দাবি করেন, ব্যাংকিং খাতকে ধসিয়ে দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। তবে ফখরুল ব্যাংকিং খাতে যে পরিমাণ টাকা লুটের অভিযোগ করছেন, সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণ তার চেয়ে বহু কম।

গত কয়েক বছর ধরেই অর্থনীতির আকার বড় হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকে নানা ঋণ কেলেঙ্কারি আলোচনায় এসেছে। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি, সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারি এবং বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংকে ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনায় মামলা হলেও টাকা উদ্ধার বা দায়ীদের বিচার কাজ এখনও শেষ হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শেষ হিসাব অনুযায়ী ২০১৭ সাল শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। খেলাপি ঋণের এ পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা বেশি।

অবশ্য এক বছর আগের তুলনায় খেলাপি ঋণ বাড়লেও আগের প্রান্তিক অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে কমেছে। গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা তথা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ঋণ খেলাপি ছিল।

এর বাইরে আরও ৩৬ হাজার কোটি টাকা অবলোপন হয়েছে। অর্থাৎ এসব অর্থ ধরলে মোট খেলাপির পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছরে বর্তমান সরকারের আমলে খেলাপির পরিমাণ বেড়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বর্তমান সরকার আসার আগ অবধি খেলাপির পরিমাণ ছিল ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

ফখরুল বলেন, ‘সুশাসনের-জবাবদিহিতার অভাব, দুর্নীতি, লুটপাট, নীতিহীনতা আর বিশৃংখলা সব মিলিয়ে এক অস্থিতিকর ও নৈরাজ্যকর অবস্থায় রয়েছে বর্তমান ব্যাংকিং খাত।’

‘ঋণের নামে ও বিভিন্ন কারসাজি করে গ্রাহকের প্রায় দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে আওয়ামী নেতাকর্মী, সমর্থক ও আওয়ামী মদদপুষ্ট গোষ্ঠী। মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের ব্যাংকিং সেক্টর।

ফখরুল বলেন, ‘দেশের একটি স্বনামধন্য গবেষণা সংস্থা তাই ২০১৭ সালে ব্যাংকিং সেক্টরের সার্বিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে ২০১৭ সালকে ‘ব্যাংক কেলেংকারির বছর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।’

‘একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দুই দফায় আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছর মেয়াদকে ‘ব্যাংক কেলেঙ্কারির দশক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতির জন্য বর্তমান সরকার দায়ী। সরকারকে এর দায় নিতে হবে। দেশে লাখ লাখ কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এসব হচ্ছে।’

‘পাহাড় সমান দুর্নীতি করেও সরকারি দলের লোক হওয়ায় তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। ভোটারবিহীন সরকারের কাছে এটা কোনো বিষয় না। জনগণের কাছে এর জবাব দিতে হবে।