ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

ব্যাংকের দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুটে আ.লীগ: বিএনপি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাত থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেয়া ঋণের ৬৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। তবে বিএনপি অভিযোগ করেছে, লীগের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং সরকারি পদদপুষ্টরা দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে।

‘ব্যাংকিং খাতে লুটপাট’ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দাবি করেন, ব্যাংকিং খাতকে ধসিয়ে দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। তবে ফখরুল ব্যাংকিং খাতে যে পরিমাণ টাকা লুটের অভিযোগ করছেন, সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণ তার চেয়ে বহু কম।

গত কয়েক বছর ধরেই অর্থনীতির আকার বড় হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকে নানা ঋণ কেলেঙ্কারি আলোচনায় এসেছে। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি, সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারি এবং বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংকে ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনায় মামলা হলেও টাকা উদ্ধার বা দায়ীদের বিচার কাজ এখনও শেষ হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শেষ হিসাব অনুযায়ী ২০১৭ সাল শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। খেলাপি ঋণের এ পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা বেশি।

অবশ্য এক বছর আগের তুলনায় খেলাপি ঋণ বাড়লেও আগের প্রান্তিক অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে কমেছে। গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা তথা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ঋণ খেলাপি ছিল।

এর বাইরে আরও ৩৬ হাজার কোটি টাকা অবলোপন হয়েছে। অর্থাৎ এসব অর্থ ধরলে মোট খেলাপির পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছরে বর্তমান সরকারের আমলে খেলাপির পরিমাণ বেড়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বর্তমান সরকার আসার আগ অবধি খেলাপির পরিমাণ ছিল ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

ফখরুল বলেন, ‘সুশাসনের-জবাবদিহিতার অভাব, দুর্নীতি, লুটপাট, নীতিহীনতা আর বিশৃংখলা সব মিলিয়ে এক অস্থিতিকর ও নৈরাজ্যকর অবস্থায় রয়েছে বর্তমান ব্যাংকিং খাত।’

‘ঋণের নামে ও বিভিন্ন কারসাজি করে গ্রাহকের প্রায় দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে আওয়ামী নেতাকর্মী, সমর্থক ও আওয়ামী মদদপুষ্ট গোষ্ঠী। মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের ব্যাংকিং সেক্টর।

ফখরুল বলেন, ‘দেশের একটি স্বনামধন্য গবেষণা সংস্থা তাই ২০১৭ সালে ব্যাংকিং সেক্টরের সার্বিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে ২০১৭ সালকে ‘ব্যাংক কেলেংকারির বছর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।’

‘একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দুই দফায় আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছর মেয়াদকে ‘ব্যাংক কেলেঙ্কারির দশক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতির জন্য বর্তমান সরকার দায়ী। সরকারকে এর দায় নিতে হবে। দেশে লাখ লাখ কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এসব হচ্ছে।’

‘পাহাড় সমান দুর্নীতি করেও সরকারি দলের লোক হওয়ায় তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। ভোটারবিহীন সরকারের কাছে এটা কোনো বিষয় না। জনগণের কাছে এর জবাব দিতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছখ্যাত বিজয়

ব্যাংকের দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুটে আ.লীগ: বিএনপি

আপডেট সময় ০৬:০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাত থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেয়া ঋণের ৬৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। তবে বিএনপি অভিযোগ করেছে, লীগের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং সরকারি পদদপুষ্টরা দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে।

‘ব্যাংকিং খাতে লুটপাট’ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দাবি করেন, ব্যাংকিং খাতকে ধসিয়ে দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। তবে ফখরুল ব্যাংকিং খাতে যে পরিমাণ টাকা লুটের অভিযোগ করছেন, সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণ তার চেয়ে বহু কম।

গত কয়েক বছর ধরেই অর্থনীতির আকার বড় হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকে নানা ঋণ কেলেঙ্কারি আলোচনায় এসেছে। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি, সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারি এবং বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংকে ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনায় মামলা হলেও টাকা উদ্ধার বা দায়ীদের বিচার কাজ এখনও শেষ হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শেষ হিসাব অনুযায়ী ২০১৭ সাল শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। খেলাপি ঋণের এ পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা বেশি।

অবশ্য এক বছর আগের তুলনায় খেলাপি ঋণ বাড়লেও আগের প্রান্তিক অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে কমেছে। গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা তথা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ঋণ খেলাপি ছিল।

এর বাইরে আরও ৩৬ হাজার কোটি টাকা অবলোপন হয়েছে। অর্থাৎ এসব অর্থ ধরলে মোট খেলাপির পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছরে বর্তমান সরকারের আমলে খেলাপির পরিমাণ বেড়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বর্তমান সরকার আসার আগ অবধি খেলাপির পরিমাণ ছিল ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

ফখরুল বলেন, ‘সুশাসনের-জবাবদিহিতার অভাব, দুর্নীতি, লুটপাট, নীতিহীনতা আর বিশৃংখলা সব মিলিয়ে এক অস্থিতিকর ও নৈরাজ্যকর অবস্থায় রয়েছে বর্তমান ব্যাংকিং খাত।’

‘ঋণের নামে ও বিভিন্ন কারসাজি করে গ্রাহকের প্রায় দুই লাখ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে আওয়ামী নেতাকর্মী, সমর্থক ও আওয়ামী মদদপুষ্ট গোষ্ঠী। মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের ব্যাংকিং সেক্টর।

ফখরুল বলেন, ‘দেশের একটি স্বনামধন্য গবেষণা সংস্থা তাই ২০১৭ সালে ব্যাংকিং সেক্টরের সার্বিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে ২০১৭ সালকে ‘ব্যাংক কেলেংকারির বছর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।’

‘একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দুই দফায় আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছর মেয়াদকে ‘ব্যাংক কেলেঙ্কারির দশক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতির জন্য বর্তমান সরকার দায়ী। সরকারকে এর দায় নিতে হবে। দেশে লাখ লাখ কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এসব হচ্ছে।’

‘পাহাড় সমান দুর্নীতি করেও সরকারি দলের লোক হওয়ায় তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। ভোটারবিহীন সরকারের কাছে এটা কোনো বিষয় না। জনগণের কাছে এর জবাব দিতে হবে।