ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

ট্রাম্প সরে গেলেও ইরান চুক্তি মৃত নয়: ফ্রান্স

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও এই চুক্তি ‘মৃত নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন ইয়েভস লে ড্রায়ান। তবে ট্রাম্প এই চুক্তি সম্পর্কে বলেছেন, ‘চুক্তিটি অন্তঃসার শূন্য ও ত্রুটিপূর্ণ’। তিনি এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসবেন এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন।

এই চুক্তির সঙ্গে থাকা অন্যান্য দেশগুলো বলছে, তারা এই চুক্তিতে থাকতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করতে ২০১৫ সালে ছয়টি দেশের মধ্যে এই চুক্তি হয়। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লে ড্রায়ান বলেছেন, ‘এই চুক্তি এখনো মৃত না। যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেছে কিন্তু চুক্তি এখনো কার্যকর।’ তিনি বলেছেন, আগামী সোমবার ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি এবং ইরান এই বিষয়ে বৈঠকে বসবে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ‘মারাত্মক ক্ষুদ্ধ’ হয়েছে রাশিয়া। চীনও এই সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ সৌদি আরব এবং ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘বিপর্যয়কর’ একটি চুক্তি থেকে ‘বলিষ্ঠভাবে’ সরে আসার এই সিদ্ধান্তকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ করছেন তিনি।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে চুক্তিতে পৌঁছায় সব পক্ষ।

ইরানের সঙ্গে হওয়া এই পরমাণু চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)। চুক্তি মোতাবেক ইরান পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল। তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইউরেনিয়ামের মজুত কমিয়ে আনতে রাজি হয় দেশটি। এই ইউরেনিয়াম পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা কমিয়ে আনার শর্তও ছিল চুক্তিতে।

ইরান বলছে, তারা এই চুক্তি রক্ষা করতে চেষ্টা করবে। কিন্তু যদি সফল না হয়, তাহলে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালু করতে পারে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, আমরা যদি অন্যান্য সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে মিলে এই চুক্তির লক্ষ্য পৌঁছাতে না পারি তাহলে এটি আগের মতোই থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছখ্যাত বিজয়

ট্রাম্প সরে গেলেও ইরান চুক্তি মৃত নয়: ফ্রান্স

আপডেট সময় ০৫:১১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ মে ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও এই চুক্তি ‘মৃত নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন ইয়েভস লে ড্রায়ান। তবে ট্রাম্প এই চুক্তি সম্পর্কে বলেছেন, ‘চুক্তিটি অন্তঃসার শূন্য ও ত্রুটিপূর্ণ’। তিনি এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসবেন এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন।

এই চুক্তির সঙ্গে থাকা অন্যান্য দেশগুলো বলছে, তারা এই চুক্তিতে থাকতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করতে ২০১৫ সালে ছয়টি দেশের মধ্যে এই চুক্তি হয়। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লে ড্রায়ান বলেছেন, ‘এই চুক্তি এখনো মৃত না। যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেছে কিন্তু চুক্তি এখনো কার্যকর।’ তিনি বলেছেন, আগামী সোমবার ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি এবং ইরান এই বিষয়ে বৈঠকে বসবে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ‘মারাত্মক ক্ষুদ্ধ’ হয়েছে রাশিয়া। চীনও এই সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ সৌদি আরব এবং ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘বিপর্যয়কর’ একটি চুক্তি থেকে ‘বলিষ্ঠভাবে’ সরে আসার এই সিদ্ধান্তকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ করছেন তিনি।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে চুক্তিতে পৌঁছায় সব পক্ষ।

ইরানের সঙ্গে হওয়া এই পরমাণু চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)। চুক্তি মোতাবেক ইরান পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল। তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইউরেনিয়ামের মজুত কমিয়ে আনতে রাজি হয় দেশটি। এই ইউরেনিয়াম পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা কমিয়ে আনার শর্তও ছিল চুক্তিতে।

ইরান বলছে, তারা এই চুক্তি রক্ষা করতে চেষ্টা করবে। কিন্তু যদি সফল না হয়, তাহলে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালু করতে পারে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, আমরা যদি অন্যান্য সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে মিলে এই চুক্তির লক্ষ্য পৌঁছাতে না পারি তাহলে এটি আগের মতোই থাকবে।