ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নওগাঁয় বিএনপির প্রচারণা চালিয়ে চাকরি হারালেন মুয়াজ্জিন বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী নিহত বাকহীন বাকশক্তি পেয়ে জুলাই যোদ্ধাদের ভুলে গেছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল

ট্রাম্প সরে গেলেও ইরান চুক্তি মৃত নয়: ফ্রান্স

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও এই চুক্তি ‘মৃত নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন ইয়েভস লে ড্রায়ান। তবে ট্রাম্প এই চুক্তি সম্পর্কে বলেছেন, ‘চুক্তিটি অন্তঃসার শূন্য ও ত্রুটিপূর্ণ’। তিনি এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসবেন এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন।

এই চুক্তির সঙ্গে থাকা অন্যান্য দেশগুলো বলছে, তারা এই চুক্তিতে থাকতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করতে ২০১৫ সালে ছয়টি দেশের মধ্যে এই চুক্তি হয়। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লে ড্রায়ান বলেছেন, ‘এই চুক্তি এখনো মৃত না। যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেছে কিন্তু চুক্তি এখনো কার্যকর।’ তিনি বলেছেন, আগামী সোমবার ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি এবং ইরান এই বিষয়ে বৈঠকে বসবে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ‘মারাত্মক ক্ষুদ্ধ’ হয়েছে রাশিয়া। চীনও এই সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ সৌদি আরব এবং ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘বিপর্যয়কর’ একটি চুক্তি থেকে ‘বলিষ্ঠভাবে’ সরে আসার এই সিদ্ধান্তকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ করছেন তিনি।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে চুক্তিতে পৌঁছায় সব পক্ষ।

ইরানের সঙ্গে হওয়া এই পরমাণু চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)। চুক্তি মোতাবেক ইরান পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল। তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইউরেনিয়ামের মজুত কমিয়ে আনতে রাজি হয় দেশটি। এই ইউরেনিয়াম পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা কমিয়ে আনার শর্তও ছিল চুক্তিতে।

ইরান বলছে, তারা এই চুক্তি রক্ষা করতে চেষ্টা করবে। কিন্তু যদি সফল না হয়, তাহলে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালু করতে পারে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, আমরা যদি অন্যান্য সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে মিলে এই চুক্তির লক্ষ্য পৌঁছাতে না পারি তাহলে এটি আগের মতোই থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় বিএনপির প্রচারণা চালিয়ে চাকরি হারালেন মুয়াজ্জিন

ট্রাম্প সরে গেলেও ইরান চুক্তি মৃত নয়: ফ্রান্স

আপডেট সময় ০৫:১১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ মে ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও এই চুক্তি ‘মৃত নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন ইয়েভস লে ড্রায়ান। তবে ট্রাম্প এই চুক্তি সম্পর্কে বলেছেন, ‘চুক্তিটি অন্তঃসার শূন্য ও ত্রুটিপূর্ণ’। তিনি এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসবেন এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন।

এই চুক্তির সঙ্গে থাকা অন্যান্য দেশগুলো বলছে, তারা এই চুক্তিতে থাকতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করতে ২০১৫ সালে ছয়টি দেশের মধ্যে এই চুক্তি হয়। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লে ড্রায়ান বলেছেন, ‘এই চুক্তি এখনো মৃত না। যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেছে কিন্তু চুক্তি এখনো কার্যকর।’ তিনি বলেছেন, আগামী সোমবার ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি এবং ইরান এই বিষয়ে বৈঠকে বসবে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ‘মারাত্মক ক্ষুদ্ধ’ হয়েছে রাশিয়া। চীনও এই সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ সৌদি আরব এবং ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘বিপর্যয়কর’ একটি চুক্তি থেকে ‘বলিষ্ঠভাবে’ সরে আসার এই সিদ্ধান্তকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ করছেন তিনি।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে চুক্তিতে পৌঁছায় সব পক্ষ।

ইরানের সঙ্গে হওয়া এই পরমাণু চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)। চুক্তি মোতাবেক ইরান পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল। তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইউরেনিয়ামের মজুত কমিয়ে আনতে রাজি হয় দেশটি। এই ইউরেনিয়াম পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা কমিয়ে আনার শর্তও ছিল চুক্তিতে।

ইরান বলছে, তারা এই চুক্তি রক্ষা করতে চেষ্টা করবে। কিন্তু যদি সফল না হয়, তাহলে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালু করতে পারে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, আমরা যদি অন্যান্য সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে মিলে এই চুক্তির লক্ষ্য পৌঁছাতে না পারি তাহলে এটি আগের মতোই থাকবে।