অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
স্বামীদের দুর্নীতির কারণে স্ত্রীরা ফেঁসে যাচ্ছেন বলে সতর্ক করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। বেশ কিছু উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, নিজে বাঁচার জন্য স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ গড়ছেন স্বামী।
রবিবার ধানমন্ডিতে দুদক কার্যালয়ে ‘দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় ও সম্পদের পারিবারিক দায়: নারীর ভূমিকা, ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় দুদক চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
আলোচনায় বক্তারা জানান, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীরা স্বামীকে দুর্নীতিতে সহায়তা করে থাকেন। আবার কোনো ক্ষেত্রে তারা স্বামীকে দুর্নীতিতে করতে নিরুৎসাহিতও করেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্বামীর অবৈধ সম্পদ স্ত্রীর নামে অর্জন সংক্রান্ত বিষয়গুলো অনুসন্ধান করছি আমরা। আমাদের কাছে এমন ১১৮ টি অভিযোগ আছে। কিন্তু কেস স্টাডি করে দেখা যায় ৯০ শতাংশ স্ত্রী জানেন না এ সম্পদের ব্যাপারে। তারা শুধু সাইন (সই) করেছে পেপারে এটুকু বলতে পারেন।’
‘আমি আশ্চর্য হলাম, স্ত্রী জানেনই না অবৈধ সম্পদের ব্যপারে। তিনি কীভাবে সাজা পাবেন? আমি বিভিন্ন যায়গায় কথা বলছি এ ব্যাপারে কী করা যায়।’
‘তবে গত দুই বছরে আমি শুধু একজন নারী পেয়েছি যিনি জানতেন দুর্নীতির ব্যপারটা।’
‘দুর্নীতির বিষয়টি বুঝলেও পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর ক্ষমতা সীমিত। ফলে বেশিরভাগ নারীই এ অন্যায়ের বিরুদ্ধ রুখে দাঁড়াতে পারছেন না।’
দুদক চেয়ারম্যান ২৫ বছর আগে তার এক বন্ধুর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বলেন, “একবার আমার এক বন্ধু অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকা নিয়ে বাসায় গেলে তার স্ত্রী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এ টাকা তুমি কোথায় পেয়েছ?’। তখন বন্ধু বলল, আমাকে একজন এ টাকা রাখতে দিয়েছে। এর পর থেকে সে অবৈধ উপায়ে টাকা অর্জনে নিরুৎসাহিত হয়েছে।”
‘তাই আমি মনে করি অনেক সময় স্ত্রীরাও পারেন তার স্বামীকে দুর্নীতি থেকে ফেরাতে। দেখা যায় বউয়ের ভয়ে অনেকে দুর্নীতি করেন না। বউ সংঘাতিক জিনিস!’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘স্ত্রী চাইলে তার স্বামীর দুর্নীতি করা বন্ধ করতে পারেন। আমি যদি একটা দামি গাড়ি কিনি। আমর স্ত্রী তো জিজ্ঞাসা করবে তুমি টাকা এত টাকা পেলে কোথায়? জবাব দিতে না পারলে আমার গলা টিপে ধরবে।’
স্বামীর অবৈধ সম্পদ স্ত্রীর নামে অর্জন সংক্রান্ত তথ্য
টিআইবি জানায়, ২০১৭ থেকে ২০১৮ এর মার্চ পর্যন্ত দুদকের ২৯ টি মামলায় দেখা গেছে স্বামীর অবৈধ সম্পদ করেছেন স্ত্রীর নামে আর এ কারণে স্ত্রীদের কারাদণ্ড বা জরিমানা হয়েছে।
যে স্বামীরা এই কাজ করেছেন তাদের ৫৫ শতাংশের পেশা ছিল রাজনীতি, ২১ শতাংশ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ১০ শতাংশ, ১৪ শতাংশ অন্যান্য পেশা।
স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অনুসন্ধান
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতির মামলায় দেখা গেছে, স্ত্রী ‘গৃহিনী’ হলেও তাদের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদ ব্যাংকে লগ্নি, ব্যবসার অংশীদার হিসেবে শেয়ার, জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট রয়েছে।
২০১৫-২০১৭ সাল পর্যন্ত দুদকে স্বামীর অবৈধ আয় করে স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জন সংত্রান্ত ১১৮ টি অভিযোগ অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। এ পর্যন্ত ৩০ টি মামলা তদন্তনাধীন। ১৪ টি মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে স্ত্রীর চাপের কারণে স্বামীরা দুর্নীতি করতে বাধ্য হন।
মাধ্যম হিসেবে নারীকে ব্যবহার
প্রতিবেদনে জানানো হয়, উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে খালি চেকে সই, নারীকে ব্যবহার করে এনজিও, ব্যাংক ঋণ বা দাদনের টাকা আত্মসাৎ, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নারী কর্মীর মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আদায়, বাল্য বিয়ের ক্ষেত্রে বা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জাল জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরিতে মাধ্যম হিসেবে নরীকে ব্যবহার করা হয়।
পারিবারিক দায়ে নারীর করণীয়
টিইবির প্রতিবেদনে স্বামীর দুর্নীতির ক্ষেত্রে স্ত্রীকে সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। তাদের পরামর্শ, স্ত্রীর নামে টাকা জমা বা তার নামে সম্পদ কেনার সময় অর্থ বা সম্পদের উৎস এবং বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
নারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদককে আরও সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আরও নারীবান্ধব হতেও বলা হয়েছে।
সরকারি কর্মীদের প্রতি বছর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের বিবরণী জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপের পরামর্শও দেয়া হয় প্রতিবেদনে।
আয়োজক সংগঠন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, এনজিও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের পরিচালক ফারাহ কবির প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















