ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল রাষ্ট্র পরিচালানার জন্য অভিজ্ঞতার দরকার আছে: নজরুল ইসলাম একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: তারেক রহমান নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে: আইজিপি

উদ্বোধনের দিনই পদ্মাসেতুতে চলবে রেল: রেলমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পদ্মাসেতু যেদিন উদ্বোধন হবে সেদিন থেকেই এই সেতু দিয়ে রেল চলার নিশ্চয়তা দিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক। প্রথম দিন ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে পাটুরিয়া-রাজবাড়ী হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার রেল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। বলেন, ‘পদ্মাসেতু যেমন কল্পনা নয় বাস্তব, তেমনি এই সেতু দিয়ে রেল চলবে এটিও বাস্তব।’

দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ করতে পদ্মাসেতুর কাজ চলছে পুরোদমে। নানা জটিলতা ও নাটকীয়তার পর নিজ অর্থে এই সেতুর কাজ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিরই পরিচয় বলে মনে করে সরকার। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আগাচ্ছে সরকার।

এই সেতুর কাজ শুরুর পর গাড়ির পাশাপাশি রেল সংযোগ চালুর উদ্যোগও নেয়া হয়। ঘোষণা হয়, দুটোই চালু হবে একইসঙ্গে।

তবে নিজ অর্থে মূল সেতু করলেও রেল প্রকল্পের জন্য চীনা অর্থায়নের দিকে তাকিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় যে ২৭টি প্রকল্পে অর্থায়নে সমঝোতা চুক্তি হয়, তার একটি ছিল এই প্রকল্প।

সমঝোতা অনুযায়ী চীনের কাছ থেকে ৩১৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলার ঋণ পাওয়ার কথা ছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আগেও নানা জটিলতা দেখা দেয় এবং প্রত্যাশিত সময়ের বেশ কিছু পর গত ২৭ এপ্রিল বেইজিংয়ে চুক্তি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। আর চীনের এক্সিম ব্যাংক ঋণ দেবে ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা।

এই চুক্তি হয়ে যাওয়ায় পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগের বিষয়টিতে আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই বলে জানান রেলমন্ত্রী। বলেন, ‘পদ্মাসেতু দিয়ে রেল চলাচলের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত।’

মুজিবুল হক বলেন, ‘পদ্মাসেতু রেলসংযোগ’ প্রকল্পের কাজ শুধু ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কাজে সীমাবদ্ধ ছিল। মূলত চীনা সহায়তা না পাওয়াই মূল প্রকল্পের কাজ থেমে ছিল। চীনের সঙ্গে চুক্তি সই হওয়ায় সব ধোঁয়াশা কেটে গেছে।’

মন্ত্রী জানান, ঋণের শর্ত অনুযায়ী পুরো ঋণটিই হবে ‘প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট’। এ ঋণে সুদের হার হবে ২ শতাংশ। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে ছয় বছরের রেয়াতকালসহ ২০ বছর।

এর ব্যবস্থাপনা ফি থাকবে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে। প্রতিশ্রুতি ফি দিতে হবে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে। সেই সঙ্গে চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই ব্যবস্থাপনা ফি বাবদ ৬৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮৪৩ দশমিক ৭৫ ডলার দিতে হবে চীনা এক্সিম ব্যাংককে।

মন্ত্রী বলেন, ‘রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো পদ্মা সেতু পদ্মা রেল প্রকল্প। এর আগে রেলপথে এতবড় কোনো প্রকল্প ছিল না। এই প্রকল্পে অনেক বড় বড় অ্যালিভেটেড সেতু নির্মাণ করা হবে। এমনকি কেরানীগঞ্জ স্টেশনও অ্যালিভেটেড করা হবে।’

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগের ফলে মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও নড়াইল জেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। এতে এসব জেলাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হবে।

কবে নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে- এমন প্রশ্ন মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাজ অনেক দুর এগিয়ে নিয়েছি, খুব দ্রুত এই প্রকল্পের রেলপথের কাজ শুরু করা হবে।’

‘একইদিনে পদ্মাসেতুতে রেল ও যানবাহন চলবে’ আবারও এই কথা তুলে ধরে মুজিবুল হক বলেন, ‘আমরা সেইভাবেই পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রকল্পের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। তিনি যেদিন সময় দেবেন ওইদিনই ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে। এরপরেই মূল কাজ শুরু হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে রেল মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পদ্মাসেতু প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পদ্মাসেতুর কাজ শেষ করার ঘোষণা আছে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কয়েক মাস আগে জানিয়েছিলেন, সেতুর কাজ কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। অবশ্য পরে সড়ক মন্ত্রী একে উড়িয়ে দেন।

কবে হবে পদ্মাসেতু?

ছয় কিলোমিটারেরও দীর্ঘ সেতুর ৪৫০ মিটার এখন অবধি দৃশ্যমান হয়েছে। চলতি মাসেই আরও একটি স্প্যান বসানো হলো সেতু দৃশ্যমান হবে ৬০০ মিটার, অর্থাৎ ১০ ভাগের এক ভাগ।

গত সেপ্টম্বরে প্রথম স্প্যান বসানোর পর মাসে একটি করে স্প্যান বসানোর কথা ছিল। তবে সেটি হয়নি। আর মোট ৪৩টি স্প্যানের মধ্যে চলতি মাসে চারটি বসলেও বাকি থাকবে ৩৯টি। সড়ক মন্ত্রী অবশ্য জানিয়েছেন, শেষ দিকে প্রতি সপ্তাহেই একটি করে স্প্যান বসানো যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না

উদ্বোধনের দিনই পদ্মাসেতুতে চলবে রেল: রেলমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পদ্মাসেতু যেদিন উদ্বোধন হবে সেদিন থেকেই এই সেতু দিয়ে রেল চলার নিশ্চয়তা দিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক। প্রথম দিন ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে পাটুরিয়া-রাজবাড়ী হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার রেল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। বলেন, ‘পদ্মাসেতু যেমন কল্পনা নয় বাস্তব, তেমনি এই সেতু দিয়ে রেল চলবে এটিও বাস্তব।’

দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ করতে পদ্মাসেতুর কাজ চলছে পুরোদমে। নানা জটিলতা ও নাটকীয়তার পর নিজ অর্থে এই সেতুর কাজ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিরই পরিচয় বলে মনে করে সরকার। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আগাচ্ছে সরকার।

এই সেতুর কাজ শুরুর পর গাড়ির পাশাপাশি রেল সংযোগ চালুর উদ্যোগও নেয়া হয়। ঘোষণা হয়, দুটোই চালু হবে একইসঙ্গে।

তবে নিজ অর্থে মূল সেতু করলেও রেল প্রকল্পের জন্য চীনা অর্থায়নের দিকে তাকিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় যে ২৭টি প্রকল্পে অর্থায়নে সমঝোতা চুক্তি হয়, তার একটি ছিল এই প্রকল্প।

সমঝোতা অনুযায়ী চীনের কাছ থেকে ৩১৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলার ঋণ পাওয়ার কথা ছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আগেও নানা জটিলতা দেখা দেয় এবং প্রত্যাশিত সময়ের বেশ কিছু পর গত ২৭ এপ্রিল বেইজিংয়ে চুক্তি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। আর চীনের এক্সিম ব্যাংক ঋণ দেবে ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা।

এই চুক্তি হয়ে যাওয়ায় পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগের বিষয়টিতে আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই বলে জানান রেলমন্ত্রী। বলেন, ‘পদ্মাসেতু দিয়ে রেল চলাচলের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত।’

মুজিবুল হক বলেন, ‘পদ্মাসেতু রেলসংযোগ’ প্রকল্পের কাজ শুধু ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কাজে সীমাবদ্ধ ছিল। মূলত চীনা সহায়তা না পাওয়াই মূল প্রকল্পের কাজ থেমে ছিল। চীনের সঙ্গে চুক্তি সই হওয়ায় সব ধোঁয়াশা কেটে গেছে।’

মন্ত্রী জানান, ঋণের শর্ত অনুযায়ী পুরো ঋণটিই হবে ‘প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট’। এ ঋণে সুদের হার হবে ২ শতাংশ। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে ছয় বছরের রেয়াতকালসহ ২০ বছর।

এর ব্যবস্থাপনা ফি থাকবে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে। প্রতিশ্রুতি ফি দিতে হবে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে। সেই সঙ্গে চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই ব্যবস্থাপনা ফি বাবদ ৬৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮৪৩ দশমিক ৭৫ ডলার দিতে হবে চীনা এক্সিম ব্যাংককে।

মন্ত্রী বলেন, ‘রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো পদ্মা সেতু পদ্মা রেল প্রকল্প। এর আগে রেলপথে এতবড় কোনো প্রকল্প ছিল না। এই প্রকল্পে অনেক বড় বড় অ্যালিভেটেড সেতু নির্মাণ করা হবে। এমনকি কেরানীগঞ্জ স্টেশনও অ্যালিভেটেড করা হবে।’

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগের ফলে মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও নড়াইল জেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। এতে এসব জেলাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হবে।

কবে নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে- এমন প্রশ্ন মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাজ অনেক দুর এগিয়ে নিয়েছি, খুব দ্রুত এই প্রকল্পের রেলপথের কাজ শুরু করা হবে।’

‘একইদিনে পদ্মাসেতুতে রেল ও যানবাহন চলবে’ আবারও এই কথা তুলে ধরে মুজিবুল হক বলেন, ‘আমরা সেইভাবেই পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রকল্পের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। তিনি যেদিন সময় দেবেন ওইদিনই ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে। এরপরেই মূল কাজ শুরু হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে রেল মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পদ্মাসেতু প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পদ্মাসেতুর কাজ শেষ করার ঘোষণা আছে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কয়েক মাস আগে জানিয়েছিলেন, সেতুর কাজ কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। অবশ্য পরে সড়ক মন্ত্রী একে উড়িয়ে দেন।

কবে হবে পদ্মাসেতু?

ছয় কিলোমিটারেরও দীর্ঘ সেতুর ৪৫০ মিটার এখন অবধি দৃশ্যমান হয়েছে। চলতি মাসেই আরও একটি স্প্যান বসানো হলো সেতু দৃশ্যমান হবে ৬০০ মিটার, অর্থাৎ ১০ ভাগের এক ভাগ।

গত সেপ্টম্বরে প্রথম স্প্যান বসানোর পর মাসে একটি করে স্প্যান বসানোর কথা ছিল। তবে সেটি হয়নি। আর মোট ৪৩টি স্প্যানের মধ্যে চলতি মাসে চারটি বসলেও বাকি থাকবে ৩৯টি। সড়ক মন্ত্রী অবশ্য জানিয়েছেন, শেষ দিকে প্রতি সপ্তাহেই একটি করে স্প্যান বসানো যাবে।