ঢাকা ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল রাষ্ট্র পরিচালানার জন্য অভিজ্ঞতার দরকার আছে: নজরুল ইসলাম একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: তারেক রহমান নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে: আইজিপি

আমি আ’লীগ ছাড়িনি, আ’লীগও আমাকে ছাড়েনি: লতিফ সিদ্দিকী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, আমি আওয়ামী লীগ ছাড়িনি, আওয়ামী লীগও আমাকে ছাড়েনি। আওয়ামী লীগের জন্মদাতাদের মধ্যে আমিও একজন।

তিনি বলেন, কোনো এক সাংবাদিক লিখেছেন আমি নাকি বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা। সন্তানকে বকাঝকা করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। তাই বলে কি মা সন্তানকে মন থেকে তাড়িয়ে দেয়?

লতিফ সিদ্দিকী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এবং ১/১১ সময়ে অনেককেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজও দৃঢ় বিশ্বাসী। শেখ হাসিনার চেয়ে যোগ্য নেতা বাংলাদেশে আর নেই। আমাকে নেতার কাছে আনুগত্যের পরিচয় দিতে হবে না। আনুগত্যে আমি বঙ্গবন্ধুর কাছে গোল্ড মেডেল পেয়েছি, শেখ হাসিনার কাছেও গোল্ড মেডেল পেয়েছি।

শনিবার বিকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল কালিহাতী আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী বিকম।

কিন্তু আলোচনা-সমালোচনায় তারা অবশেষে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে স্বতন্ত্রপ্রার্থী বাংড়া ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবর্ধনায় আওয়ামী লীগের নেতাদের অতিথি করায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সেই কারণে কালিহাতী আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী বিকমসহ আওয়ামী লীগের মূল নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে কী কারণে বিতাড়িত বা বহিস্কৃত হয়েছি, কারাবরণ করেছি সেটা আমিই ভালো জানি। এর আগেও পাঁচ বার বহিষ্কার হয়েছি। কারও বিরুদ্ধে আমার কোনো বিদ্বেষ নেই। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া পছন্দ করি না।

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যেমন বাংলাদেশের সম্পর্ক তেমনই কালিহাতীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক। কালিহাতীর মানুষ আমাকে তৈরি করেছেন। রাজনীতি করি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের সম্মান ও মুক্তির জন্য। তাই সময় ও জনগণ সব সিদ্ধান্ত দিবেন। মোটকথা দেশ ও জাতির স্বার্থে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।

ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাদেরিয়া বাহিনীর বেসামরিক প্রধান, সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত আনোয়ার-উল-আলম শহীদ।

এ সময় বক্তব্য দেন লতিফ সিদ্দিকীর সহধর্মিনী সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনিছুর রহমান আনিছ, কালিহাতী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ তোতা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা, এলেঙ্গা পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র নূর-এ-আলম সিদ্দিকী ও বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসমত আলী প্রমুখ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না

আমি আ’লীগ ছাড়িনি, আ’লীগও আমাকে ছাড়েনি: লতিফ সিদ্দিকী

আপডেট সময় ১১:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, আমি আওয়ামী লীগ ছাড়িনি, আওয়ামী লীগও আমাকে ছাড়েনি। আওয়ামী লীগের জন্মদাতাদের মধ্যে আমিও একজন।

তিনি বলেন, কোনো এক সাংবাদিক লিখেছেন আমি নাকি বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা। সন্তানকে বকাঝকা করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। তাই বলে কি মা সন্তানকে মন থেকে তাড়িয়ে দেয়?

লতিফ সিদ্দিকী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এবং ১/১১ সময়ে অনেককেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজও দৃঢ় বিশ্বাসী। শেখ হাসিনার চেয়ে যোগ্য নেতা বাংলাদেশে আর নেই। আমাকে নেতার কাছে আনুগত্যের পরিচয় দিতে হবে না। আনুগত্যে আমি বঙ্গবন্ধুর কাছে গোল্ড মেডেল পেয়েছি, শেখ হাসিনার কাছেও গোল্ড মেডেল পেয়েছি।

শনিবার বিকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল কালিহাতী আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী বিকম।

কিন্তু আলোচনা-সমালোচনায় তারা অবশেষে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে স্বতন্ত্রপ্রার্থী বাংড়া ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবর্ধনায় আওয়ামী লীগের নেতাদের অতিথি করায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সেই কারণে কালিহাতী আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী বিকমসহ আওয়ামী লীগের মূল নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে কী কারণে বিতাড়িত বা বহিস্কৃত হয়েছি, কারাবরণ করেছি সেটা আমিই ভালো জানি। এর আগেও পাঁচ বার বহিষ্কার হয়েছি। কারও বিরুদ্ধে আমার কোনো বিদ্বেষ নেই। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া পছন্দ করি না।

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যেমন বাংলাদেশের সম্পর্ক তেমনই কালিহাতীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক। কালিহাতীর মানুষ আমাকে তৈরি করেছেন। রাজনীতি করি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের সম্মান ও মুক্তির জন্য। তাই সময় ও জনগণ সব সিদ্ধান্ত দিবেন। মোটকথা দেশ ও জাতির স্বার্থে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।

ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাদেরিয়া বাহিনীর বেসামরিক প্রধান, সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত আনোয়ার-উল-আলম শহীদ।

এ সময় বক্তব্য দেন লতিফ সিদ্দিকীর সহধর্মিনী সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনিছুর রহমান আনিছ, কালিহাতী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ তোতা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা, এলেঙ্গা পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র নূর-এ-আলম সিদ্দিকী ও বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসমত আলী প্রমুখ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।