ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

এসপি হারুনের গোপন বৈঠকের তথ্য রিজভীর কাছে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জেতাতে প্রশাসন এবং পুলিশ ‘উঠেপড়ে’ লেগেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। এই চেষ্টার অংশ হিসেবে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনুর রশীদ গত রাতে টঙ্গীতে ‘গোপন বৈঠক’ করেছেন বলে তথ্য পেয়েছেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘গতকাল রাতে পুলিশি অভিযানের অংশ হিসেবে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ টঙ্গী থানায় পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে রুদ্ধদার বৈঠক করেন। তিনি রাতে টঙ্গীতে অঞ্চলভিত্তিক একটি সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গেও গোপন বৈঠক করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রিজভী।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গণতন্ত্রকে নিরুদ্দেশ করার ফাইনাল কল দিতেই পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে ভোটারদের ওপর দুরমুজ চালানো হচ্ছে।’

আগামী ১৫ মের ভোটকে সামনে রেখে গাজীপুর এবং খুলনায় জোর প্রচার চলছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে দুই মহানগরে ভোট মহাগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় ১৭ লাখ ভোটারের রায়ে সেদিন প্রমাণ হবে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে কারা এই মুহূর্তে জনগণের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।

গাজীপুরে বিএনপি প্রার্থী করেছে হাসান উদ্দিন সরকারকে। তিনি লড়ছেন আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। আর খুলনায় বিএনপি প্রার্থী করেছে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। তিনি লড়ছেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেকের সঙ্গে।

দুই নগরীর মধ্যে গজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনুর রশীদকে প্রত্যাহার করতে ভোটের প্রচার শুরুর আগেই নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিল বিএনপি। সম্প্রতি তার পাশাপাশি খুলনার পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীরকেও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে দেখা করে এসেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

রিজভী বলেন, ‘বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণায় জনতার ঢল দেখে আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে হয়রানি শুরু করেছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারি দলের নৌকা প্রার্থীর পক্ষে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নির্বিচারে আক্রমণ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।’

‘গাজীপুরে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান বাধা এসপি ও খুলনায় পুলিশ কমিশনার। তাদের নির্দেশে দুই সিটিতে পুলিশি তাণ্ডব চলছে। গণতন্ত্রকে নিরুদ্দেশ করার ফাইনাল কল দিতেই এই পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে ভোটারদের ওপর দুরমুজ চালানো হচ্ছে।’

‘নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে সরকারের প্রশ্রয়ে পুলিশ হয়ে উঠেছে স্বেচ্ছাচারি, অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া।’

রিজভী বলেন, ‘ভরাডুবির ভয়ে সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না। আওয়ামী শাসন কখনোই ভোটাধিকার, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর হয়নি। গণমাধ্যমে একতরফা ফলাফল ঘোষণা করাই প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়।’

পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র তৎপরতায় শক্তিমান চাকমাসহ ছয়জন নিহত এবং বেশ কিছুসংখ্যক গুলিবিদ্ধ হওয়া, নরসিংদীতে বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হককে হত্যা আওয়ামী দুঃশাসনের এক ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন রিজভী।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘সরকারের পায়ের তলা থেকে জনসমর্থন সরে গেছে এবং তারা বেআইনি অস্ত্রকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে দুর্বৃত্তদের মাথায় হাত রেখে দেশ চালাচ্ছে বলেই সারাদেশ খুনখারাবিতে ভরে গেছে।’

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সপ্তাহে একদিন স্বজনরা দেখা করতে পারেন। তবে এখন ১০ দিন পর পর দেখা করার আদেশ জারি হবে বলে শুনতে পেয়েছেন রিজভী। সেই বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।

খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া না হলে দেশবাসী আর বসে থাকবে না বলেও সরকারকে সতর্ক করেন বিএনপি নেতা।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন চৌধুরী, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মামুন আহমেদ, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন প্রমুখ সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর ১ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনা

এসপি হারুনের গোপন বৈঠকের তথ্য রিজভীর কাছে

আপডেট সময় ০৩:৩৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জেতাতে প্রশাসন এবং পুলিশ ‘উঠেপড়ে’ লেগেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। এই চেষ্টার অংশ হিসেবে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনুর রশীদ গত রাতে টঙ্গীতে ‘গোপন বৈঠক’ করেছেন বলে তথ্য পেয়েছেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘গতকাল রাতে পুলিশি অভিযানের অংশ হিসেবে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ টঙ্গী থানায় পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে রুদ্ধদার বৈঠক করেন। তিনি রাতে টঙ্গীতে অঞ্চলভিত্তিক একটি সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গেও গোপন বৈঠক করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রিজভী।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গণতন্ত্রকে নিরুদ্দেশ করার ফাইনাল কল দিতেই পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে ভোটারদের ওপর দুরমুজ চালানো হচ্ছে।’

আগামী ১৫ মের ভোটকে সামনে রেখে গাজীপুর এবং খুলনায় জোর প্রচার চলছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে দুই মহানগরে ভোট মহাগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় ১৭ লাখ ভোটারের রায়ে সেদিন প্রমাণ হবে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে কারা এই মুহূর্তে জনগণের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।

গাজীপুরে বিএনপি প্রার্থী করেছে হাসান উদ্দিন সরকারকে। তিনি লড়ছেন আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। আর খুলনায় বিএনপি প্রার্থী করেছে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। তিনি লড়ছেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেকের সঙ্গে।

দুই নগরীর মধ্যে গজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনুর রশীদকে প্রত্যাহার করতে ভোটের প্রচার শুরুর আগেই নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিল বিএনপি। সম্প্রতি তার পাশাপাশি খুলনার পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীরকেও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে দেখা করে এসেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

রিজভী বলেন, ‘বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণায় জনতার ঢল দেখে আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে হয়রানি শুরু করেছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারি দলের নৌকা প্রার্থীর পক্ষে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নির্বিচারে আক্রমণ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।’

‘গাজীপুরে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান বাধা এসপি ও খুলনায় পুলিশ কমিশনার। তাদের নির্দেশে দুই সিটিতে পুলিশি তাণ্ডব চলছে। গণতন্ত্রকে নিরুদ্দেশ করার ফাইনাল কল দিতেই এই পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে ভোটারদের ওপর দুরমুজ চালানো হচ্ছে।’

‘নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে সরকারের প্রশ্রয়ে পুলিশ হয়ে উঠেছে স্বেচ্ছাচারি, অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া।’

রিজভী বলেন, ‘ভরাডুবির ভয়ে সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না। আওয়ামী শাসন কখনোই ভোটাধিকার, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর হয়নি। গণমাধ্যমে একতরফা ফলাফল ঘোষণা করাই প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়।’

পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র তৎপরতায় শক্তিমান চাকমাসহ ছয়জন নিহত এবং বেশ কিছুসংখ্যক গুলিবিদ্ধ হওয়া, নরসিংদীতে বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হককে হত্যা আওয়ামী দুঃশাসনের এক ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন রিজভী।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘সরকারের পায়ের তলা থেকে জনসমর্থন সরে গেছে এবং তারা বেআইনি অস্ত্রকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে দুর্বৃত্তদের মাথায় হাত রেখে দেশ চালাচ্ছে বলেই সারাদেশ খুনখারাবিতে ভরে গেছে।’

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সপ্তাহে একদিন স্বজনরা দেখা করতে পারেন। তবে এখন ১০ দিন পর পর দেখা করার আদেশ জারি হবে বলে শুনতে পেয়েছেন রিজভী। সেই বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।

খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া না হলে দেশবাসী আর বসে থাকবে না বলেও সরকারকে সতর্ক করেন বিএনপি নেতা।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন চৌধুরী, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মামুন আহমেদ, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন প্রমুখ সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন।