অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার সময় প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিচার চান বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ওই রায়ের ফলে দেশে ‘ভেজাল গণতন্ত্র’ এসেছে বলেও দাবি চীনপন্থী সাবেক এই বাম নেতার।
শুক্রবার সুপ্রিমকোর্টের শামছুল হক চৌধুরী হলে ‘আইনের শাসন ও গণতন্ত্র’শীর্ষক এ মতবিনিময়ে এ কথা বলেন জাফরুল্লাহ। এই সভার আয়োজন করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। সমিতির নেতৃত্বে থাকা প্রায় সবাই বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত।
জাফরুল্লাহ রাজনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী করেছেন সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা উঠে যাওয়াকে। আর এই রায় দেয়া বেঞ্চে থাকা খায়রুল হককেই তিনি দায়ী করছেন।
চীনপন্থী সাবেক বাম নেতা জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন ভেজাল গণতন্ত্র চলছে। আর ভেজাল গণতন্ত্র যেখানে সেখানে আইনের শাসন চলতে পারে না। এই ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিচারপতি খায়রুল হকের ভূমিকা রয়েছে। সেখান থেকেই ভেজাল গণতন্ত্রের শুরু। এমন লোকের বিচার কি কখনও হবে?’
আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে বিএনপি ১৯৯৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক প্রবর্তন করলেও সেটি উচ্চ আদালতে বাতিল হয়েছে আওয়ামী লীগের গত আমলে। এরপর সরকার আগের মতোই নির্বাচিত সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করে।
আপিল বিভাগের যে বেঞ্চে এই বিষয়টি নিয়ে শুনানি হয়েছিল সেখানে ছিলেন সে সময়ের প্রধান বিচারপতি ও বর্তমানে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল হক।
আর উচ্চ আদালতে অবৈধ ঘোষণা করা সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি-জামায়াত জোট এবং সমমনারা।
সংবিধানের বিধানের বাইরে গিয়ে অনুযায়ী নির্বাচন করা সম্ভর নয়, এটা জানিয়ে দিয়েছে সরকার। তবে এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে-এমন ঘোষণা এখনও আসেনি। তাই আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারির নির্বাচনও অংশগ্রহণমূলক হবে কি না, এ নিয়ে সংশয় কাটছে না।
আলোচনায় এবারের ছাত্রলীগের কমিটি শেখ হাসিনা নিজে দেবেন বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এ নিয়েও কথা বলেন জাফরুল্লাহ। বলেন, ‘সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ছাত্রলীগকে সাচ্চা বানাবেন। প্রশ্ন হলো ‘সাচ্চা’ ছাত্রলীগ করবেন, ঠিক আছে। কিন্তু ‘সাচ্চা’ আওয়ামী লীগ কীভাবে করবেন। আপনার আত্মীয়ের বাবা তো শান্তি কমিটিতে ছিলেন। এর সুরাহা কীভাবে করবেন?’
মতবিনিময় সভায় আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘দেশে আইনের শাসনের পতনের শুরু ৭৪ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে। এরপর থেকে পতনের মাধ্যমে ৮৮ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়, ৯০ দশকে কিছুটা ছিল। এর ২০০০ এর পর চিতা, কোবরা দিয়ে আইনের শাসন নিম্নমুখী যাত্রা শুরু করে। এখন সেটা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।’
সমাজ সাংঘাতিকভাবে বিভাজিত উল্লেখ করে জনাব মালিক বলেন, ‘সমাজে বিভাজন থাকে, রাজনৈতিক কারণে বিভাজন হয়। কিন্তু আজকে দেশ দুইটি জাতিতে পরিণত হয়েছে। দেশে এতো বিভাজন হতয়েছে যে এখন সমাজে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয় না, আমরা ওই জায়গায় চলে গেছি।’
‘এই সমস্ত হয়েছে পেশাজীবীদের লেজুরবৃত্তির কারণে। পেশাজীবীদের লেজুরবৃত্তি ছাড়তে হবে।’
গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, বিএনপি নেতা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রমুখ এ সময় বক্তব্য দেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















