ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন শি জিনপিং ইলিয়াস মোল্লাহর জমি–গাড়ি–মার্কেট–ফ্ল্যাট জব্দ, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ ময়মনসিংহে জনসভায় যোগ দিয়েছেন তারেক রহমান সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে টেকনাফে দুই কিশোর আহত আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া ‘চরম অপমান’: শফিকুর রহমান বাংলাদেশি‌দের জন্য ওয়ার্ক ভিসা চালুর আশ্বাস ওমানের শ্রমমন্ত্রীর ‘আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর’ ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা সেই জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদের

শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার ডাকে পালিত হচ্ছে মে দিবস

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘দুনিয়ার মজদুর ভাইসব/আয় এক মিছিলে দাঁড়া/নয়া জমানার ডাক এসেছে/এক সাথে দে সাড়া…’। এ গণসঙ্গীতে রয়েছে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার ডাক। এ অধিকার শোষন ও শ্রমনিপীড়ন থেকে মুক্তির। এ মহান দাবি নিয়ে প্রতিবছরের মতো পালিত হচ্ছে শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক দিবস- মে দিবস।

এদিন বিশ্বের মাঠে-ঘাটে, কল-কারখানায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছিল। দিনটি মেহনতি মানুষের বিজয় ও আনন্দ উৎসবের। এদিনকে কেন্দ্র করে নানা কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন শ্রমিক অধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক-সংস্কৃতিক সংস্থা। ব্যানারে, ফেস্টুনে মিছিলে, সঙ্গীতে, বাদ্যে তারা ডাক তুলেছে শ্রমিক শোষনের বিরুদ্ধে। এ ডাকে সমবেত হয়েছেন নানা পেশার শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার সকাল ৯ টা থেকে রাজধানীর পল্টন মোড়, মুক্তাঙ্গন এলাকা, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কসহ মতিঝিল এলাকা জুড়ে শত শত শ্রমিক ব্যানারে ব্যানারে মিছিল ও সমাবেশ করেছে। বিভিন্ন পেশার শ্রমিকরা লাল পতাকা হাতে নিয়ে উল্লাসসহকারে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করেছেন রাজধানী।

এদিন সকাল থেকেই মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন পেশার শ্রমিকরা লাল পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। পতাকার পাশাপাশি অনেকের হাতে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। সেই বাদ্যযন্ত্রের তালে-তালে আনন্দে মেতে উঠছেন খেটেখাওয়া শ্রমিকরা। কেউ কেউ পিকআপে চড়ে উল্লাসে মেতে উঠেন।

১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের শ্রমিকেরা যে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলন করে জীবন দিয়েছিলেন, সেই আত্মদানের পথ ধরেই সারা বিশ্বে মহান মে দিবস পালিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস এ দিন। এই দিবসটিতে তাঁরা এই বার্তাই বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেন যে মানবসভ্যতা বিনির্মাণে শ্রমিকদেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে আজ সরকারি ছুটিসহ যথাযোগ্য সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে দিবসটি। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের শ্রমিকেরাও উৎসাহ–উদ্দীপনার সঙ্গে মে দিবস পালন করছেন। বাংলাদেশে এ বছর মে দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘শ্রমিক-মালিক গড়ব দেশ; এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

ফকিরাপুল এলাকায় মিছিলে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে উল্লাসে মেতে ছিলেন সাব্বির মিয়া নামের একজন শ্রমিক। তার এ আনন্দের কারন জানতে চাইলে দৈনিক আকাশকে সাব্বির বলেন, ‘আজ মে দিবস। এই দিন আমাদের মতো শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। এ জন্য আজ আর কোনও কাজ নয়। আজ শুধুই আনন্দের দিন। আমাদের পূর্বসূরীরা রক্ত দিয়ে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন।’

পল্টন এলাকায় ওয়ার্কাস পার্টির কর্মীদের অংশগ্রহণে বের হওয়া অপর একটি মিছিলে অংশ নেয়া গার্মেন্ট শ্রমিক নাহিদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘মে দিবস শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। শ্রমিকদের রক্তের বিনিময়ে এ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণেই লাল পতাকা হাতে রাস্তায় নেমেছি।’

অন্য একটি মিছিলে অংশ নেয়া গার্মেন্ট শ্রমিক সমির দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘শুনেছি আজ থেকে বহু বছর আগে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকরা আমেরিকাতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। শ্রমিকদের সেই আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। সেই থেকে মে দিবস পালিত হয়ে আসছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন শি জিনপিং

শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার ডাকে পালিত হচ্ছে মে দিবস

আপডেট সময় ০৬:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘দুনিয়ার মজদুর ভাইসব/আয় এক মিছিলে দাঁড়া/নয়া জমানার ডাক এসেছে/এক সাথে দে সাড়া…’। এ গণসঙ্গীতে রয়েছে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার ডাক। এ অধিকার শোষন ও শ্রমনিপীড়ন থেকে মুক্তির। এ মহান দাবি নিয়ে প্রতিবছরের মতো পালিত হচ্ছে শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক দিবস- মে দিবস।

এদিন বিশ্বের মাঠে-ঘাটে, কল-কারখানায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছিল। দিনটি মেহনতি মানুষের বিজয় ও আনন্দ উৎসবের। এদিনকে কেন্দ্র করে নানা কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন শ্রমিক অধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক-সংস্কৃতিক সংস্থা। ব্যানারে, ফেস্টুনে মিছিলে, সঙ্গীতে, বাদ্যে তারা ডাক তুলেছে শ্রমিক শোষনের বিরুদ্ধে। এ ডাকে সমবেত হয়েছেন নানা পেশার শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার সকাল ৯ টা থেকে রাজধানীর পল্টন মোড়, মুক্তাঙ্গন এলাকা, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কসহ মতিঝিল এলাকা জুড়ে শত শত শ্রমিক ব্যানারে ব্যানারে মিছিল ও সমাবেশ করেছে। বিভিন্ন পেশার শ্রমিকরা লাল পতাকা হাতে নিয়ে উল্লাসসহকারে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করেছেন রাজধানী।

এদিন সকাল থেকেই মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন পেশার শ্রমিকরা লাল পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। পতাকার পাশাপাশি অনেকের হাতে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। সেই বাদ্যযন্ত্রের তালে-তালে আনন্দে মেতে উঠছেন খেটেখাওয়া শ্রমিকরা। কেউ কেউ পিকআপে চড়ে উল্লাসে মেতে উঠেন।

১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের শ্রমিকেরা যে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলন করে জীবন দিয়েছিলেন, সেই আত্মদানের পথ ধরেই সারা বিশ্বে মহান মে দিবস পালিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস এ দিন। এই দিবসটিতে তাঁরা এই বার্তাই বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেন যে মানবসভ্যতা বিনির্মাণে শ্রমিকদেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে আজ সরকারি ছুটিসহ যথাযোগ্য সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে দিবসটি। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের শ্রমিকেরাও উৎসাহ–উদ্দীপনার সঙ্গে মে দিবস পালন করছেন। বাংলাদেশে এ বছর মে দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘শ্রমিক-মালিক গড়ব দেশ; এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

ফকিরাপুল এলাকায় মিছিলে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে উল্লাসে মেতে ছিলেন সাব্বির মিয়া নামের একজন শ্রমিক। তার এ আনন্দের কারন জানতে চাইলে দৈনিক আকাশকে সাব্বির বলেন, ‘আজ মে দিবস। এই দিন আমাদের মতো শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। এ জন্য আজ আর কোনও কাজ নয়। আজ শুধুই আনন্দের দিন। আমাদের পূর্বসূরীরা রক্ত দিয়ে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন।’

পল্টন এলাকায় ওয়ার্কাস পার্টির কর্মীদের অংশগ্রহণে বের হওয়া অপর একটি মিছিলে অংশ নেয়া গার্মেন্ট শ্রমিক নাহিদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘মে দিবস শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। শ্রমিকদের রক্তের বিনিময়ে এ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণেই লাল পতাকা হাতে রাস্তায় নেমেছি।’

অন্য একটি মিছিলে অংশ নেয়া গার্মেন্ট শ্রমিক সমির দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘শুনেছি আজ থেকে বহু বছর আগে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকরা আমেরিকাতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। শ্রমিকদের সেই আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। সেই থেকে মে দিবস পালিত হয়ে আসছে।’