ঢাকা ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

কিশোরীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করায় সর্দারনীসহ ৩ এনজিওকর্মী আটক

আটক এনজিও কর্মীরা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিদেশি দাতা সংস্থার অর্থায়নে যৌনকর্মীদের সন্তানদের সুরক্ষা এবং লেখাপড়ার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় শাপলা মহিলা সংস্থার নামে এক এনজিওর বিরুদ্ধে কিশোরীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই এনজিওর তিন কর্মী ও পতিতাপল্লীর এক সর্দারনীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য হওয়া (১৬) এক কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতদের কোতোয়ালি থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আটকরা হলেন শাপলা মহিলা সংস্থার অফিস সহকারী রিনা সাহা (৩৮), অফিসের সিকিউরিটি গার্ড ইউনুস শেখ (৪০), আয়া রুবি আক্তার (৫০)। এছাড়াও পতিতাপল্লীর নারী সর্দার তানিয়া বেগমকেও আটক করা হয়। আর উদ্ধার হওয়া কিশোরী (১৬) কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানার রুদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা।

সোমবার ফরিদপুরের আদালতপাড়া থেকে এনজিও কর্মীদের ও পতিতাপল্লী থেকে সর্দারনীকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানার রুদ্রপুর গ্রামের কিশোরীর বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ নেন। গত রোববার অন্য দিনের মতো সকালের শিফটে কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে এক ব্যক্তি বেশি বেতনে অন্য গার্মেন্টসে কাজ দেয়ার কথা বলে।

একপর্যায়ে ওই কিশোরীকে কোমল পানীয়র সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে তাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসে দালালচক্র। জ্ঞান ফেরার পর কিশোরী দেখতে পায় সে ফরিদপুরের রথখোলা পতিতাপল্লীতে রয়েছেন।

নির্যাতিতা বলেন, সোমবার পতিতাপল্লীতে থাকা দুই নারী তাকে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়ে অটোরিকশায় করে আদালতপাড়ায় নিয়ে যায়। আদালতপাড়ায় নেয়ার পর ওই দুই নারীর কথাবার্তায় আমার সন্দেহ হয়।

আমি বুঝতে পারি ওরা আমাকে নিয়ে কিছু করার চেষ্টা করছে। আমাকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার জন্য আদালতে এফিডেভিট করা হবে এটি বুঝতে পেরে আমি খাবারের কথা বলে আদালত এলাকা থেকে বের হয়ে আসি। পরে হোটেলে গিয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা তাদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শাপলা মহিলা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে পতিতাপল্লীতে কাজ করছে। পতিতাদের নিয়ে কাজ করার আড়ালে তাদের কর্মীরা নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার পরিচালককে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

শাপলা মহিলা সংস্থার পরিচালক চঞ্চলা মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যৌনকর্মীদের নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছি। কীভাবে কী হয়ে গেল বুঝতে পারছি না। বর্তমানে আমি ফরিদপুরের বাইরে আছি। এ বিষয়ে ফরিদপুরে এসে কথা বলব।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ওসি এএফএম নাসিম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পতিতাবৃত্তির কাজের এফিডেভিট করতে তারা মেয়েটিকে আদালতপাড়ায় নিয়ে গিয়েছিল। মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয় জনতা তাদের ধরে ফেলে। খবর পেয়ে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং এনজিওর তিন কর্মী এবং পতিতাপল্লী থেকে আরও একজনকে আটক করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

কিশোরীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করায় সর্দারনীসহ ৩ এনজিওকর্মী আটক

আপডেট সময় ০৯:০৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিদেশি দাতা সংস্থার অর্থায়নে যৌনকর্মীদের সন্তানদের সুরক্ষা এবং লেখাপড়ার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় শাপলা মহিলা সংস্থার নামে এক এনজিওর বিরুদ্ধে কিশোরীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই এনজিওর তিন কর্মী ও পতিতাপল্লীর এক সর্দারনীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য হওয়া (১৬) এক কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতদের কোতোয়ালি থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আটকরা হলেন শাপলা মহিলা সংস্থার অফিস সহকারী রিনা সাহা (৩৮), অফিসের সিকিউরিটি গার্ড ইউনুস শেখ (৪০), আয়া রুবি আক্তার (৫০)। এছাড়াও পতিতাপল্লীর নারী সর্দার তানিয়া বেগমকেও আটক করা হয়। আর উদ্ধার হওয়া কিশোরী (১৬) কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানার রুদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা।

সোমবার ফরিদপুরের আদালতপাড়া থেকে এনজিও কর্মীদের ও পতিতাপল্লী থেকে সর্দারনীকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানার রুদ্রপুর গ্রামের কিশোরীর বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ নেন। গত রোববার অন্য দিনের মতো সকালের শিফটে কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে এক ব্যক্তি বেশি বেতনে অন্য গার্মেন্টসে কাজ দেয়ার কথা বলে।

একপর্যায়ে ওই কিশোরীকে কোমল পানীয়র সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে তাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসে দালালচক্র। জ্ঞান ফেরার পর কিশোরী দেখতে পায় সে ফরিদপুরের রথখোলা পতিতাপল্লীতে রয়েছেন।

নির্যাতিতা বলেন, সোমবার পতিতাপল্লীতে থাকা দুই নারী তাকে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়ে অটোরিকশায় করে আদালতপাড়ায় নিয়ে যায়। আদালতপাড়ায় নেয়ার পর ওই দুই নারীর কথাবার্তায় আমার সন্দেহ হয়।

আমি বুঝতে পারি ওরা আমাকে নিয়ে কিছু করার চেষ্টা করছে। আমাকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার জন্য আদালতে এফিডেভিট করা হবে এটি বুঝতে পেরে আমি খাবারের কথা বলে আদালত এলাকা থেকে বের হয়ে আসি। পরে হোটেলে গিয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা তাদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শাপলা মহিলা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে পতিতাপল্লীতে কাজ করছে। পতিতাদের নিয়ে কাজ করার আড়ালে তাদের কর্মীরা নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার পরিচালককে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

শাপলা মহিলা সংস্থার পরিচালক চঞ্চলা মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যৌনকর্মীদের নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছি। কীভাবে কী হয়ে গেল বুঝতে পারছি না। বর্তমানে আমি ফরিদপুরের বাইরে আছি। এ বিষয়ে ফরিদপুরে এসে কথা বলব।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ওসি এএফএম নাসিম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পতিতাবৃত্তির কাজের এফিডেভিট করতে তারা মেয়েটিকে আদালতপাড়ায় নিয়ে গিয়েছিল। মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয় জনতা তাদের ধরে ফেলে। খবর পেয়ে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং এনজিওর তিন কর্মী এবং পতিতাপল্লী থেকে আরও একজনকে আটক করা হয়।