ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

প্রধানমন্ত্রী এখন ক্ষতবিক্ষত হয়ে আর্তনাদ করছেন: রিজভী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির ‘কিছু করতে না পেরে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘আর্তনাদ’ শুনেছেন রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও নেতাকর্মীদের চরম দমন পীড়ন চালিয়েও দলের কিছু করতে না পেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর সহ্য করতে পারছেন না। ক্ষতবিক্ষত হয়ে এখন আর্তনাদ করছেন।’

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘ফিউচার অফ বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন আয়োজিত ‘গণতন্ত্রহীনতা বনাম জবাবদিহিতা’ শিরোনামে তরুণদের সঙ্গে ‘মুক্ত আলোচনায়’ অংশ নেন বিএনপি নেতা।

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভাবছেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে এতো দমন পীড়ন করছি, নেতাকর্মীদের এতো নির্যাতন করছি, তারপরও বিএনপি এতো ঐক্যবদ্ধ। লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এগুলো শেখ হাসিনা আর সহ্য করতে পারছেন না। ক্ষত বিক্ষত হয়ে এখন আর্তনাদ করছেন।’

‘দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। এখানে রাতের অন্ধকারে যেকোনো যুবক অদৃশ্য হয়ে যায়। গুম করা হয়।’

‘কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের তিনজনকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে লন্ডনে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে এড়িয়ে গেছেন, উত্তর দেননি।’

‘বলেছেন তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনা হবে। এখানেই তো তার জ্বালা, এখানেই তো তার ভয় ও বিদ্বেষ।’

রিজভী বলেন, ‘বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্ট গঠন করেছেন। সেই পার্লামেন্টের প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি এতো অহংকার করেন। একে ধমকান তাকে ধমকান। বিরোধী পক্ষকে দেখে নেবেন বলেন। কীভাবে তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে আনবেন এসব বলে বেড়ান।’

‘লন্ডনকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ও যাকে বলা হয় গণতন্ত্রের আতুড়ঘর। সেখান থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আপনার দেশে যে মানবাধিকার নেই, নাগরিক অধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই।’

‘মিশরের সিসির কথা শুনেছেন। হাসিনার মতো একতরফা নির্বাচন করে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। সেখানেও উন্নয়ন হয়, মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে নাগরিকরা চিকিৎসা পায় না। স্ত্রীর থেকে, ছেলে-মেয়ের কাছ থেকে দূরে কোনো নালায় মরদেহ পড়ে থাকে।’

রিজভী বলেন, ‘জনগণের টাকায় অস্ত্র কিনে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনকে বলে দেয়া হয়েছে ভরে রাখতে। মিছিল দেখলেই গুলি করবে। একটা নির্দয় সরকারের দুঃশাসন চলছে বলেই এটা বলা সম্ভব।’

সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে তালবাহানা করছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) চাইছেন ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা হোক। কিন্তু সরকার সেটা দেবে না।’

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, ‘শেখ হাসিনার সময় আছে আর মাত্র আট মাস। এরপর তাকে নির্বাচন দিতে হবে। গদি ছাড়তে হবে। জনগণ বুঝে গেছে খালেদা জিয়াকে ছাড়া এই দেশকে বাঁচানোর আর কোনো উপায় নেই।’

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক মো. উজ্জল, সদস্য সচিব শওকত আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদ বিন হাসান, শাহাদাত হোসেন মিশু, রুবেল মিয়া, মেহেদী কাওসার শাহিন, মো. সোহাগ, মাহাদী হাসান সাদবিনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও থানা ছাত্রদলের নেতারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী এখন ক্ষতবিক্ষত হয়ে আর্তনাদ করছেন: রিজভী

আপডেট সময় ০৬:৫৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির ‘কিছু করতে না পেরে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘আর্তনাদ’ শুনেছেন রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও নেতাকর্মীদের চরম দমন পীড়ন চালিয়েও দলের কিছু করতে না পেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর সহ্য করতে পারছেন না। ক্ষতবিক্ষত হয়ে এখন আর্তনাদ করছেন।’

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘ফিউচার অফ বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন আয়োজিত ‘গণতন্ত্রহীনতা বনাম জবাবদিহিতা’ শিরোনামে তরুণদের সঙ্গে ‘মুক্ত আলোচনায়’ অংশ নেন বিএনপি নেতা।

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভাবছেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে এতো দমন পীড়ন করছি, নেতাকর্মীদের এতো নির্যাতন করছি, তারপরও বিএনপি এতো ঐক্যবদ্ধ। লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এগুলো শেখ হাসিনা আর সহ্য করতে পারছেন না। ক্ষত বিক্ষত হয়ে এখন আর্তনাদ করছেন।’

‘দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। এখানে রাতের অন্ধকারে যেকোনো যুবক অদৃশ্য হয়ে যায়। গুম করা হয়।’

‘কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের তিনজনকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে লন্ডনে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে এড়িয়ে গেছেন, উত্তর দেননি।’

‘বলেছেন তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনা হবে। এখানেই তো তার জ্বালা, এখানেই তো তার ভয় ও বিদ্বেষ।’

রিজভী বলেন, ‘বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্ট গঠন করেছেন। সেই পার্লামেন্টের প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি এতো অহংকার করেন। একে ধমকান তাকে ধমকান। বিরোধী পক্ষকে দেখে নেবেন বলেন। কীভাবে তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে আনবেন এসব বলে বেড়ান।’

‘লন্ডনকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ও যাকে বলা হয় গণতন্ত্রের আতুড়ঘর। সেখান থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আপনার দেশে যে মানবাধিকার নেই, নাগরিক অধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই।’

‘মিশরের সিসির কথা শুনেছেন। হাসিনার মতো একতরফা নির্বাচন করে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। সেখানেও উন্নয়ন হয়, মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে নাগরিকরা চিকিৎসা পায় না। স্ত্রীর থেকে, ছেলে-মেয়ের কাছ থেকে দূরে কোনো নালায় মরদেহ পড়ে থাকে।’

রিজভী বলেন, ‘জনগণের টাকায় অস্ত্র কিনে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনকে বলে দেয়া হয়েছে ভরে রাখতে। মিছিল দেখলেই গুলি করবে। একটা নির্দয় সরকারের দুঃশাসন চলছে বলেই এটা বলা সম্ভব।’

সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে তালবাহানা করছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) চাইছেন ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা হোক। কিন্তু সরকার সেটা দেবে না।’

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, ‘শেখ হাসিনার সময় আছে আর মাত্র আট মাস। এরপর তাকে নির্বাচন দিতে হবে। গদি ছাড়তে হবে। জনগণ বুঝে গেছে খালেদা জিয়াকে ছাড়া এই দেশকে বাঁচানোর আর কোনো উপায় নেই।’

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক মো. উজ্জল, সদস্য সচিব শওকত আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদ বিন হাসান, শাহাদাত হোসেন মিশু, রুবেল মিয়া, মেহেদী কাওসার শাহিন, মো. সোহাগ, মাহাদী হাসান সাদবিনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও থানা ছাত্রদলের নেতারা।