ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী সীমান্তে বিজিবি এখন সাহস ফিরে পেয়েছে: রাশেদ খান জনবান্ধব নয় গরিবের ওপর চাপানো বাজেট:সংসদে রফিকুল ইসলাম খান বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ আটক যেপথে গেছেন শেখ হাসিনা, সেপথে যাবেন তারেক রহমান: মামুনুল হক চাঁদাবাজির সাজা এখন মুচলেকা: সংসদে জামায়াতের টিপ্পনি কক্সবাজার যাওয়ার পথে রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া শিশু ফিরে পেল পাকিস্তানি পরিবার ঢাকা-কুয়ালালামপুর কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় বদির অনুপস্থিতিতে মাদকের ‘দায়িত্বে’ কে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন গয়েশ্বর

আমি সীমিত আয়ের মানুষ: কেসিসি মেয়র প্রার্থী মঞ্জু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, “আমি সীমিত আয়ের মানুষ। আমার পিতার একটি বাড়ি আছে, দুটি বিল্ডিং চারতলা ও একতলা।

সেখান থেকে ৩০/৩২ হাজার টাকার মতো ভাড়া পাই। আমি কয়েকবার ব্যবসা করার চেষ্টা করে উদ্যোগ নিয়েছি, কিন্তু সফল হইনি। আমার স্ত্রীর ও আমাদের বাড়িভাড়া মিলে পৌনে পাঁচ লাখ টাকা বার্ষিক আয়।

আমার দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ তাদের মামারাই বহন করেন। আমার মেয়ে চারটি টিউশনি করে তার পড়ার খরচ নির্বাহ করছে। এটা আমি বলতে চাইনি।

যেহেতু আওয়ামী লীগের নেতারা কুইঙ্গিত করেছেন, যাতে আমি আহত হয়েছি। বাংলাদেশের কোনো এমপি বা বড় নেতার সন্তানেরা হাউস টিউটর হয় আমার জানা নেই।

আমার দুই সন্তান হাউস টিউটর। আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি এটা আমার সন্তানদের ত্যাগ”।

বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে গত মঙ্গলবার মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় ।

সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জু আরও বলেন, “আমার আর মনি ভাইয়ের একটা যৌথ লাইসেন্স আছে সিএন্ডএফের। যদিও সেটায় কাজ করা যায় না। আমি নিজে কয়েক বছর চেষ্টা করেও মোংলা বন্দরের কোনো কাজ ধরতে পারি নাই”।

তিনি বলেন, আমার একটি গাড়ি আছে, যেটি আমি এমপি থাকাকালীন শুল্কমুক্ত পেয়েছিলাম। ২০ লাখ টাকা ব্যাংক লোন ও পৌনে চার লাখ নিজে দিয়ে আমি গাড়িটি কিনেছিলাম। পরে সংসদে প্রাপ্ত সম্মানী থেকে ব্যাংক লোন পরিশোধ করেছি।

আমার যখন অর্থসংকট হয়, তখন আমি গাড়ি ছেড়ে রিকশায় চলাচল করি। মোটরসাইকেলে চলি- সবাই তা জানেন।

আমি কোনো আলীশান বাড়িতে থাকি না; এই শহরের সবচেয়ে ছোট বাসায় ছোট ছোট দুটো রুম নিয়ে আমি থাকি। যার ভাড়া হচ্ছে নয় হাজার টাকা।

আওয়ামী লীগের নেতারা এসব বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন”। সাংবাদিকদের তিনি তার বাসা দেখার আমন্ত্রণ জানান।

তিনি বলেন, আশা করব, তফসিল ঘোষণার পরদিন নির্বাচন কমিশনে নয় দফা দাবির যে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম; সে দাবিগুলো নেমে নিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ রচনা করা হবে।

মঞ্জু বলেন, আমার নিজের নামে কোনো সম্পদ নাই। আমার ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা নাই, আমার নামে কোনো ইউনিভার্সিটি নেই।

অথচ যারা এর মালিক হয়েছেন তারা চালুনির একটা ছিদ্র দেখলেই হাস্যরস করেন। তিনি বলেন, খালেক সাহেবের অনেক নিন্দনীয় কাজ আছে যা আমরা এখন বলতে চাই না।

তিনি বলেছেন, হাটে হাঁড়ি ভাঙবেন! আমি বলছি হাটে হাঁড়ি ভেঙে লাভ নেই। আমরা মুখ খুললে তিনি মুখ রাখতে পারবেন না।

চিংড়ি মাছের ব্যবসা করতে গিয়ে ঘের মালিক, ফ্যাক্টরি মালিকরা দেউলিয়া হয়েছেন, মানুষ পথে নেমেছে আর খালেক সাহেব চিংড়ির ব্যবসা করে অগাধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

একটি পত্রিকায় আলহাজ মিজান সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদ দেখে খারাপ লেগেছে বলে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মিজানকে বহুবার বলেছি, খারাপ মানুষ নিয়ে ঘুরবেন না। ইমেজ সংকটে পড়বেন। আমার ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ইমেজ সংকটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, সহসভাপতি খান আলী মুনসুর, নগর শাখার সহসভাপতি শেখ মুশাররফ হোসেন, আবদুল জলিল খান কালাম প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী

আমি সীমিত আয়ের মানুষ: কেসিসি মেয়র প্রার্থী মঞ্জু

আপডেট সময় ০৪:২২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, “আমি সীমিত আয়ের মানুষ। আমার পিতার একটি বাড়ি আছে, দুটি বিল্ডিং চারতলা ও একতলা।

সেখান থেকে ৩০/৩২ হাজার টাকার মতো ভাড়া পাই। আমি কয়েকবার ব্যবসা করার চেষ্টা করে উদ্যোগ নিয়েছি, কিন্তু সফল হইনি। আমার স্ত্রীর ও আমাদের বাড়িভাড়া মিলে পৌনে পাঁচ লাখ টাকা বার্ষিক আয়।

আমার দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ তাদের মামারাই বহন করেন। আমার মেয়ে চারটি টিউশনি করে তার পড়ার খরচ নির্বাহ করছে। এটা আমি বলতে চাইনি।

যেহেতু আওয়ামী লীগের নেতারা কুইঙ্গিত করেছেন, যাতে আমি আহত হয়েছি। বাংলাদেশের কোনো এমপি বা বড় নেতার সন্তানেরা হাউস টিউটর হয় আমার জানা নেই।

আমার দুই সন্তান হাউস টিউটর। আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি এটা আমার সন্তানদের ত্যাগ”।

বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে গত মঙ্গলবার মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় ।

সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জু আরও বলেন, “আমার আর মনি ভাইয়ের একটা যৌথ লাইসেন্স আছে সিএন্ডএফের। যদিও সেটায় কাজ করা যায় না। আমি নিজে কয়েক বছর চেষ্টা করেও মোংলা বন্দরের কোনো কাজ ধরতে পারি নাই”।

তিনি বলেন, আমার একটি গাড়ি আছে, যেটি আমি এমপি থাকাকালীন শুল্কমুক্ত পেয়েছিলাম। ২০ লাখ টাকা ব্যাংক লোন ও পৌনে চার লাখ নিজে দিয়ে আমি গাড়িটি কিনেছিলাম। পরে সংসদে প্রাপ্ত সম্মানী থেকে ব্যাংক লোন পরিশোধ করেছি।

আমার যখন অর্থসংকট হয়, তখন আমি গাড়ি ছেড়ে রিকশায় চলাচল করি। মোটরসাইকেলে চলি- সবাই তা জানেন।

আমি কোনো আলীশান বাড়িতে থাকি না; এই শহরের সবচেয়ে ছোট বাসায় ছোট ছোট দুটো রুম নিয়ে আমি থাকি। যার ভাড়া হচ্ছে নয় হাজার টাকা।

আওয়ামী লীগের নেতারা এসব বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন”। সাংবাদিকদের তিনি তার বাসা দেখার আমন্ত্রণ জানান।

তিনি বলেন, আশা করব, তফসিল ঘোষণার পরদিন নির্বাচন কমিশনে নয় দফা দাবির যে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম; সে দাবিগুলো নেমে নিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ রচনা করা হবে।

মঞ্জু বলেন, আমার নিজের নামে কোনো সম্পদ নাই। আমার ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা নাই, আমার নামে কোনো ইউনিভার্সিটি নেই।

অথচ যারা এর মালিক হয়েছেন তারা চালুনির একটা ছিদ্র দেখলেই হাস্যরস করেন। তিনি বলেন, খালেক সাহেবের অনেক নিন্দনীয় কাজ আছে যা আমরা এখন বলতে চাই না।

তিনি বলেছেন, হাটে হাঁড়ি ভাঙবেন! আমি বলছি হাটে হাঁড়ি ভেঙে লাভ নেই। আমরা মুখ খুললে তিনি মুখ রাখতে পারবেন না।

চিংড়ি মাছের ব্যবসা করতে গিয়ে ঘের মালিক, ফ্যাক্টরি মালিকরা দেউলিয়া হয়েছেন, মানুষ পথে নেমেছে আর খালেক সাহেব চিংড়ির ব্যবসা করে অগাধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

একটি পত্রিকায় আলহাজ মিজান সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদ দেখে খারাপ লেগেছে বলে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মিজানকে বহুবার বলেছি, খারাপ মানুষ নিয়ে ঘুরবেন না। ইমেজ সংকটে পড়বেন। আমার ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ইমেজ সংকটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, সহসভাপতি খান আলী মুনসুর, নগর শাখার সহসভাপতি শেখ মুশাররফ হোসেন, আবদুল জলিল খান কালাম প্রমুখ।