অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অর্থ ও সম্পদ অর্জন এবং নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, তিনিই বাংলাদেশের একমাত্র ব্যক্তি যিনি স্বচ্ছ, সততা ও ন্যায়নিষ্ঠভাবে রাজনীতি করছেন।
সরকার দলীয় এই সাংসদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে গত ৫ এপ্রিল তাকে তলব করে চিঠি পাঠায় দুদক। চিঠিতে ১৭ এপ্রিল তাকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন সংস্থাটির উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা কে এম মেসবাহ উদ্দিন। প্রায় তিন ঘণ্টার মতো জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুর দেড়টার দিকে কমিশন থেকে বের হন আতিক।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, ‘এর আগেও আমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। কিন্তু শেষে প্রমাণ হয়েছে আমি নির্দোষ।’
প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আতিককে পাঠানো দুদকের নোটিশ সূত্রে জানা যায়, শেরপুর-১ আসনের এই সাংসদের বিরুদ্ধে বিলাসবহুল বাড়ি কেনা, গ্রামে ৩০ একর জমিতে বাগানবাড়ি তৈরি, ঢাকার বসুন্ধরা ও বনশ্রীতে দুটি প্লট, ধানমন্ডি ও গুলশানে দুটি ফ্ল্যাটসহ নামে-বেনামে শত কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, টিআর-কাবিখা, স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্তি থেকে মোটা অঙ্কের টাকা অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হুইপ বলেন, ‘এখন আবার আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি গোষ্ঠী এমন মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসূত অভিযোগ তুলেছে। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যারা অভিযোগ করেছে তাদেরই দায়িত্ব এটা প্রমাণ করা। কে কী করলো সেটা আমার দেখার বিষয় না।’
বিলাসবহুল বাড়ির ব্যয় কীভাবে মিটিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সোনালী ব্যাংকের লোনের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।’
আপনার অনুসারীরাই আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে-এমন প্র্রশ্নের জবাবে সাংসদ আতিক বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্যে এতটুকু আমি প্রমাণ করতে চাই যে, আমি স্বচ্ছ, সততা ও ন্যায়নিষ্ঠভাবে রাজনীতি করি। একটা মাত্র ব্যক্তি বাংলাদেশে, আমি।’
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কারণে সরকারের ভাবমূর্তির কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে না। আমরা এটা চ্যালেঞ্জ করে মোকাবিলা করবো।’
সাংসদ আতিকের অভিযোগের বিষয়ে দুদকের সচিব শামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা অভিযোগ পেলে আমাদেরকে অবশ্যই সেটা নিয়ে তদন্ত করতে হয়। এখানে কোনো ওপর মহলের চাপ থাকে না। আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে তাই আমরা তদন্তের স্বার্থে হুইপ আতিক সাহেবকে তলব করেছি। আমরা কাউকেই হেনস্তা করার জন্য তলব বা তদন্ত করি না।’
চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনের আগেই এই অভিযোগের ওপর দুদকের তদন্তসংক্রান্ত সব কাজই শেষ হবে বলে মন্তব্য করেন দুদক সচিব। বলেন, ‘সাধারণত তদন্ত ১৮০ দিন এবং প্রয়োজনে আরও ৬০ দিনের ভেতর শেষ করার একটি নিয়ম রয়েছে। তবে কোনো কারণে আরও বেশি সময় লাগলে আমরা সেটা নিতে পারি। আমরা যা করছি আইন অনুযায়ীই করছি।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















