অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শক্তিশালী প্রার্থী চাইছিল খুলনা আওয়ামী লীগ। আর তাদের বিবেচনায় সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক সবচেয়ে যোগ্য। আর প্রার্থী হিসেবে তাকে বেছে নেয়ায় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
গত ৩১ মার্চ এই নগরে ভোটের তফসিল হওয়ার পর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ প্রার্থিতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে। কারণ দলের অন্তত আট জন নেতা ভোটে আগ্রহী হলেও তাদেরকে যুতসই মনে করেননি নেতা-কর্মী সমর্থকরা। তারা শুরু থেকেই চাইছিলেন পাঁচ বছর আগে হেরে যাওয়া খালেক আবার নির্বাচন করুন।
কিন্তু খালেক এখন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য। ওই পদ ছেড়ে খুলনায় ভোটে দাঁড়াতে আগ্রহ নেই বলে তিনি দৈনিক আকাশ সহ বেশ কিছু গণমাধ্যমকে জানান।
তবে খুলনা আওয়ামী লীগের মতো কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগও খালেককেই খুলনায় সবচেয়ে ভালো প্রার্থী হিসেবে ধরে নিয়েছিল। আর তিনি যেন সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে নির্বাচন করেন, সেই অনুরোধও তাকে করা হয়। আর তার ছেড়ে দেয়া আসনে স্ত্রী হাবিবুন নাহারনে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টিও জানানো হয় তাকে।
তারপরও খালেদ দলের মনোনয়ন ফরম কেনেননি। তবে মনোনয়ন ফরম কেনা সাত নেতার সঙ্গে তাকেও ডেকে পাঠান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আর স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তে খালেকের হাতেই তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় নৌকা।
দলের এই সিদ্ধান্তে আপাতত স্বস্তিতে খুলনা আওয়ামী লীগ। পাঁচ বছর আগের ভোটে যারা খালেকের নীরব বিরোধিতা করেছেন, তারাও এবার চাইছিলেন প্রার্থী না পাল্টাতে।
এমনিতে খুলনা মহানগরটি স্বাধীনতাবিরোধী দল মুসলিম লীগ অধ্যুষিত এলাকা হিসেবেই পরিচিতি ছিল। আর বিএনপি গঠনের পর দল বিলুপ্ত করে নতুন দলে চলে আসেন মুসলিম লীগের নেতদা-কর্মীরা। এরপর থেকে খুলনায় বেশিরভাগ নির্বাচনেই জিতেছেন বিএনপির প্রার্থীরা।
১৯৭৫ সালের পর ২০০৮ সালের মেয়র নির্বাচনেই প্রথম আওয়ামী লীগের সমর্থনে এই এলাকা থেকে নির্বাচিত হন খালেক। আর পাঁচ বছরে তিনি নগরীর চেহারা অনেকটাই পাল্টে দেন। তবু দলীয় কোন্দলসহ নানা কারণে ২০১৩ সালে তাকে ফিরিয়ে দেয় ভোটাররা।
তারপরও খালেকের একটি অবস্থান বরাবরই খুলনার ভোটারদের মধ্যে আছে। এ কারণে তাকে প্রার্থী ঘোষণা করার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
দলীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর পরই সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে খালেককে জেতাতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
জেলা ও মহানগরের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলা লীগ ও আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের বেশ কিছু নেতা কর্মী দৈনিক আকাশকে বলেন, দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদেরও প্রায় সবাই খালেককে মনোনয়ন দিতে কেন্দ্রে সুপারিশ করেছেন। এতেই বোঝা যায়, দলে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু। তারপরও তিনি যেহেতু ভোট করতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন, তাই তারা কিছুটা সন্দিহান ছিলেন। কারণ, অন্য কোনো প্রার্থী হলে লড়াই করা কঠিন হয়ে যেত।
নেতা-কর্মীরা বলছেন, খালেকের বিকল্প যে নেই সেটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনিই প্রমাণ করেছেন। বিপুল ভোটে জিতলেও তিনি পাঁচ বছরে বলার মতো কোনো কাজ করতে পারেননি। এ কারণে নগরে খালেক কী কী করেছেন, সেটিই এখন নগরবাসীর আলোচনায় সামনে চলে এসেছে।
খুলনা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনায় একজন জনপ্রিয় নেতা। আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয়ে আমরা এক যোগে কাজ করে যাব।’
আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নেতা ও জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর কাজী আবু শাহীন বলেন, ‘তালুকদার আবদুল খালেক প্রার্থী হতে না চাওয়ায় অনেক দ্বিধা- দ্বন্দ্বে ছিলাম। আমরা দলের একজন যোগ্য মেয়র প্রার্থী পেয়েছি। নৌকার জয় সুনিশ্চিত।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















