ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: হাসনাত আবদুল্লাহ চাঁদপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হরমুজে প্রতিটি হামলার জন্য একটি করে ইরানি সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে: ট্রাম্প ২১ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা গত ১৭ বছর দেশে জনগণের নির্বাচিত সরকার ছিল না: খায়রুল কবির খোকন পোশাক শিল্পের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের খেলার পুতুল সৌদি যুবরাজ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ক্রাউন প্রিন্স হলেও বর্তমানে তিনিই সৌদির সর্বময়ক্ষমতার অধিকারী। এমনকি দেশটির পরবর্তী রাজা হতে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন সুসম্পর্ক। বিপরীতে যুবরাজ সালমানের কাছে ইসলায়েল চায় রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এতে সায়ও রয়েছে ক্রাউন প্রিন্সের।

কারণ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে কোনও রাখ-ঢাক না রেখেই কথা বলেছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। আর এতেই এমন আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ও পর্যবেক্ষকরা।

তাদের দাবি, সৌদি যুবরাজ সালমান আসলে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের খেলার পুতুলে পরিণত হয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা বলছেন যুবরাজ মোহাম্মদ তাই বাস্তবায়ন করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রাম জোরদার হওয়ায় নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ কারণে তারা ইরান, হাশত আশ্ শাআবি, হামাস, হিজবুল্লাহ, আনসারুল্লাহর মতো প্রতিরোধ সংগ্রামের বিরোধী হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবকে দিয়ে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন, যাতে অন্য দেশও ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে এগিয়ে আসে।

প্রসঙ্গত, ওই সাক্ষাৎকারে যুবরাজ বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং আমরা যদি ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও শান্তি স্থাপন করতে পারি, তা হলে মিসর, জর্দানসহ পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত আরব দেশগুলো ব্যাপক লাভবান হবে।

যুবরাজের ঘোষণা এমন সময়ে আসলো, যখন ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি দখলদারি থেকে নিজেদের হারানো ঘরবাড়ি উদ্ধারে দুই সপ্তাহের ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচি পালন করছেন। গত শুক্রবার থেকে গাজা-ইসরাইল সীমান্তে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এরই মধ্যে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত এবং এক হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। মুসলিম বিশ্বসহ পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিগুলোও এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেই ইসরাইলের পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফুয়াদ ইব্রাহিম মনে করেন, সৌদি আরবের উগ্র গোষ্ঠীগুলো যাতে রাজার আসন গ্রহণ করতে না পারে, সে জন্য তার আগেই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আমেরিকার আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। তিনি নিজেকে সৌদি আরবের প্রকৃত শাসক ও সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।

সৌদি যুবরাজ পররাষ্ট্রনীতিতেও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি ফিলিস্তিনিদের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন

নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের খেলার পুতুল সৌদি যুবরাজ

আপডেট সময় ১১:৫৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ক্রাউন প্রিন্স হলেও বর্তমানে তিনিই সৌদির সর্বময়ক্ষমতার অধিকারী। এমনকি দেশটির পরবর্তী রাজা হতে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন সুসম্পর্ক। বিপরীতে যুবরাজ সালমানের কাছে ইসলায়েল চায় রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এতে সায়ও রয়েছে ক্রাউন প্রিন্সের।

কারণ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে কোনও রাখ-ঢাক না রেখেই কথা বলেছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। আর এতেই এমন আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ও পর্যবেক্ষকরা।

তাদের দাবি, সৌদি যুবরাজ সালমান আসলে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের খেলার পুতুলে পরিণত হয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা বলছেন যুবরাজ মোহাম্মদ তাই বাস্তবায়ন করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রাম জোরদার হওয়ায় নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ কারণে তারা ইরান, হাশত আশ্ শাআবি, হামাস, হিজবুল্লাহ, আনসারুল্লাহর মতো প্রতিরোধ সংগ্রামের বিরোধী হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবকে দিয়ে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন, যাতে অন্য দেশও ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে এগিয়ে আসে।

প্রসঙ্গত, ওই সাক্ষাৎকারে যুবরাজ বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং আমরা যদি ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও শান্তি স্থাপন করতে পারি, তা হলে মিসর, জর্দানসহ পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত আরব দেশগুলো ব্যাপক লাভবান হবে।

যুবরাজের ঘোষণা এমন সময়ে আসলো, যখন ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি দখলদারি থেকে নিজেদের হারানো ঘরবাড়ি উদ্ধারে দুই সপ্তাহের ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচি পালন করছেন। গত শুক্রবার থেকে গাজা-ইসরাইল সীমান্তে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এরই মধ্যে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত এবং এক হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। মুসলিম বিশ্বসহ পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিগুলোও এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেই ইসরাইলের পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফুয়াদ ইব্রাহিম মনে করেন, সৌদি আরবের উগ্র গোষ্ঠীগুলো যাতে রাজার আসন গ্রহণ করতে না পারে, সে জন্য তার আগেই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আমেরিকার আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। তিনি নিজেকে সৌদি আরবের প্রকৃত শাসক ও সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।

সৌদি যুবরাজ পররাষ্ট্রনীতিতেও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি ফিলিস্তিনিদের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।