ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

জেলখানায় খালেদার ওপর অবিচার হচ্ছে: জাফরুল্লাহ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে বলে মনে করেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তাকে পরিত্যক্ত জেলখানায় রাখায় জীবাণুর মাধ্যমে তিনি সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন বলে মনে করেন জাফরুল্লাহ। তার ভাষ্য ‘জেলখানায় খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণও আছে। তিনি পুরনো কারাগারে রয়েছেন। সেখানকার পরিবেশও অতটা ভালো নয়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু রয়েছে।’

শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন সময় টেলিভিশনের টক শো ‘সম্পাদকীয়’তে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। টক শোতে তার সঙ্গে আরও ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান ও দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খোন্দকার মনিরুজ্জামান। টক শোটি সঞ্চালনা করেন খান মুহাম্মদ রুমেল। টকশোর বিষয় ছিল ‘অসুস্থতা এবং রাজনীতি।’

সম্প্রতি কারাগারে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং সরকার তাকে বিদেশে পাঠাতে চায় বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এ সংক্রান্ত সংবাদের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘পুরনো কারাগারে একাকিত্বে ভুগছেন বেগম জিয়া। জেলখানায় তার মানসিক অবস্থাটাও বিবেচনা করতে হবে। এখানে কারা কর্তৃপক্ষ কিছুটা অমানবিক আচরণ করছে খালেদা জিয়ার সঙ্গে। ওনারা নয়টা দশটার সময় পুরনো ব্রিটিশ আমলের আইন দেখিয়ে খালেদা জিয়া যেখানে আছেন সেখানকার বাতি বন্ধ করে দিচ্ছেন। ওনার ঘুমানোর ওষুধ নেই। উনি ঘুমের ওষুধ পান কি না? অন্যান্য ওষুধ পান কি না। সেখানে যে ডাক্তার আছেন তার অভিজ্ঞতা কেমন সে সম্পর্কেও আমরা জানি না।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. মীজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে পারেন।তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল বলেছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা বিদেশে করা হোক। তিনি হয়তো খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নিয়মিত ফলোআপের অংশ হিসেবে তাকে বিদেশে নিয়ে যেতে বলেছেন। এতে আমি কোনো ক্ষতির কারণ দেখি না। কেননা, তিনি যেহেতু বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং নির্দিষ্ট কোনো একজন ডাক্তারের ফলোআপে আছেন তাই বেগম জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলে কোনো দোষের কিছু নেই। আইনি ব্যবস্থার মধ্যে দিয়েই তিনি বিদেশে যেতে পারেন।’

ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বেগম জিয়া অনেক দিন ধরেই অসুস্থ। তিনি যে আথ্রাইটিস, হাঁটুর ব্যথা এবং উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন সেটা কমবেশি সবাই জানেন। এটা জেলখানায় যাওয়ার আগে থেকেই তিনি ভুগছেন। তবে জেলখানায় গেলে অ্যালার্জি, সংক্রমণ কিংবা চর্মরোগ হতে পারে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে কথাটা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া হাঁটুর চিকিৎসা করাতেন সৌদি আরব কিংবা অন্য কোনো দেশে গিয়ে। সেই অর্থে তিনি যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তবে মির্জা ফখরুল হয়তো ভাবছেন তাকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করালে ভালো হবে। আমি মনে করি জেলখানার নিজস্ব ডাক্তার আছেন। তাদের কাছে রিভিউ করা যায় যে, খালেদা জিয়ার এখনকার অবস্থা কেমন? আমি মনে করি না যে জেলখানার ডাক্তার কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই কোনো কিছু বলে দিচ্ছেন।’

এদিকে বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর বিএনপিতে একটা সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে মনে করেন দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খোন্দকার মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং রুহুল কবীর রিজভী নিজের মতো করে তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত করলেন। বললেন, এটা বিকৃত করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল আলমগীর কিন্তু নিজে বলেননি যে তার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। তাদের দলে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনার কারণে এমনটা হচ্ছে। সেটা থাকতেই পারে একটা বড় দলে। বিভিন্ন দলেই এটা আছে। এখন ক্রাইসিসের সময় সেটা সামনে চলে এসেছে। আসলে ক্রাইসিসের মতো একটা বিষয় একজন একেকভাবে দেখেন। সেখানে তার নিজস্ব মতামত প্রকাশ পায়।’

তবে প্রবীণ এই সাংবাদিক মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু সরকারের হেফাজতে আছেন তাই তার চিকিৎসার বিষয়টা সরকারেরই দেখা উচিত। প্রয়োজনে তার সম্পূর্ণ চেকআপ করে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা যেতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

জেলখানায় খালেদার ওপর অবিচার হচ্ছে: জাফরুল্লাহ

আপডেট সময় ০৪:২৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে বলে মনে করেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তাকে পরিত্যক্ত জেলখানায় রাখায় জীবাণুর মাধ্যমে তিনি সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন বলে মনে করেন জাফরুল্লাহ। তার ভাষ্য ‘জেলখানায় খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণও আছে। তিনি পুরনো কারাগারে রয়েছেন। সেখানকার পরিবেশও অতটা ভালো নয়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু রয়েছে।’

শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন সময় টেলিভিশনের টক শো ‘সম্পাদকীয়’তে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। টক শোতে তার সঙ্গে আরও ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান ও দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খোন্দকার মনিরুজ্জামান। টক শোটি সঞ্চালনা করেন খান মুহাম্মদ রুমেল। টকশোর বিষয় ছিল ‘অসুস্থতা এবং রাজনীতি।’

সম্প্রতি কারাগারে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং সরকার তাকে বিদেশে পাঠাতে চায় বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এ সংক্রান্ত সংবাদের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘পুরনো কারাগারে একাকিত্বে ভুগছেন বেগম জিয়া। জেলখানায় তার মানসিক অবস্থাটাও বিবেচনা করতে হবে। এখানে কারা কর্তৃপক্ষ কিছুটা অমানবিক আচরণ করছে খালেদা জিয়ার সঙ্গে। ওনারা নয়টা দশটার সময় পুরনো ব্রিটিশ আমলের আইন দেখিয়ে খালেদা জিয়া যেখানে আছেন সেখানকার বাতি বন্ধ করে দিচ্ছেন। ওনার ঘুমানোর ওষুধ নেই। উনি ঘুমের ওষুধ পান কি না? অন্যান্য ওষুধ পান কি না। সেখানে যে ডাক্তার আছেন তার অভিজ্ঞতা কেমন সে সম্পর্কেও আমরা জানি না।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. মীজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে পারেন।তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল বলেছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা বিদেশে করা হোক। তিনি হয়তো খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নিয়মিত ফলোআপের অংশ হিসেবে তাকে বিদেশে নিয়ে যেতে বলেছেন। এতে আমি কোনো ক্ষতির কারণ দেখি না। কেননা, তিনি যেহেতু বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং নির্দিষ্ট কোনো একজন ডাক্তারের ফলোআপে আছেন তাই বেগম জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলে কোনো দোষের কিছু নেই। আইনি ব্যবস্থার মধ্যে দিয়েই তিনি বিদেশে যেতে পারেন।’

ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বেগম জিয়া অনেক দিন ধরেই অসুস্থ। তিনি যে আথ্রাইটিস, হাঁটুর ব্যথা এবং উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন সেটা কমবেশি সবাই জানেন। এটা জেলখানায় যাওয়ার আগে থেকেই তিনি ভুগছেন। তবে জেলখানায় গেলে অ্যালার্জি, সংক্রমণ কিংবা চর্মরোগ হতে পারে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে কথাটা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া হাঁটুর চিকিৎসা করাতেন সৌদি আরব কিংবা অন্য কোনো দেশে গিয়ে। সেই অর্থে তিনি যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তবে মির্জা ফখরুল হয়তো ভাবছেন তাকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করালে ভালো হবে। আমি মনে করি জেলখানার নিজস্ব ডাক্তার আছেন। তাদের কাছে রিভিউ করা যায় যে, খালেদা জিয়ার এখনকার অবস্থা কেমন? আমি মনে করি না যে জেলখানার ডাক্তার কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই কোনো কিছু বলে দিচ্ছেন।’

এদিকে বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর বিএনপিতে একটা সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে মনে করেন দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খোন্দকার মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং রুহুল কবীর রিজভী নিজের মতো করে তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত করলেন। বললেন, এটা বিকৃত করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল আলমগীর কিন্তু নিজে বলেননি যে তার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। তাদের দলে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনার কারণে এমনটা হচ্ছে। সেটা থাকতেই পারে একটা বড় দলে। বিভিন্ন দলেই এটা আছে। এখন ক্রাইসিসের সময় সেটা সামনে চলে এসেছে। আসলে ক্রাইসিসের মতো একটা বিষয় একজন একেকভাবে দেখেন। সেখানে তার নিজস্ব মতামত প্রকাশ পায়।’

তবে প্রবীণ এই সাংবাদিক মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু সরকারের হেফাজতে আছেন তাই তার চিকিৎসার বিষয়টা সরকারেরই দেখা উচিত। প্রয়োজনে তার সম্পূর্ণ চেকআপ করে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা যেতে পারে।