ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

শিশু ধর্ষণ বন্ধে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শিশু ধর্ষণ বন্ধ ও ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানালো স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে তারা। শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের হাতে ধর্ষণের প্রতিবাদ সংবলিত বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।

শিশু ধর্ষণ বন্ধে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। দফাগুলো হলো:

১। শিশু ধর্ষণের বিচার দ্রুততার সাথে সমাপ্ত করতে হবে। ধর্ষণকারীর একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তাদেরকে আর্থিক জরিমানা করতে হবে।

২। ধর্ষকের পরিচয় গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশ করতে হবে এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

৩। শিশুদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৪। ধর্ষিতার পরিবারের সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

৫। ধর্ষকের বিচার জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা পরিচালনা করতে হবে।

৬। আদালতে ধর্ষকের পক্ষে আইনবীবীদের আইনি লড়াই না করা।

৭। যারা ধর্ষকের বিচার গ্রাম্য সালিশ বা নামমাত্র অর্থমূল্যে মীমাংসা করতে ইচ্ছা প্রকাশ করবে এবং এর সাথে জড়িত থাকবে তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।

৮। শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতন বন্ধে এবং সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে এবং জেলা পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।

৯। ধর্ষিতার সুন্দর শৈশব এবং ধর্ষিতার পরিবার যেন সমাজে হেয় প্রতিপন্ন না হয় তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।

১০। সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ষণ বন্ধে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে এবং সামাজিক মূল্যবোধের প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন- এর প্রতিষ্ঠাতা ম্ঈুদ হাসান তড়িৎ বলেন, দেশে গত এক বছরে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে শিশু ধর্ষণের সংখ্যা। শুধুমাত্র বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে গত এক বছরে ৫৯৩ জনেরও বেশি শিশু ধর্ষিত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কিছু শিশু শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। এছাড়াও শিশু ধর্ষণের পর তাকে হত্যা, ধর্ষিত শিশুর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কিছু।

ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি শিশুবান্ধব সরকার। সরকার শিশুতোষ বিষয়গুলোতে বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। সেই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের সব অর্জন ম্লান হয়ে যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশু ধর্ষণ বন্ধে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ

আপডেট সময় ০৩:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শিশু ধর্ষণ বন্ধ ও ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানালো স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে তারা। শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের হাতে ধর্ষণের প্রতিবাদ সংবলিত বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।

শিশু ধর্ষণ বন্ধে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। দফাগুলো হলো:

১। শিশু ধর্ষণের বিচার দ্রুততার সাথে সমাপ্ত করতে হবে। ধর্ষণকারীর একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তাদেরকে আর্থিক জরিমানা করতে হবে।

২। ধর্ষকের পরিচয় গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশ করতে হবে এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

৩। শিশুদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৪। ধর্ষিতার পরিবারের সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

৫। ধর্ষকের বিচার জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা পরিচালনা করতে হবে।

৬। আদালতে ধর্ষকের পক্ষে আইনবীবীদের আইনি লড়াই না করা।

৭। যারা ধর্ষকের বিচার গ্রাম্য সালিশ বা নামমাত্র অর্থমূল্যে মীমাংসা করতে ইচ্ছা প্রকাশ করবে এবং এর সাথে জড়িত থাকবে তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।

৮। শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতন বন্ধে এবং সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে এবং জেলা পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।

৯। ধর্ষিতার সুন্দর শৈশব এবং ধর্ষিতার পরিবার যেন সমাজে হেয় প্রতিপন্ন না হয় তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।

১০। সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ষণ বন্ধে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে এবং সামাজিক মূল্যবোধের প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন- এর প্রতিষ্ঠাতা ম্ঈুদ হাসান তড়িৎ বলেন, দেশে গত এক বছরে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে শিশু ধর্ষণের সংখ্যা। শুধুমাত্র বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে গত এক বছরে ৫৯৩ জনেরও বেশি শিশু ধর্ষিত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কিছু শিশু শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। এছাড়াও শিশু ধর্ষণের পর তাকে হত্যা, ধর্ষিত শিশুর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কিছু।

ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি শিশুবান্ধব সরকার। সরকার শিশুতোষ বিষয়গুলোতে বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। সেই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের সব অর্জন ম্লান হয়ে যাবে।