ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

গুঞ্জনে কান দেবেন না গুঞ্জন পরিবেশ নষ্ট করে: রিজভী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ চলে যেতে চাইছেন কি না, এ নিয়ে কোনো ধরনের গুঞ্জনে কান না দিতে বলেছেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গুঞ্জন পরিবেশ নষ্ট করে বলে মনে করেন তিনি।

শনিবার দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমহীগের বক্তব্য বিকৃত করার অভিযোগ আনেন তিনি।

আগের দিন বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দিতে দাবি তোলেন বিএনপি মহাসচিব মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কিছুক্ষণ পর সাংবাদিকদেরকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ ওবায়দুল কাদের বলেন, অসুস্থ হলে খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসা করানো হবে।

এরপরই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশে চলে যাচ্ছেন কি না।

কারণ, একটি জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি এই ধরনের একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল, যাতে বলা হয়, খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে এই শর্ত মানলে বিএনপি নেত্রীর জামিনে বাধা দেবে না সরকার। সরকারের এমনও শর্ত আছে যে, খালেদা জিয়াকে বিদেশে চলে যেতে হবে।

ওই দৈনিকের দাবি অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ওই প্রস্তাব দেন মির্জা ফখরুল নিজে। যদিও ওই খবর প্রকাশের পর মির্জা ফখরুল ওই খবরকে ভিত্তিহীন বলেছেন। একই দিন ওবায়দুল কাদেরও এই খবর সত্য নয় বলে জানিয়েছিলেন।

কিন্তু শুক্রবার ফখরুল এবং কাদেরের বক্তব্যের পর সেই খবর নিয়ে আবার আলোচনা তৈরি হয়।

খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দাবি করে তার মুক্তি চেয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি আমরা এখন তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই, যাতে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেশে হোক বিদেশে হোক আমরা করতে পারি। যেহেতু খালেদা জিয়া এর আগে দেশের বাইরেও চিকিৎসা করিয়েছেন, সেহেতু মুক্তি পেলে তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সরকার কোনো কার্পণ্য করবে না। চিকিৎসকদের বোর্ড যদি খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করার জন্য পরামর্শ দেন তাহলে তাই করা হবে।’

দুই নেতার এই বক্তব্যের পর খালেদা জিয়া সরকারের ‘শর্ত’ মেনে দেশের বাইরে চলে যাবেন কি না, এ নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয় সামাজিক মাধ্যমে। বিএনপির নেতা-কর্মীরাও জানার চেষ্টা করছেন, ভেতরে ভেতরে সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতার চেষ্টা চলছে কি না।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে আসা রিজভীর কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন একজন সাংবাদিক। তিনি বলেন, ‘গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে…’

তবে প্রশ্ন শেষ করতে পারেননি ওই গণমাধ্যমকর্মী। তাকে থামিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, ‘গুঞ্জনে কান দেবেন না। গুঞ্জন সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে।’
রিজভীর দাবি কিছু গণমাধ্যম ফখরুলের বক্তব্য বিকৃত করেছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কারাগারে অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং কারামুক্তির পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে নাকি বিদেশে চিকিৎসা করাবেন-সেই বিষয়ে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুঞ্জনে কান দেবেন না গুঞ্জন পরিবেশ নষ্ট করে: রিজভী

আপডেট সময় ০৩:১৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ চলে যেতে চাইছেন কি না, এ নিয়ে কোনো ধরনের গুঞ্জনে কান না দিতে বলেছেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গুঞ্জন পরিবেশ নষ্ট করে বলে মনে করেন তিনি।

শনিবার দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমহীগের বক্তব্য বিকৃত করার অভিযোগ আনেন তিনি।

আগের দিন বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দিতে দাবি তোলেন বিএনপি মহাসচিব মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কিছুক্ষণ পর সাংবাদিকদেরকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ ওবায়দুল কাদের বলেন, অসুস্থ হলে খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসা করানো হবে।

এরপরই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশে চলে যাচ্ছেন কি না।

কারণ, একটি জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি এই ধরনের একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল, যাতে বলা হয়, খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে এই শর্ত মানলে বিএনপি নেত্রীর জামিনে বাধা দেবে না সরকার। সরকারের এমনও শর্ত আছে যে, খালেদা জিয়াকে বিদেশে চলে যেতে হবে।

ওই দৈনিকের দাবি অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ওই প্রস্তাব দেন মির্জা ফখরুল নিজে। যদিও ওই খবর প্রকাশের পর মির্জা ফখরুল ওই খবরকে ভিত্তিহীন বলেছেন। একই দিন ওবায়দুল কাদেরও এই খবর সত্য নয় বলে জানিয়েছিলেন।

কিন্তু শুক্রবার ফখরুল এবং কাদেরের বক্তব্যের পর সেই খবর নিয়ে আবার আলোচনা তৈরি হয়।

খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দাবি করে তার মুক্তি চেয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি আমরা এখন তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই, যাতে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেশে হোক বিদেশে হোক আমরা করতে পারি। যেহেতু খালেদা জিয়া এর আগে দেশের বাইরেও চিকিৎসা করিয়েছেন, সেহেতু মুক্তি পেলে তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সরকার কোনো কার্পণ্য করবে না। চিকিৎসকদের বোর্ড যদি খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করার জন্য পরামর্শ দেন তাহলে তাই করা হবে।’

দুই নেতার এই বক্তব্যের পর খালেদা জিয়া সরকারের ‘শর্ত’ মেনে দেশের বাইরে চলে যাবেন কি না, এ নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয় সামাজিক মাধ্যমে। বিএনপির নেতা-কর্মীরাও জানার চেষ্টা করছেন, ভেতরে ভেতরে সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতার চেষ্টা চলছে কি না।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে আসা রিজভীর কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন একজন সাংবাদিক। তিনি বলেন, ‘গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে…’

তবে প্রশ্ন শেষ করতে পারেননি ওই গণমাধ্যমকর্মী। তাকে থামিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, ‘গুঞ্জনে কান দেবেন না। গুঞ্জন সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে।’
রিজভীর দাবি কিছু গণমাধ্যম ফখরুলের বক্তব্য বিকৃত করেছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কারাগারে অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং কারামুক্তির পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে নাকি বিদেশে চিকিৎসা করাবেন-সেই বিষয়ে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন।’