ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

ঠান্ডা যুদ্ধের দিকেই এগোচ্ছে রুশ-মার্কিন সম্পর্ক

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে রাশিয়ার। এ দ্বন্দ্বের পরিমাণ দিন দিন যেভাবে বাড়ছে তা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সেই ঠান্ডা যুদ্ধের কথা।

ঠান্ডা যুদ্ধের আশঙ্কা করে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজ।

পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কখনোই সম্পর্ক ভালো ছিলো না রাশিয়ার। তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর থেকে সম্পর্কের এতটা অবনতি কখনো ঘটেনি। দুই দেশের সম্পর্কের এমন অবনতি বর্তমান বিশ্বের জন্য মোটেই ভালো কিছু নয়।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ব্রিটেনের সলসবুরি শহরে নার্ভ এজেন্ট নামের ভয়ঙ্কর বিষপ্রয়োগে সাবেক রুশ গুপ্তচার সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার কন্যা ইউলিয়াকে হত্যাচেষ্টা করা হয়। স্ক্রিপাল বর্তমানে ব্রিটেনের হয়ে কাজ করছিলেন। এমন অবস্থায় ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ ঘটনার জন্য সরাসরি দোষ চায় রাশিয়ার ওপর। তারা রাশিয়া এ ঘটনার দায় দিয়ে জানান, নার্ভ এজেন্ট উৎপাদন করত শুধু সোভিয়েত ইউনিয়ন।

তবে প্রথম থেকেই ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে রাশিয়। কিন্তু রাশিয়ার মতামত অগ্রাহ্য করে ২৩ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে ব্রিটেন। এরপরই পাল্টা জবাব হিসেবে ২৩ ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে রাশিয়া।

এরপর এ বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার কথা মত সম্প্রতি ৬০ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া সিয়টলের রুশ দূতাবাসও বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ৬০ মার্কিন কূটনীতিকে বহিষ্কার করে রাশিয়া। এছাড়া সেন্টপিটার্সবার্গের মার্কিন দূতাবাসও বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়।

তবে বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত জানানোর সঙ্গে সঙ্গে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরব জানান, রাশিয়া বাধ্য হয়েই এক কাজ করেছে।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের পর হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মস্কোর এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে। তবে বিষয়টি তারা তাদের মতো করে দেখবে।

গুপ্তচরকে বিষপ্রয়োগের ঘটনায় ব্রিটেনে পাশে দাঁড়িয়েছে ২০টিরও বেশি দেশ। এরপরই সে দেশে থাকা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে রাশিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘তাদের বিরুদ্ধে যে সব দেশ অনৈতিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেবে ক্রেমলিন।’

এরপর হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সারা স্যান্ডার্স বলেন, ‘এর থেকেই বোঝা যায় যে, এ বিষয়ে আলোচনার রাস্তাতেই হাঁটতে রাজি নয় মস্কো।’

তবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক শোধরানোর দিকেই নজর রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের।

শেষ পর্যন্ত ঘটনা যাই ঘটুক না কেন দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ক যে আবারও ঠান্ডা যুদ্ধের দিকে যেতে পারে- এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, এদিকে আজ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্ক্রিপাল কন্যা ইউলিয়ার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি কথা বলতে পারছেন। তবে স্ক্রিপালের অবস্থা বিপদমুক্ত নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠান্ডা যুদ্ধের দিকেই এগোচ্ছে রুশ-মার্কিন সম্পর্ক

আপডেট সময় ০২:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে রাশিয়ার। এ দ্বন্দ্বের পরিমাণ দিন দিন যেভাবে বাড়ছে তা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সেই ঠান্ডা যুদ্ধের কথা।

ঠান্ডা যুদ্ধের আশঙ্কা করে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজ।

পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কখনোই সম্পর্ক ভালো ছিলো না রাশিয়ার। তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর থেকে সম্পর্কের এতটা অবনতি কখনো ঘটেনি। দুই দেশের সম্পর্কের এমন অবনতি বর্তমান বিশ্বের জন্য মোটেই ভালো কিছু নয়।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ব্রিটেনের সলসবুরি শহরে নার্ভ এজেন্ট নামের ভয়ঙ্কর বিষপ্রয়োগে সাবেক রুশ গুপ্তচার সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার কন্যা ইউলিয়াকে হত্যাচেষ্টা করা হয়। স্ক্রিপাল বর্তমানে ব্রিটেনের হয়ে কাজ করছিলেন। এমন অবস্থায় ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ ঘটনার জন্য সরাসরি দোষ চায় রাশিয়ার ওপর। তারা রাশিয়া এ ঘটনার দায় দিয়ে জানান, নার্ভ এজেন্ট উৎপাদন করত শুধু সোভিয়েত ইউনিয়ন।

তবে প্রথম থেকেই ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে রাশিয়। কিন্তু রাশিয়ার মতামত অগ্রাহ্য করে ২৩ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে ব্রিটেন। এরপরই পাল্টা জবাব হিসেবে ২৩ ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে রাশিয়া।

এরপর এ বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার কথা মত সম্প্রতি ৬০ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া সিয়টলের রুশ দূতাবাসও বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ৬০ মার্কিন কূটনীতিকে বহিষ্কার করে রাশিয়া। এছাড়া সেন্টপিটার্সবার্গের মার্কিন দূতাবাসও বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়।

তবে বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত জানানোর সঙ্গে সঙ্গে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরব জানান, রাশিয়া বাধ্য হয়েই এক কাজ করেছে।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের পর হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মস্কোর এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে। তবে বিষয়টি তারা তাদের মতো করে দেখবে।

গুপ্তচরকে বিষপ্রয়োগের ঘটনায় ব্রিটেনে পাশে দাঁড়িয়েছে ২০টিরও বেশি দেশ। এরপরই সে দেশে থাকা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে রাশিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘তাদের বিরুদ্ধে যে সব দেশ অনৈতিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেবে ক্রেমলিন।’

এরপর হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সারা স্যান্ডার্স বলেন, ‘এর থেকেই বোঝা যায় যে, এ বিষয়ে আলোচনার রাস্তাতেই হাঁটতে রাজি নয় মস্কো।’

তবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক শোধরানোর দিকেই নজর রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের।

শেষ পর্যন্ত ঘটনা যাই ঘটুক না কেন দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ক যে আবারও ঠান্ডা যুদ্ধের দিকে যেতে পারে- এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, এদিকে আজ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্ক্রিপাল কন্যা ইউলিয়ার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি কথা বলতে পারছেন। তবে স্ক্রিপালের অবস্থা বিপদমুক্ত নয়।