ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন: আসিফ নজরুল ওরা দেশকে ভালোবাসার নামে আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে: চরমোনাই পীর বিশ্বকাপে বাংলাদেশে বাদকে দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিলো আইসিসি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা আমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, যা প্রয়োজন তাই করব: মির্জা আব্বাস নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না : সুজন শিশুদের সঠিক শিক্ষা প্রদানের জন্য আমরা প্রাইমারি শিক্ষার ওপর জোর দিতে চাচ্ছি: তারেক রহমান ‘অতীতেও পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকব’:মির্জা ফখরুল দ.আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন

এবারও গণহত্যা দিবস অগ্রাহ্য বিএনপির

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার শুরুর দিনটি জাতীয়ভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হলেও দ্বিতীয় বছরের মতো দিবসটিকে অগ্রাহ্য করল বিএনপি।

২০১৭ সাল থেকেই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে বাংলাদেশে। প্রথম বার এই দিবসে কোনো কর্মসূচি না রাখা বিএনপি দ্বিতীয় বর্ষেও কর্মসূচি রাখেনি। দলের নেতারা এই দিবসটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করছেন।

এমনিতে জাতীয় দিবসগুলোতে বিএনপির কর্মসূচি বা দিবসের আগে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য-বিবৃতি আসে। কিন্তু গণহত্যা দিবসকে সামনে রেখে কোনো বিবৃতিও আসেনি বিএনপির পক্ষ থেকে।

বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই দিবসটির বিষয়ে তাদের কোনো ভাবান্তর নেই। আর একজন নেতা এতে ‘সরকারি দিবস’ আখ্যা দিয়ে, ‘সরকারই পালন করুক’ এই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালিদের নিধনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শুরু করে অপারেশন সার্চ লাইট। এর পরের নয় মাসে নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞ চলে গোটা দেশ জুড়ে। তবে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা এবং এবং আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ নারীকে ধর্ষণ-নির্যাতন করেও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঠেকাতে পারেনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর নিঃশর্ত আ্ত্মসমর্পণ করে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা। প্রতিষ্ঠা হয় বাংলাদেশ।

২৫ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নামে শুরু হওয়া গণহত্যার প্রতি ঘৃণা জানাতে এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২০১৭ সাল থেকে দিনটিকে জাতীয় গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন শুরু করেছে সরকার।

গত বছর ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়। সেই সঙ্গে দিবসটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে চেষ্টা চলছে। বর্তমানে জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে ৯ আগস্ট সারা বিশ্বে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। তবে সেটি ২৫ মার্চ করতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য জাতিসংঘে দেন দরবার করছে বাংলাদেশ।

এই দিবসটিতে বিভিন্ন দল ও সংগঠন আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচিতে শহীদদের স্মরণ করেছে।

তবে বিএনপি গতবারের মতো এ বছরও কোনো কর্মসূচি রাখেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলীয় কার্ালয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেও এই দিবসটি নিয়ে বা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

বিএনপি কেন দিবসটিকে অগ্রাহ্য করে?- জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এই দিনটি দেশের মানুষের কাছে কাল রাত্রি। ১৯৭১ সালে ঘৃন্যতম জেনোসাইড শুরু হয়েছিল এই দিনে। এর প্রতিবাদেই তো মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আমরা সব সময় এর নিন্দা জানাই। তবে অতীতে আমাদের এই দিবসে আলাদা কোনো কর্মসূচি ছিল না এবারও নেই।’

‘আমরা অতীতের মত এবারও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করব।’

গণহত্যা দিবসে সরকার রাত নয়টা থেকে নয়টা এক মিনিটে বাতি নিভিয়ে এবং রাস্তায় গাড়ি দাঁড়িয়ে গণহত্যার প্রতিবাদ জানানোর কর্মসূচি দিয়েছে।

তবে বিএনপি এই কর্মসূচি পালন করছে না। খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘সরকারে থাকলে অনেক সময় ব্লাকআউটের মত কর্মসূচি হাতে নেয়া যায়।’

জানতে চাইলে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এটা তো জাতীয় প্রোগ্রাম না, সরকারি প্রোগ্রাম। সরকার পালন করে। আমরা স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।’

এদিকে বিএনপি গণহত্যা দিবস উপেক্ষা করায় কড়া সমালোচনা করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে কাদের বলেন, ‘২৫ মার্চ যারা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করবে না, তারা পাকিস্তানের পারপার্স সার্ভ করছে।’

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘পাকিস্তান এ গণহত্যার দায় স্বীকার করে নাই, ক্ষমা চায় নাই, অনুতাপ প্রকাশ করেনি। সেই পাকিস্তানের বন্ধুরাই এ দিবস পালন করবে না, সেটাই স্বাভাবিক।’

‘এদেশে যারা সাম্প্রদায়িক এবং জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক তারা পাকিস্তানের বন্ধু। যারা এ গণহত্যা দিবস পালন করছে না, তারা পাকিস্তানের বন্ধু, দোসর।’

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস বা ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগেও গণমাধ্যমে বিএনপির পক্ষ থেকে আসা বিবৃতিতে সচরাচর পাকিস্তান শব্দটা ব্যবহার করা হয় না। এ নিয়েও সমালোচনা আছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার চাইলে বিশ্বকাপ বয়কট করবে পাকিস্তান: নাকভি

এবারও গণহত্যা দিবস অগ্রাহ্য বিএনপির

আপডেট সময় ০৭:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার শুরুর দিনটি জাতীয়ভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হলেও দ্বিতীয় বছরের মতো দিবসটিকে অগ্রাহ্য করল বিএনপি।

২০১৭ সাল থেকেই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে বাংলাদেশে। প্রথম বার এই দিবসে কোনো কর্মসূচি না রাখা বিএনপি দ্বিতীয় বর্ষেও কর্মসূচি রাখেনি। দলের নেতারা এই দিবসটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করছেন।

এমনিতে জাতীয় দিবসগুলোতে বিএনপির কর্মসূচি বা দিবসের আগে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য-বিবৃতি আসে। কিন্তু গণহত্যা দিবসকে সামনে রেখে কোনো বিবৃতিও আসেনি বিএনপির পক্ষ থেকে।

বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই দিবসটির বিষয়ে তাদের কোনো ভাবান্তর নেই। আর একজন নেতা এতে ‘সরকারি দিবস’ আখ্যা দিয়ে, ‘সরকারই পালন করুক’ এই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালিদের নিধনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শুরু করে অপারেশন সার্চ লাইট। এর পরের নয় মাসে নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞ চলে গোটা দেশ জুড়ে। তবে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা এবং এবং আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ নারীকে ধর্ষণ-নির্যাতন করেও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঠেকাতে পারেনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর নিঃশর্ত আ্ত্মসমর্পণ করে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা। প্রতিষ্ঠা হয় বাংলাদেশ।

২৫ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট নামে শুরু হওয়া গণহত্যার প্রতি ঘৃণা জানাতে এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২০১৭ সাল থেকে দিনটিকে জাতীয় গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন শুরু করেছে সরকার।

গত বছর ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়। সেই সঙ্গে দিবসটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে চেষ্টা চলছে। বর্তমানে জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে ৯ আগস্ট সারা বিশ্বে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। তবে সেটি ২৫ মার্চ করতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য জাতিসংঘে দেন দরবার করছে বাংলাদেশ।

এই দিবসটিতে বিভিন্ন দল ও সংগঠন আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচিতে শহীদদের স্মরণ করেছে।

তবে বিএনপি গতবারের মতো এ বছরও কোনো কর্মসূচি রাখেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলীয় কার্ালয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেও এই দিবসটি নিয়ে বা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

বিএনপি কেন দিবসটিকে অগ্রাহ্য করে?- জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এই দিনটি দেশের মানুষের কাছে কাল রাত্রি। ১৯৭১ সালে ঘৃন্যতম জেনোসাইড শুরু হয়েছিল এই দিনে। এর প্রতিবাদেই তো মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আমরা সব সময় এর নিন্দা জানাই। তবে অতীতে আমাদের এই দিবসে আলাদা কোনো কর্মসূচি ছিল না এবারও নেই।’

‘আমরা অতীতের মত এবারও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করব।’

গণহত্যা দিবসে সরকার রাত নয়টা থেকে নয়টা এক মিনিটে বাতি নিভিয়ে এবং রাস্তায় গাড়ি দাঁড়িয়ে গণহত্যার প্রতিবাদ জানানোর কর্মসূচি দিয়েছে।

তবে বিএনপি এই কর্মসূচি পালন করছে না। খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘সরকারে থাকলে অনেক সময় ব্লাকআউটের মত কর্মসূচি হাতে নেয়া যায়।’

জানতে চাইলে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এটা তো জাতীয় প্রোগ্রাম না, সরকারি প্রোগ্রাম। সরকার পালন করে। আমরা স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।’

এদিকে বিএনপি গণহত্যা দিবস উপেক্ষা করায় কড়া সমালোচনা করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে কাদের বলেন, ‘২৫ মার্চ যারা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করবে না, তারা পাকিস্তানের পারপার্স সার্ভ করছে।’

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘পাকিস্তান এ গণহত্যার দায় স্বীকার করে নাই, ক্ষমা চায় নাই, অনুতাপ প্রকাশ করেনি। সেই পাকিস্তানের বন্ধুরাই এ দিবস পালন করবে না, সেটাই স্বাভাবিক।’

‘এদেশে যারা সাম্প্রদায়িক এবং জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক তারা পাকিস্তানের বন্ধু। যারা এ গণহত্যা দিবস পালন করছে না, তারা পাকিস্তানের বন্ধু, দোসর।’

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস বা ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগেও গণমাধ্যমে বিএনপির পক্ষ থেকে আসা বিবৃতিতে সচরাচর পাকিস্তান শব্দটা ব্যবহার করা হয় না। এ নিয়েও সমালোচনা আছে।