অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমানের বাঁ চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে তার অস্ত্রোপচার চলে। হাসপাতালের রেটিনা ও ইনজুরি বিশেষজ্ঞ ডা. লিঙ্গম গোপালের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারে অংশ নেয়।
চেন্নাইয়ে সিদ্দিকুরের সঙ্গে থাকা জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অস্ত্রোপচারের পরপরই সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডা. জাহিদুল আহসানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে অস্ত্রোপচার শেষ হয়েছে বলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন। আরও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর তার জ্ঞান ফিরবে। এরপর তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
সিদ্দিকুরের চোখের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাহিদুল আহসান বলেন, ‘চোখের আলো ফেরার সম্ভবনা নেই জেনেও চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করেছেন। এক অথবা দুই শতাংশের মতো যতটুকু সম্ভবনা আছে তা এখনই বলা যাবে না। এজন্য দুই থেকে চার দিনের মতো সময় লাগতে পারে।’ অস্ত্রোপচারের আগে সিদ্দিকুর সবার কাছে দোয়া চান বলেও জানান এই চিকিৎসক।
এর আগে গত সোমবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডা. লিঙ্গম গোপাল জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচার করেও সিদ্দিকুরের চোখের আলো ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম। এক শতাংশের মতো সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে তিনি অস্ত্রোপচারের বিষয়ে মতামত চাইলে সিদ্দিকুর তাতে সম্মতি দেন।
ভারতে নেওয়ার আগে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে অস্ত্রোপচারের পর সিদ্দিকুরের বাঁ চোখে ঈষৎ আলোর উপস্থিতি দেখছিলেন চিকিসকরা। তবে ডান চোখে সিদ্দিকুর কোনো আলো দেখছিলেন না। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ২৯ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সিদ্দিকুরকে চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত সাত কলেজের পরীক্ষার রুটিনসহ তারিখ ঘোষণার দাবিতে গত ২০ জুলাই শাহবাগে আন্দোলনে গিয়ে ‘পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শেলের’ আঘাতে সিদ্দিকুর রহমানের দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং পরে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে সিদ্দিকুরের দুই চোখে অস্ত্রোপচার হয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















