ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজতে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সিঙ্গাপুর সফররত শেখ হাসিনা দেশটির প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুব ও প্রধানমন্ত্রী লি শিয়েন লুংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠককালে এ আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে শেখ হাসিনার সিঙ্গাপুর সফরকালীন আবাসস্থল সাংগ্রিলা হোটেলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের দুই নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত নেওয়ার জন্য মিয়ানমারকে বোঝাতে সিঙ্গাপুরের প্রতি আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সময় রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে৷ সিঙ্গাপুর বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দশটি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত জোট আসিয়ানের চেয়ার, এ জোটের সদস্য মিয়ানমারও। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের প্রতি এ আহ্বান জানিয়েছেন৷

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের কাছে আট হাজার ৩২ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। এই তালিকা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যাচাইয়ের পরই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে কোন তারিখ থেকে ফেরত পাঠানো শুরু হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর সেনা অভিযানের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক। এদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ফিজিক্যাল অ্যারাঞ্জমেন্ট চু্ক্তি হয়েছে জানুয়ারিতে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। কিন্তু সে প্রত্যাবাসন এখনও শুরু হয়নি। এই চু্ক্তির পর রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই প্রত্যাবাসন শুরু করবেন।

এর আগে দুপুরে সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট ভবন ইস্তানায় বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং বিমান চলাচলে সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লোংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে রোববার সিঙ্গাপুরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকালে তিনি সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট ভবন ইস্তানায় পৌঁছালে লি সিয়েন লোং তাকে স্বাগত জানান।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে ইস্তানায় লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই সিঙ্গাপুরের সশস্ত্র বাহিনীর একটি বিশেষ দল তাকে অভিবাদন জানায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুব এবং প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লোংয়ের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন। পরে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

শেখ হাসিনার দুপুরে লি সিয়েন লোংয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেওয়া ও বিকালে সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটিতে যাওয়া কথা রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সিঙ্গাপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার সম্মানে সেখানে একটি অর্কিডের নামকরণ করা হবে।

১৩ মার্চ মঙ্গলবার বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। ওই দিন সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। চার দিনের সফর শেষে ১৪ মার্চ দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:২৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজতে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সিঙ্গাপুর সফররত শেখ হাসিনা দেশটির প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুব ও প্রধানমন্ত্রী লি শিয়েন লুংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠককালে এ আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে শেখ হাসিনার সিঙ্গাপুর সফরকালীন আবাসস্থল সাংগ্রিলা হোটেলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের দুই নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত নেওয়ার জন্য মিয়ানমারকে বোঝাতে সিঙ্গাপুরের প্রতি আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সময় রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে৷ সিঙ্গাপুর বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দশটি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত জোট আসিয়ানের চেয়ার, এ জোটের সদস্য মিয়ানমারও। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের প্রতি এ আহ্বান জানিয়েছেন৷

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের কাছে আট হাজার ৩২ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। এই তালিকা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যাচাইয়ের পরই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে কোন তারিখ থেকে ফেরত পাঠানো শুরু হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর সেনা অভিযানের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক। এদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ফিজিক্যাল অ্যারাঞ্জমেন্ট চু্ক্তি হয়েছে জানুয়ারিতে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। কিন্তু সে প্রত্যাবাসন এখনও শুরু হয়নি। এই চু্ক্তির পর রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই প্রত্যাবাসন শুরু করবেন।

এর আগে দুপুরে সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট ভবন ইস্তানায় বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং বিমান চলাচলে সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লোংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে রোববার সিঙ্গাপুরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকালে তিনি সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট ভবন ইস্তানায় পৌঁছালে লি সিয়েন লোং তাকে স্বাগত জানান।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে ইস্তানায় লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই সিঙ্গাপুরের সশস্ত্র বাহিনীর একটি বিশেষ দল তাকে অভিবাদন জানায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুব এবং প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লোংয়ের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন। পরে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

শেখ হাসিনার দুপুরে লি সিয়েন লোংয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেওয়া ও বিকালে সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটিতে যাওয়া কথা রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সিঙ্গাপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার সম্মানে সেখানে একটি অর্কিডের নামকরণ করা হবে।

১৩ মার্চ মঙ্গলবার বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। ওই দিন সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। চার দিনের সফর শেষে ১৪ মার্চ দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।