ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা

বস্তিতে আগুন: ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ইলিয়াস মোল্লা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরে তিনটি বস্তিতে আগুনে সহায় সম্পদ হারা মানুষের জন্য প্রাথমিক আশ্রয় আর খাদ্যের সংস্থান করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা।

রবিবার দিবাগত রাতে হারুনাবাদ এলাকার কবির মোল্লার বস্তি, সাত্তার মোল্লা ও নাগর আলীর বস্তিতে আগুনে পুড়েছে তিন হাজারের মত ঘর।

আগুনে যারা ঘর হারিয়েছেন তাদের বহু মানুষেরই ঢাকায় থাকার অন্য কোনো জায়গা নেই। সামান্য যে জিনিসপত্র তারা বাঁচাতে পেরেছেন, সেগুলো নিয়ে যাওয়ার মতো ভাড়ার টাকাও নেই বহু মানুষের। খাবারের সংস্থান অনিশ্চিত ছিল অনেকেরই। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে আসা ঘোষণা তাদেরকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।

ঢাকা ১৬ আসনের এই সংসদ সদস্য পাশেই একটি মার্কেট নির্মাণ করছেন। এখনও দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আর বহুতল এই ভবনেই ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। পাশাপাশি সেখানে খাবার দেয়া হবে বলেও মাইকে ঘোষণা দিয়েছেন ইলিয়াস মোল্লা।

দৈনিক আকাশকে স্থানীয় সংসদ সদস্য বলেন, ‘আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বস্তিতে থাকা ব্যবহারের কিছুই বের করতে পারেনি অনেকেই। তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে। সব কিছু হারানো এসব মানুষের জন্য সাময়িকভাবে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আমি করে দিয়েছি।’

‘আপাতত তারা যেন মাথা গুজার ঠাঁই পায় তাই আমার নির্মাণাধীন মোল্লা মার্কেটের দ্বিতীয় থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত এসব মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাবুর্চি এনে তাদের জন্য রান্নার কাজও চলছে।’

ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘আমি এই বস্তিবাসীদের সাময়িক থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এই কাজের সঙ্গে যদি সামর্থবান এগিয়ে আসে তাহলে এসব মানুষের আরও উপকার হবে।’

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তাও মিলবে বলে জানান ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অন্যরা মিলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকার কাজ শুরু হয়েছে। তালিকা হলে চালসহ অন্যান্য ত্রাণ বিতরণ করা হবে।’

বড় আগুন হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলেও নিশ্চিত করেছেন ইলিয়াস মোল্লা। বলেন, ‘কোনো মানুষের ক্ষতি হয়নি। একজন শুধু আগুনের তাপে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে বস্তিতে প্রায় পাঁচ হাজার ঘর ছিল। সেখানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করত। তাদের সব কিছুই পুড়ে গেছে।’

মোল্লা মার্কেটে এসে দেখা গেছে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীরা আগুন থেকে যা কিছু মালামাল বাঁচাতে পেরেছে, সেগুলো পাশে রেখে আশ্রয় নিয়েছে তারা। সেখানে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা থাকার জায়গা করা হয়েছে।

পুরো ভবন জুড়েই চলছিল বিলাপ আর কান্না। ক্রমেই কেঁদে চলছিলেন যারা, তাদের একজন সোবহান মিয়া। তিনি বলেন, ‘আগুন খুব তাড়াতাড়ি ছড়ায়া পড়ায় কিছু নিয়ে বাড়োইতে পারি নাই। খালি হাতে জানডা লইয়া বাইর হইছি। এমপি সাব এই হাতে থাকতে দিছে। কিন্তু এরপর কই থাকমু, কী করুম, তা জানি না।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাসদ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার ২৭ জনের জামিন আবেদন নাকচ

বস্তিতে আগুন: ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ইলিয়াস মোল্লা

আপডেট সময় ০৯:৪১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরে তিনটি বস্তিতে আগুনে সহায় সম্পদ হারা মানুষের জন্য প্রাথমিক আশ্রয় আর খাদ্যের সংস্থান করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা।

রবিবার দিবাগত রাতে হারুনাবাদ এলাকার কবির মোল্লার বস্তি, সাত্তার মোল্লা ও নাগর আলীর বস্তিতে আগুনে পুড়েছে তিন হাজারের মত ঘর।

আগুনে যারা ঘর হারিয়েছেন তাদের বহু মানুষেরই ঢাকায় থাকার অন্য কোনো জায়গা নেই। সামান্য যে জিনিসপত্র তারা বাঁচাতে পেরেছেন, সেগুলো নিয়ে যাওয়ার মতো ভাড়ার টাকাও নেই বহু মানুষের। খাবারের সংস্থান অনিশ্চিত ছিল অনেকেরই। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে আসা ঘোষণা তাদেরকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।

ঢাকা ১৬ আসনের এই সংসদ সদস্য পাশেই একটি মার্কেট নির্মাণ করছেন। এখনও দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আর বহুতল এই ভবনেই ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। পাশাপাশি সেখানে খাবার দেয়া হবে বলেও মাইকে ঘোষণা দিয়েছেন ইলিয়াস মোল্লা।

দৈনিক আকাশকে স্থানীয় সংসদ সদস্য বলেন, ‘আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বস্তিতে থাকা ব্যবহারের কিছুই বের করতে পারেনি অনেকেই। তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে। সব কিছু হারানো এসব মানুষের জন্য সাময়িকভাবে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আমি করে দিয়েছি।’

‘আপাতত তারা যেন মাথা গুজার ঠাঁই পায় তাই আমার নির্মাণাধীন মোল্লা মার্কেটের দ্বিতীয় থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত এসব মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাবুর্চি এনে তাদের জন্য রান্নার কাজও চলছে।’

ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘আমি এই বস্তিবাসীদের সাময়িক থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এই কাজের সঙ্গে যদি সামর্থবান এগিয়ে আসে তাহলে এসব মানুষের আরও উপকার হবে।’

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তাও মিলবে বলে জানান ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অন্যরা মিলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকার কাজ শুরু হয়েছে। তালিকা হলে চালসহ অন্যান্য ত্রাণ বিতরণ করা হবে।’

বড় আগুন হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলেও নিশ্চিত করেছেন ইলিয়াস মোল্লা। বলেন, ‘কোনো মানুষের ক্ষতি হয়নি। একজন শুধু আগুনের তাপে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে বস্তিতে প্রায় পাঁচ হাজার ঘর ছিল। সেখানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করত। তাদের সব কিছুই পুড়ে গেছে।’

মোল্লা মার্কেটে এসে দেখা গেছে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীরা আগুন থেকে যা কিছু মালামাল বাঁচাতে পেরেছে, সেগুলো পাশে রেখে আশ্রয় নিয়েছে তারা। সেখানে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা থাকার জায়গা করা হয়েছে।

পুরো ভবন জুড়েই চলছিল বিলাপ আর কান্না। ক্রমেই কেঁদে চলছিলেন যারা, তাদের একজন সোবহান মিয়া। তিনি বলেন, ‘আগুন খুব তাড়াতাড়ি ছড়ায়া পড়ায় কিছু নিয়ে বাড়োইতে পারি নাই। খালি হাতে জানডা লইয়া বাইর হইছি। এমপি সাব এই হাতে থাকতে দিছে। কিন্তু এরপর কই থাকমু, কী করুম, তা জানি না।’