ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী ভাতার আওতায় এলেন আরও ১৭১ খেলোয়াড় তেলের দাম বিশ্ববাজারে দ্বিগুণ বাড়লেও আমরা সামান্য বাড়িয়েছি: জ্বালানি মন্ত্রী আইএমএফের চাপে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি: অর্থমন্ত্রী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’: গোলাম পরওয়ার ইসরাইল বিজয় ছিনিয়ে আনতে জানে: ট্রাম্প মেরিন ড্রাইভে প্রাইভেটকারে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় ইরানযুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প: কমলা হ্যারিস ১০৭ বছরের পুরোনো মাঠ দখলমুক্ত করার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর চাকরি পুনর্বহাল চেয়ে মতিঝিলে ৬ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মীদের অবস্থান

জমে উঠেছে জয়পুরহাটে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার হাট

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ঐতিহ্যবাহী গোপিনাথপুর মেলায় ঘোড়ার হাট জমে উঠেছে। বিজলি, কিরন মালা, রানী, সুইটি আরো কত যে বাহারি নাম। ওদের ক্ষিপ্রতা আর বুদ্ধিমত্তায়ও মেলে নামের সার্থকতা। ঘোড়াগুলোর দুলকী চলনে বিদুৎ গতি, চোখের পলকে যেন মাইল পার। এমন নানামুখী গুণের কারণে দেশি-বিদেশি ঘোড়াগুলোর কদরও যতেষ্ঠ। পছন্দের প্রাণিটিকে পেতে ক্রেতাদের মধ্যে রীতিমতো কাড়াকাড়ি।

আয়োজকরা বলছেন, দেশের এক মাত্র ঘোড়া বেচাকেনার হাট এটি। এ কারণে সারাদেশ থেকে আনা কয়েক হাজার ঘোড়া জড়ো করা হয় এখানে। এটিকে ঘোড়ার মিলনমেলা বললেও অত্যুক্তি হবে না।

প্রতি বছর দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে শুরু হয় মাসব্যাপী মেলা। মূল মেলা এক মাস হলেও পশুর মেলা হয় ১০ দিন। ঘোড়া ছাড়াও মহিষ, গরু, ভেড়া ও ছাগল কেনা বেচা হয় এ মেলায়।

ক্রেতা বিক্রেতা ও দর্শনাথীদের পদচারণায় এখন মুখর ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথ মেলার ঘোড়ার হাট। দরদাম ঠিকঠাকের পর একটি খেলার মাঠে ঘোড়া নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ক্রেতাকে দেখানো হয় ঘোড়ার দৌড়।

দোলপূর্ণিমা মেলা কমিটি আয়োজকরা জানান, ৫০০ বছরের পুরনো এ মেলা শরু থেকেই ঘোড়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। স্বাধীনতার পরও মেলায় নেপাল, ভূটান, ভারত, পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া আসত। বর্তমানে সেসব এখন স্মৃতির পাতায় হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঘোড় সওয়ারি ও ঘোড়া মালিকরা এ মেলায় ঘোড়া নিয়ে আসেন।

স্থানীয়রা জানায়, এ মেলায় ময়মনসিংহ, জামালপুর টাঙ্গাইল, বগুড়া, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘোড়ার আমদানি হয় এ মেলায়।

রাজশাহীর তানোর থেকে আসা সাইফুল ইসলাম একটি ঘোড়ার দাম হেঁকেছেন ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরে তা দেড় লাখ টাকা বিক্রি করেন বলে জানান তিনি।

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার চকমরিয়ম গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, তিনি ২৫ বছর ধরে মেলায় ঘোড়া নিয়ে আসতেন এবার তিনি তিনটি ঘোড়া এনেছিলেন, সব কটি ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

এবার হাটে সর্ব্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকায় যে ঘোড়াটি বিক্রি হয়েছে তার মালিক হোসেন আলী জানান, ঘোড়াটির বয়স সাড়ে চার বছর। এটি রেসিং ঘোড়া। দ্রুত দৌড়াতে পারে সাদা-কালো ডোরাকাটা ঘোড়াটির যত্ন নিতেন তিনি নিজেই।

বাহারি ঘোড়াটি কিনেছেন রাজশাহীর সেকেন্দার বাদশা নামে এক সৌখিন ঘোর সওয়ারি।

সিরাজগঞ্জের কুতুব আলী প্রায় সাড়ে আট ফুট উচ্চতার বড় কালো রংয়ের এক তাজি ঘোড়া ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করলেন বলে জানান তিনি।

ঘোড় সওয়ারি ও ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, আগেও তাদের বাপ-দাদারা এ মেলায় ঘোড়া কেনা-বেচা করতেন, পূর্ব পুরুষের সূত্র ধরে তারাও আগলে রেখেছেন সেই পারিবারিক ঐতিহ্য। আগে ঘোড়ার হাট ও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ঘোর দৌড়ের বিস্তীর্ণ মাঠ থাকলেও বর্তমানে সেই স্থানটি সংকুচিত করা হয়েছে বলে ঘোড়া বেচা-কেনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

গোপীনাথপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও মেলা কমিটির প্রধান কর্তা আবু সাইদ জোয়ার্দ্দার বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি মেলা কমিটিও সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। এতো বড় পুরোনো এবং ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ মেলা উত্তরবঙ্গের কোথাও নেই বলেও জানান তিনি।

আক্কেলপুর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, মেলা উপলক্ষে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছে। তাদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি আনসার মোতায়েন রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী

জমে উঠেছে জয়পুরহাটে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার হাট

আপডেট সময় ০১:১৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ঐতিহ্যবাহী গোপিনাথপুর মেলায় ঘোড়ার হাট জমে উঠেছে। বিজলি, কিরন মালা, রানী, সুইটি আরো কত যে বাহারি নাম। ওদের ক্ষিপ্রতা আর বুদ্ধিমত্তায়ও মেলে নামের সার্থকতা। ঘোড়াগুলোর দুলকী চলনে বিদুৎ গতি, চোখের পলকে যেন মাইল পার। এমন নানামুখী গুণের কারণে দেশি-বিদেশি ঘোড়াগুলোর কদরও যতেষ্ঠ। পছন্দের প্রাণিটিকে পেতে ক্রেতাদের মধ্যে রীতিমতো কাড়াকাড়ি।

আয়োজকরা বলছেন, দেশের এক মাত্র ঘোড়া বেচাকেনার হাট এটি। এ কারণে সারাদেশ থেকে আনা কয়েক হাজার ঘোড়া জড়ো করা হয় এখানে। এটিকে ঘোড়ার মিলনমেলা বললেও অত্যুক্তি হবে না।

প্রতি বছর দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে শুরু হয় মাসব্যাপী মেলা। মূল মেলা এক মাস হলেও পশুর মেলা হয় ১০ দিন। ঘোড়া ছাড়াও মহিষ, গরু, ভেড়া ও ছাগল কেনা বেচা হয় এ মেলায়।

ক্রেতা বিক্রেতা ও দর্শনাথীদের পদচারণায় এখন মুখর ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথ মেলার ঘোড়ার হাট। দরদাম ঠিকঠাকের পর একটি খেলার মাঠে ঘোড়া নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ক্রেতাকে দেখানো হয় ঘোড়ার দৌড়।

দোলপূর্ণিমা মেলা কমিটি আয়োজকরা জানান, ৫০০ বছরের পুরনো এ মেলা শরু থেকেই ঘোড়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। স্বাধীনতার পরও মেলায় নেপাল, ভূটান, ভারত, পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া আসত। বর্তমানে সেসব এখন স্মৃতির পাতায় হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঘোড় সওয়ারি ও ঘোড়া মালিকরা এ মেলায় ঘোড়া নিয়ে আসেন।

স্থানীয়রা জানায়, এ মেলায় ময়মনসিংহ, জামালপুর টাঙ্গাইল, বগুড়া, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘোড়ার আমদানি হয় এ মেলায়।

রাজশাহীর তানোর থেকে আসা সাইফুল ইসলাম একটি ঘোড়ার দাম হেঁকেছেন ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরে তা দেড় লাখ টাকা বিক্রি করেন বলে জানান তিনি।

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার চকমরিয়ম গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, তিনি ২৫ বছর ধরে মেলায় ঘোড়া নিয়ে আসতেন এবার তিনি তিনটি ঘোড়া এনেছিলেন, সব কটি ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

এবার হাটে সর্ব্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকায় যে ঘোড়াটি বিক্রি হয়েছে তার মালিক হোসেন আলী জানান, ঘোড়াটির বয়স সাড়ে চার বছর। এটি রেসিং ঘোড়া। দ্রুত দৌড়াতে পারে সাদা-কালো ডোরাকাটা ঘোড়াটির যত্ন নিতেন তিনি নিজেই।

বাহারি ঘোড়াটি কিনেছেন রাজশাহীর সেকেন্দার বাদশা নামে এক সৌখিন ঘোর সওয়ারি।

সিরাজগঞ্জের কুতুব আলী প্রায় সাড়ে আট ফুট উচ্চতার বড় কালো রংয়ের এক তাজি ঘোড়া ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করলেন বলে জানান তিনি।

ঘোড় সওয়ারি ও ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, আগেও তাদের বাপ-দাদারা এ মেলায় ঘোড়া কেনা-বেচা করতেন, পূর্ব পুরুষের সূত্র ধরে তারাও আগলে রেখেছেন সেই পারিবারিক ঐতিহ্য। আগে ঘোড়ার হাট ও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ঘোর দৌড়ের বিস্তীর্ণ মাঠ থাকলেও বর্তমানে সেই স্থানটি সংকুচিত করা হয়েছে বলে ঘোড়া বেচা-কেনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

গোপীনাথপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও মেলা কমিটির প্রধান কর্তা আবু সাইদ জোয়ার্দ্দার বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি মেলা কমিটিও সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। এতো বড় পুরোনো এবং ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ মেলা উত্তরবঙ্গের কোথাও নেই বলেও জানান তিনি।

আক্কেলপুর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, মেলা উপলক্ষে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছে। তাদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি আনসার মোতায়েন রয়েছে।