আকাশ বিনোদন ডেস্ক:
বলিউডের সাড়া জাগানো নায়িকা শ্রীদেবী মারা গেছেন। তবে তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনেক প্রশ্ন। এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি তার মৃত্যুর কারণ। বলিউডে এমন রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম না। আগেও বেশ কয়েকটি রহস্যজনক মৃত্যু দেখেছে বলিউড যেগুলো নিয়ে আজও প্রশ্ন উঠে ভক্তদের মনে।
১. শ্রীদেবী
পাঁচটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারজয়ী এ বলিউড অভিনেত্রী গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ৫৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। ননদের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারের সঙ্গে দুবাই গিয়েছিলেন। সেখানেই একটি হোটেলের বাথটাবের পানিতে ডুবে মারা যান তিনি। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে দাবি করা হয়েছিলো, মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক। তবে বাথাটাবের অগভীর পানিতে ডুবে মারা যাওয়াটা কি আত্মহত্যা, হত্যা নাকি দুর্ঘটনা সেটা এখনও পরিস্কার নয়।
২. দিব্যা ভারতী
বলিউডে তার আগমন হয়েছিলো ঝড়ের মতো। মুম্বাইয়ে পাঁচ তলায় নিজের অ্যাপার্টমেন্টের বেলকুনি থেকে পড়ে মারা যান তিনি। তখন তার বয়স ছিলো মাত্র ১৯। এই অল্প বয়সেই দিওয়ানা, ভিষ্মাত্মার মতো বেশ কিছু হিট ছবি দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল তিনি যখন মারা যান তখন বলা হচ্ছিলো যে, তার শরীরে অ্যালকোহলের অস্তিত্ব ছিলো। যদিও এখনও পর্যন্ত তার মৃত্যু নিয়ে আছে ধোঁয়াশা। অনেকেরই বিশ্বাস, দিব্যার মৃত্যুর পেছনে তার স্বামী সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার হাত আছে। শোলে অর শবনম সিনেমার সেটে মাত্র ১৮ বছর বয়সী এ নায়িকাকে বিয়ে করেছিলেন বর্তমান সময়ের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সাজিদ।
৩ নাফিসা জোসেফ
২০০৪ সালের ২৯ জুলাই মারা যান জনপ্রিয় মডেল এবং এমটিভির ভিজে নাফিসা জোসেফ। বলা হয়েছিলো, মুম্বাইয়ে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে গলাই ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন তিনি। ১৯৯৭ সালে মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স জয়ী। সেবছর মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার ফাইনালিস্ট। ভারতীয় ব্যবসায়ী গৌতম খান্দুজার সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যায়। কারণ, গৌতমের আগের বিয়ের কথা জেনে গিয়েছিলেন নাফিসা।
নাফিসার পরিবারের দাবি, মানসিক অবসাদের কারণেই আত্মহত্যা করেছিলেন এ মডেল।
৪.পারভীন বাবি
টাইম ম্যাগাজিনের কভারে জায়গা পাওয়া প্রথম বলিউড তারকা পারভীন বাবি। ২০০৫ সালের ২২ জানুয়ারি নিজের বাড়িতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ১৯৭০-৮০’র দশকে বলিউডের বহু ব্লকবাস্টার সিনেমায় অভিনয় করেছেন। মৃত্যুর আগে বেশ কয়েক বছর একাকী জীবন যাপন করছিলেন তিনি।
বিষয়টি আজও নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে, সে আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিলো। তার মৃত্যুর জন্য অনেকেই সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চনকে দায়ি করেন। তবে পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে বলা হয়েছিলো, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার করণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
৫. গুরু দাত্ত
পরিচালক, প্রযোজক এবং অভিনেতা গুরু দাত্ত বলিউডের সবচেয়ে প্রতিভাবানদের মধ্যে একজন। যিনি পিয়াসা, কাগাজ কা ফুল, সাহেব বিবি অউর গুলামের মতো চলচ্চিত্র দিয়েছেন। গুরু দাত্ত মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং আগেও দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৬৪ সালের ১০ অক্টোবর, নিজের বিছানায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। এরআগে তিনি ঘুমের জন্য ওষুধ খেয়েছিলেন।
তার ছেলে অরুণ দাত্তের মতে, তিনি মদ্যপান করার পর অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণেই মারা গিয়েছিলেন।
৬. জিয়া খান
২৫ বছর বয়সী এ তারকা ২০১৩ সালের ৩ জুন মুম্বাইয়ে আত্মহত্যা করেন। তদন্ত চলাকালীন তার মা একটি ছয় পাতার একটি নোট পান যেখানে জিয়া উৎপীড়ন এবং অত্যাচারের বর্ণনা দিয়ে যান।
তার পরিবারের দাবি, প্রেমিক সুরাজ পাঞ্চোলি তাকে আত্মহত্যায় করতে বাধ্য করেছে। ‘হিরো’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় সুরাজের। এ ঘটনায় সুরাজকে অভিযুক্ত করা হয় এবং গ্রেপ্তারও করা হয়।
পরে ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়, গলায় ফাস নেয়ার সময় জিয়া নেশাগ্রস্ত ছিলো।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























