ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের সেতু নির্মাণের প্রস্তাব জাপানি প্রতিষ্ঠানের রাজধানীর কাঁঠালবাগানে পারিবারিক দ্বন্দ্বে স্ত্রী-শাশুড়িকে হত্যা পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে পুলিশের গাড়ি, দেশজুড়ে সতর্কতা জারি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে ইরানের ভবিষ্যৎ: পেজেশকিয়ান সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে, হজের বিমান ভাড়া আরও কমবে: পর্যটনমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে : মির্জা ফখরুল জুলাই সনদ নয়, সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত সরকার: মাহমুদা মিতু

সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক করলেন দুদক চেয়ারম্যান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তদবিরকারীরাই বড় দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে কোনো রকম প্রভাবের কাছে মাথা নত না করতে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন কাজের টেন্ডার দেয়ার ক্ষেত্রে কারো সুপারিশ বা তদবির না শুনে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে দুদক কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সরকারি উন্নয়ন ও নির্মাণকাজে সম্পৃক্ত বিভিন্ন প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তারা মতবিনিময়ে অংশ নেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, প্রভাবের কাছে মাথা নত করা বড় দুর্নীতি। যতোই চাপ আসুক সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ অযোগ্যরা যেন না পায় তার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ জানালে দুদক আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদ্দেশ্যে দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রভাব দেখে কাজ দেবেন কেন? এটা জনগণের টাকা, জনগণের পয়সায় আপনি টেন্ডার করছেন, এখানে প্রভাব দেখে কাজ দেয়ার আপনি কে?

ইলেকট্রিক টেন্ডার ডাকা হয় কিন্তু টেন্ডার সংক্রান্ত গোপনীয় অনেক তথ্য কাউকে কাউকে জানিয়ে দেয়া হয় উল্লেখ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, এই অবস্থা চলতে পারে না। দেশকে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে হলে ই-টেন্ডারের পদ্ধতিগত উন্নয়ন করতে হবে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, আর্থিক বিষয়ে অডিট করা হয় কিন্তু কাজের অডিট করা হয় না। আমরা প্রকল্প গ্রহণ করি, কিন্তু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যথাযথভাবে যাচাই করি না।

দেশের বাজেটের সিংহভাগ ব্যয় করে প্রকৌশল বিভাগগুলো। তাই যাদের কাজ (টেন্ডার) দেয়া হয়, তাদেরকে আলাদাভাবে সহযোগিতা করার পাশাপাশি কাজের গুণগত মান বজায় আছে কি না, সেসব বিষয়েও প্রকৌশলীদের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

রাজউকের প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা

দুদক চেয়ারম্যান রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের ধীরগতির প্রসঙ্গ টেনে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে বলেন, আপনারা কার জমি অধিগ্রহণ করে কাকে দেবেন, এ কাজে আপনারা যাচ্ছেন কেন? আপনারা পলিসি দিয়ে দেবেন বাকিটা ওই খাতের লোকেরা দেখবে।

জনগণের জন্য নেয়া প্রকল্পে প্রকল্পে কনসালটেন্ট রাখা হয়, কিন্তু উপকারভোগী জনগণের সাথে আলোচনা করা হয় না উল্লে করে তিনি আরও বলেন, প্রকল্প গ্রহণ, এস্টিমেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রতিটি স্তরেই উপকারভোগীদের সাথে কনসাল্টেশন (আলোচনা) ব্যবস্থা থাকা উচিত।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক মো. জাফর ইকবাল, রাজউক চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান, বিআইডব্লিইটিএ প্রধান প্রকৌশল মো. মঈদুল ইসলাম, সিভিল এভিয়েশন প্রধান প্রকৌশলী শুভেন্দু বিকাশ সোস্বামী, প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসের, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ

সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক করলেন দুদক চেয়ারম্যান

আপডেট সময় ০৭:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তদবিরকারীরাই বড় দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে কোনো রকম প্রভাবের কাছে মাথা নত না করতে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন কাজের টেন্ডার দেয়ার ক্ষেত্রে কারো সুপারিশ বা তদবির না শুনে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে দুদক কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সরকারি উন্নয়ন ও নির্মাণকাজে সম্পৃক্ত বিভিন্ন প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তারা মতবিনিময়ে অংশ নেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, প্রভাবের কাছে মাথা নত করা বড় দুর্নীতি। যতোই চাপ আসুক সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ অযোগ্যরা যেন না পায় তার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ জানালে দুদক আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদ্দেশ্যে দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রভাব দেখে কাজ দেবেন কেন? এটা জনগণের টাকা, জনগণের পয়সায় আপনি টেন্ডার করছেন, এখানে প্রভাব দেখে কাজ দেয়ার আপনি কে?

ইলেকট্রিক টেন্ডার ডাকা হয় কিন্তু টেন্ডার সংক্রান্ত গোপনীয় অনেক তথ্য কাউকে কাউকে জানিয়ে দেয়া হয় উল্লেখ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, এই অবস্থা চলতে পারে না। দেশকে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে হলে ই-টেন্ডারের পদ্ধতিগত উন্নয়ন করতে হবে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, আর্থিক বিষয়ে অডিট করা হয় কিন্তু কাজের অডিট করা হয় না। আমরা প্রকল্প গ্রহণ করি, কিন্তু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যথাযথভাবে যাচাই করি না।

দেশের বাজেটের সিংহভাগ ব্যয় করে প্রকৌশল বিভাগগুলো। তাই যাদের কাজ (টেন্ডার) দেয়া হয়, তাদেরকে আলাদাভাবে সহযোগিতা করার পাশাপাশি কাজের গুণগত মান বজায় আছে কি না, সেসব বিষয়েও প্রকৌশলীদের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

রাজউকের প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা

দুদক চেয়ারম্যান রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের ধীরগতির প্রসঙ্গ টেনে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে বলেন, আপনারা কার জমি অধিগ্রহণ করে কাকে দেবেন, এ কাজে আপনারা যাচ্ছেন কেন? আপনারা পলিসি দিয়ে দেবেন বাকিটা ওই খাতের লোকেরা দেখবে।

জনগণের জন্য নেয়া প্রকল্পে প্রকল্পে কনসালটেন্ট রাখা হয়, কিন্তু উপকারভোগী জনগণের সাথে আলোচনা করা হয় না উল্লে করে তিনি আরও বলেন, প্রকল্প গ্রহণ, এস্টিমেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রতিটি স্তরেই উপকারভোগীদের সাথে কনসাল্টেশন (আলোচনা) ব্যবস্থা থাকা উচিত।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক মো. জাফর ইকবাল, রাজউক চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান, বিআইডব্লিইটিএ প্রধান প্রকৌশল মো. মঈদুল ইসলাম, সিভিল এভিয়েশন প্রধান প্রকৌশলী শুভেন্দু বিকাশ সোস্বামী, প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসের, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।