অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিএনপি আগামী নির্বাচন বর্জন করলে তাদের আত্মহনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বলেছেন, বিএনপিকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাদের কাছে দল বড় নাকি দুর্নীতিবাজ দলপ্রধান বড়।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন। পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম ওয়াজেদ মিয়ার ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট নামের একটি সংগঠন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া এমন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন যার সময়ে দেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।’ বিএনপিকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘গতবার আপনারা নির্বাচনে না এসে আত্মহননের পথ শুরু করেছিলেন। এবার না এলে আত্মহননের প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হবে।’
খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলা নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে আইনিভাবে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট খালেদা জিয়ার স্বাক্ষরেই জিয়া অরফারেন্স ট্রাস্টের টাকা উঠানো হয়েছে। এটা নিয়ে বিএনপি জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এতে তারা সফল হবে না। খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা মায়াকান্না করলেও বিশ্বসম্প্রদায় তার দুর্নীতির জন্য মায়াকান্না দেখায়নি।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উর্দুতে পাস করলেও বাংলায় ফেল করেছিলেন। এর থেকেই বোঝা যায় যে, উর্দুর প্রতি তার কেমন ভালোবাসা ছিল। তাই তিনি উর্দুতে পাস করেছিলেন। ভাষা দিবসে খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপি নেতাদের ভারাক্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। খালেদা জিয়ার শৈশব থেকেই উর্দুপ্রীতি, বাংলার প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না।’
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘পেট্রলবোমায় পুড়ে দেশবাসী যখন কাতরাচ্ছে তখন তিনি উল্লাস করেছেন। এসব অপরাধ ক্ষমার যোগ্য নয়। খালেদা জিয়া দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডিত হয়েছেন এটা তার জন্য লজ্জার, বিএনপির জন্য লজ্জার, এমনকি সব রাজনীতিবিদের জন্য লজ্জার।’
খালেদা জিয়ার অনেক আগেই কারাগারে যাওয়ার দরকার ছিল মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অন্য কোনো দেশে হলে তিনি আরও আগেই কারাগারে যেতেন। তিনি খুনিদের উৎসাহিত করার জন্য ১৫ আগস্টকে ভুয়া জন্মদিন সাজিয়ে কেক কাটেন। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এ অপরাধ সহ্য করা হবে না।’
খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না-বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তিনি নিজের পছন্দমতো গৃহপরিচারিকাকে সঙ্গে রাখার সুযোগ পেয়েছেন। দেশের ইতিহাসে এটা ব্যতিক্রম ঘটনা।’
খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে-এমন অভিযোগের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২২ একর জায়গার উপর পুরো কারাগারটাই তাকে দেওয়া হয়েছে। তিনি ক্যান্টনমেন্টের যে বাড়িতে ছিলেন, সেই বাড়িটি ছিল সাড়ে সাত একর। আর কেন্দ্রীয় কারাগারের জমির পরিমাণ ২২ একর।’
সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম, আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা মোবারক আলী শিকদার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















