ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আসন সমঝোতা হলেও জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে: নাহিদ ইসলাম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বিপিএল এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল, সময়সূচি প্রকাশ গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নির্ধারণ আইন অনুমোদন হয়েছে : আসিফ নজরুল বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের ঘরে ঘরে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: দুলু জামায়াত জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত, রাতে প্রার্থী ঘোষণা শহীদ হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড়, পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস আবারও ঢাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, মানুষের ভোগান্তি ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন তারা যেন প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করেন’:নজরুল ইসলাম

সীমান্ত হাট যেন দুই বাংলার মিলনমেলা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার সীমান্ত হাটে দুই দেশের মিলনমেলা হয়। এখানে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসে ৫০টিরও বেশি দোকান। প্রতি মঙ্গলবার শুধু পণ্য বেচাকেনাই নয়, হাটটিতে দুই দেশের আত্মীয়দের মিলনমেলায়ও পরিণত হয়।

এপারে ফেনীর ছাগলনাইয়ার মোকামিয়া গ্রাম, ওপারে (ভারত) দক্ষিণ ত্রিপুরার গ্রাম কৃষ্ণনগর। সীমান্ত হাটটি উদ্বোধন করা হয় ২০১৫ সালে। এ হাটে প্রবেশ করতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে ২০ টাকা মূল্যের টিকিট কিনতে হয়। বাংলাদেশিরাও তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্দিষ্ট রেজিস্টারে নাম, বয়স ও স্বাক্ষর দিয়ে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে জন্মনিবন্ধন কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করা যায়।

সরেজমিন হাটে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে দুই দেশের মানুষের সমাগম। কেউ পণ্য দেখছে, কেউ কিনছে, কেউবা ছবি তোলায় ব্যস্ত। অনেকেই এসেছেন ঘুরতে। তবে বেচাকেনার দিক থেকে যেন ভারতীয় পণ্যের দোকানগুলোই একটু এগিয়ে। বাংলাদেশি পণ্যের দোকানে বেশি বিক্রি হচ্ছে মাছ ও শুঁটকি। হাটের ভেতরে রয়েছে মানি এক্সচেঞ্জ অফিস। হাটের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হাটে যে কোনো বাংলাদেশি সর্বোচ্চ ১০০ ডলারের পণ্য কিনতে পারবেন। এখানে বিভিন্ন ধরনের বাংলাদেশি ও ভারতীয় পণ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশি পণ্য কিনতে ভারতীয়দেরকে ভারতীয় মুদ্রা ব্যবহার করতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশিরাও তাদের নিজস্ব মুদ্রায় ভারতীয় পণ্য কিনতে পারবেন। প্রতি হাটে গড়ে এখানে ১০-১৫ লাখ টাকার পণ্য বেচাকেনা হচ্ছে।

তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ ‘সীমান্ত হাটে বিকিকিনি ভালো হয়। তবে ভারতীয় অনেক পণ্যই দেখা যায় মেয়াদোত্তীর্ণ।’

সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, হাটটি এখন আর শুধু পণ্য বেচাকেনার স্থান নয়। অনেক ভারতীয় বাংলাদেশে থাকা তাদের আত্মীয়দের দেখতে সীমান্ত হাটে আসেন। ফলে হাটটি এক অর্থে এখন দুই দেশের মানুষের মিলনস্থানে পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে দু’দেশের মধ্যকার এই হাটটি, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী নির্মলা সীতা রাম, হাই-কমিশনার পঙ্কজ শরণসহ দুই দেশের একাধিক এমপি, সচিব ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে এ হাট উদ্বোধন করা হয়। মঙ্গলবারে বাজারটি উদ্বোধন করায় প্রতি মঙ্গলবার হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্ত হাট যেন দুই বাংলার মিলনমেলা

আপডেট সময় ০৭:০৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার সীমান্ত হাটে দুই দেশের মিলনমেলা হয়। এখানে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসে ৫০টিরও বেশি দোকান। প্রতি মঙ্গলবার শুধু পণ্য বেচাকেনাই নয়, হাটটিতে দুই দেশের আত্মীয়দের মিলনমেলায়ও পরিণত হয়।

এপারে ফেনীর ছাগলনাইয়ার মোকামিয়া গ্রাম, ওপারে (ভারত) দক্ষিণ ত্রিপুরার গ্রাম কৃষ্ণনগর। সীমান্ত হাটটি উদ্বোধন করা হয় ২০১৫ সালে। এ হাটে প্রবেশ করতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে ২০ টাকা মূল্যের টিকিট কিনতে হয়। বাংলাদেশিরাও তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্দিষ্ট রেজিস্টারে নাম, বয়স ও স্বাক্ষর দিয়ে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে জন্মনিবন্ধন কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করা যায়।

সরেজমিন হাটে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে দুই দেশের মানুষের সমাগম। কেউ পণ্য দেখছে, কেউ কিনছে, কেউবা ছবি তোলায় ব্যস্ত। অনেকেই এসেছেন ঘুরতে। তবে বেচাকেনার দিক থেকে যেন ভারতীয় পণ্যের দোকানগুলোই একটু এগিয়ে। বাংলাদেশি পণ্যের দোকানে বেশি বিক্রি হচ্ছে মাছ ও শুঁটকি। হাটের ভেতরে রয়েছে মানি এক্সচেঞ্জ অফিস। হাটের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হাটে যে কোনো বাংলাদেশি সর্বোচ্চ ১০০ ডলারের পণ্য কিনতে পারবেন। এখানে বিভিন্ন ধরনের বাংলাদেশি ও ভারতীয় পণ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশি পণ্য কিনতে ভারতীয়দেরকে ভারতীয় মুদ্রা ব্যবহার করতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশিরাও তাদের নিজস্ব মুদ্রায় ভারতীয় পণ্য কিনতে পারবেন। প্রতি হাটে গড়ে এখানে ১০-১৫ লাখ টাকার পণ্য বেচাকেনা হচ্ছে।

তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ ‘সীমান্ত হাটে বিকিকিনি ভালো হয়। তবে ভারতীয় অনেক পণ্যই দেখা যায় মেয়াদোত্তীর্ণ।’

সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, হাটটি এখন আর শুধু পণ্য বেচাকেনার স্থান নয়। অনেক ভারতীয় বাংলাদেশে থাকা তাদের আত্মীয়দের দেখতে সীমান্ত হাটে আসেন। ফলে হাটটি এক অর্থে এখন দুই দেশের মানুষের মিলনস্থানে পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে দু’দেশের মধ্যকার এই হাটটি, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী নির্মলা সীতা রাম, হাই-কমিশনার পঙ্কজ শরণসহ দুই দেশের একাধিক এমপি, সচিব ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে এ হাট উদ্বোধন করা হয়। মঙ্গলবারে বাজারটি উদ্বোধন করায় প্রতি মঙ্গলবার হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।