ঢাকা ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল রাষ্ট্র পরিচালানার জন্য অভিজ্ঞতার দরকার আছে: নজরুল ইসলাম একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: তারেক রহমান নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে: আইজিপি

শ্রাবণের ধারার মতো গ্রেপ্তার চলছে: রিজভী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার রায়কে সামনে রেখে দলের নেতা-কর্মীদেরকে গণহারে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছেন রুহুল কবির রিজভী। গ্রেপ্তার অভিযানের ব্যাপকতা বোঝাতে তিনি বর্ষাকালের শ্রাবণ মাসের অঝর ধারার উদাহরণও টেনেছেন।

রবিবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যু্গ্ম মহাসচিবিএ কথা বলেন। তিনি জানান, গত পাঁচ দিনে ঢাকাসহ সারাদেশে মূল দল ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রিজভী বলেন, ‘শ্রাবণের ধারার মতো গ্রেপ্তারের ধারা বয়ে যাচ্ছে, তৈরি করা হচ্ছে ভীতিকর পরিবেশ।’

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হবে। আর ৩০ জানুয়ারি চ্যারিটেল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিএনপি নেত্রীর ফেরার পথে হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় তারা প্রিজন ভ্যান ও পুলিশের অ্স্ত্র ভেঙে আটক কয়েকজন নেতা-কর্মীকে ছিনিয়ে নেয়।

এরপর থেকে পুলিশও পাল্টা অভিযান শুরু করে। তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় ৬৯ জনকে। পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

রিজভীর অীভযোগ, শনিবার লা মেরিডিয়ান হোটেলে দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠক চলাকালে ও সভা শেষে ৩৫ জনেরও বেশি নেতাকর্মীকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেছে।

বিএনপি গণহারে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দাবি করেছেন, সন্ত্রাসী ধরা হচ্ছে আর এতে পুলিশের প্রতি ভালবাসা বাড়ছে।

এর জবাবে রিজভী বলেন, ‘দেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, ছাত্র, যুবক ও মহিলাসহ বিএনপি ও বিরোধী দলের অসংখ্য নেতাকর্মীদেরকে ধরার জন্য চিরুনি অভিযান, আটক ও বাসায় বাসায় হামলার পরও ভালবাসা বাড়ছে ? গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার কথা না হয় বাদই দিলাম।’

‘হায় সেলুকাস! সরকারের অঙ্গ সংগঠনের ভূমিকা পালন করেছে বলেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের প্রতি মানুষের ভালবাসার কথা বলছেন।’

স্বাধীন দেশে বিরোধী দলের ওপর পুলিশের ‘উন্মত্ত হামলা’ মানুষকে সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

৮ ফেব্রুয়ারির সিদ্ধানের জন্য জনগণ অপেক্ষা করছে জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘এখানে সরকারের প্রতিশোধ স্পৃহার প্রতিফলন ঘটে নাকি ন্যায়বিচার হয় সেটিই এখন অবলোকন করার বিষয়। ন্যায়বিচার হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোন নেতিবাচক সিদ্ধান্ত হবে না।’

‘সত্যনিষ্ঠ’, ‘দৃঢ়চেতা’ দেশ ও দশের প্রতি ‘সহমর্মী’ বেগম খালেদা জিয়াকে দেশ ও জনগণ থেকে কেউ আলাদা করতে পারবে না জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘সব অশুভ অভিপ্রায় ব্যর্থ হয়ে যাবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না

শ্রাবণের ধারার মতো গ্রেপ্তার চলছে: রিজভী

আপডেট সময় ০৩:৩২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার রায়কে সামনে রেখে দলের নেতা-কর্মীদেরকে গণহারে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছেন রুহুল কবির রিজভী। গ্রেপ্তার অভিযানের ব্যাপকতা বোঝাতে তিনি বর্ষাকালের শ্রাবণ মাসের অঝর ধারার উদাহরণও টেনেছেন।

রবিবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যু্গ্ম মহাসচিবিএ কথা বলেন। তিনি জানান, গত পাঁচ দিনে ঢাকাসহ সারাদেশে মূল দল ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রিজভী বলেন, ‘শ্রাবণের ধারার মতো গ্রেপ্তারের ধারা বয়ে যাচ্ছে, তৈরি করা হচ্ছে ভীতিকর পরিবেশ।’

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হবে। আর ৩০ জানুয়ারি চ্যারিটেল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিএনপি নেত্রীর ফেরার পথে হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় তারা প্রিজন ভ্যান ও পুলিশের অ্স্ত্র ভেঙে আটক কয়েকজন নেতা-কর্মীকে ছিনিয়ে নেয়।

এরপর থেকে পুলিশও পাল্টা অভিযান শুরু করে। তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় ৬৯ জনকে। পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

রিজভীর অীভযোগ, শনিবার লা মেরিডিয়ান হোটেলে দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠক চলাকালে ও সভা শেষে ৩৫ জনেরও বেশি নেতাকর্মীকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেছে।

বিএনপি গণহারে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দাবি করেছেন, সন্ত্রাসী ধরা হচ্ছে আর এতে পুলিশের প্রতি ভালবাসা বাড়ছে।

এর জবাবে রিজভী বলেন, ‘দেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, ছাত্র, যুবক ও মহিলাসহ বিএনপি ও বিরোধী দলের অসংখ্য নেতাকর্মীদেরকে ধরার জন্য চিরুনি অভিযান, আটক ও বাসায় বাসায় হামলার পরও ভালবাসা বাড়ছে ? গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার কথা না হয় বাদই দিলাম।’

‘হায় সেলুকাস! সরকারের অঙ্গ সংগঠনের ভূমিকা পালন করেছে বলেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের প্রতি মানুষের ভালবাসার কথা বলছেন।’

স্বাধীন দেশে বিরোধী দলের ওপর পুলিশের ‘উন্মত্ত হামলা’ মানুষকে সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

৮ ফেব্রুয়ারির সিদ্ধানের জন্য জনগণ অপেক্ষা করছে জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘এখানে সরকারের প্রতিশোধ স্পৃহার প্রতিফলন ঘটে নাকি ন্যায়বিচার হয় সেটিই এখন অবলোকন করার বিষয়। ন্যায়বিচার হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোন নেতিবাচক সিদ্ধান্ত হবে না।’

‘সত্যনিষ্ঠ’, ‘দৃঢ়চেতা’ দেশ ও দশের প্রতি ‘সহমর্মী’ বেগম খালেদা জিয়াকে দেশ ও জনগণ থেকে কেউ আলাদা করতে পারবে না জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘সব অশুভ অভিপ্রায় ব্যর্থ হয়ে যাবে।’