অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিলেটে সমাবেশ করে এই প্রচার শুরু করেন তিনি। চলতি বছরের শেষ দিকে হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের তফসিল ঘোষণা না হলেও আওয়ামী লীগ প্রস্তুতি শুরু করেছে আগেভাগেই।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এই প্রচার উদ্বোধন করতে সিলেট যান প্রধানমন্ত্রী। হযরত শাহজালাল (র.), হযরত শাহ পরান (র.) এর মাজারসহ তিনটি মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বেলা পৌনে তিনটায় তিনি যান আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিতে।
জনসভাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী সিলেটের ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। আরও ২০টি প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন। এরপর বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী প্রচারণা পাঁচ বছরে পদার্পণ করার সাতে সাথে শুরু করেছি। আর শুরুটাও আজকে আমরা করছি সিলেট থেকে।’
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশে লুটপাট, দুর্নীতি হয়। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। বিএনপি ধ্বংসে বিশ্বাসী, আমরা উন্নয়নে বিশ্বাসী। মঙ্গলবার বিকালে সিলেটে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ উন্নয়নে বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন করে। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আমাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠিয়েছিল। আজ এই সরকার ৫ বছরে পা রাখলো। এই বছর নির্বাচনি বছর। তাই এই সমাবেশ থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করছি।
প্রধানমন্ত্রী আলিয়া মাদরাসা মাঠে একই সঙ্গে বোতাম চেপে যে ১৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সেগুলো হলো- হযরত গাজী সৈয়দ বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাজারে প্রায় ৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মাজারের উন্নয়ন, মহিলা ইবাদতখানা নির্মাণ, মাজারের সৌন্দার্য্য বর্ধন এবং সংযোগ সড়কসহ যাতায়াতের প্রধান রাস্তার ২ কিলোমিটার প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১২-তলা ভিত্তির ওপর ৫-তলা নগর ভবন উদ্বোধন, সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬-তলাবিশিষ্ট চারতলা নতুন একাডেমিক কাম-প্রশাসনিক ভবন, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ফিরোজপুরে সার পরীক্ষাগার ও গবেষণাগার ভবন, বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা অফিস ভবন, সিলেট বিভাগীয় ও জেলা এনএসআই কার্যালয় ভবন, সিলেট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও জকিগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত বাবুছড়ার আরসিসি ইউ-টাইপ ড্রেন নির্মাণ, জালালাবাদ রাস্তা সম্প্রসারণ ও এসফল্ট দ্বারা উন্নয়ন কাজ, সিলেট-সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়ক উন্নয়ন, মৌলভীবাজার-রাজনগর-ফেঞ্চুগঞ্জ-সিলেট সড়ক ও রশিদপুর-বিশ্বনাথ-লামাকাজি সড়কে ওভারলে কাজ, দরবস্ত-কানাইঘাট-শাহবাগ সড়ক মজবুতিকরণ ওভারলে কাজ, ঢাকা (কাঁচপুর)-ভৈরব-জগদ্বীশপুর-শায়েস্তাগঞ্জ- সিলেট-তামাবিল-জাফলং জাতীয় মহাসড়কের সিলেট-শেরপুর অংশের মজবুতিকরণ ওভারলে কাজ এবং শেরপুর টোল প্লাজা অংশে রিজিট প্যাভমেন্ট নির্মাণ কাজ, জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কামালবাজার ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্গত কানাইঘাট সড়ক ও কুইটুকে তিন তলা বিশিষ্ট প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার ভবন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী যে ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের মহিলা ইবাদতখানা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল নির্মাণ, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ১ হাজার অসনবিশিষ্ট ছাত্রাবাস, ছাত্রীনিবাস ও নার্সিং হোস্টেল নির্মাণ, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতাল ভবনের ৪-তলা থেকে ১০-তলা উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সিলেট সদর হাসপাতাল নির্মাণ, সিলেট পুলিশ লাইনে এসএমপি ব্যারাক ভবন ও অস্ত্রাগার নির্মাণ, কোতোয়ালী মডেল থানায় ১০-তলা ভিত্তির ওপর ৪-তলা ডরমিটরি ভবন নির্মাণ, সিলেট জেলার তামাবিলে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (দ্বিতীয় পর্যায়ে) ৬-তলা ভিত্তির ওপর ৩-তলা ভবন নির্মাণ, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) পুলিশ লাইন ভবন নির্মাণ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি শিশুদের জন্য ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, বিভাগীয় পরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা) ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস ভবন নির্মাণ, সিলেট-গোলাপগঞ্জ- চারখাই-জকিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৬৫ কিলোমিটার উন্নয়ন, গোলাপগঞ্জ-ঢাকা দক্ষিণ-ভাদেশ্বর ও চারখাই-শেওলা-বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম সড়কের উন্নয়ন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















