ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি

রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্বব্যাংকে মুহিতের চিঠি ’টু হেল্প আস’

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার ভরণপোষণ ও নিরাপত্তার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে বিশ্বব্যাংককে চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মুহিত বলেন, ‘আমি নিজে দরখাস্ত করেছি বিশ্বব্যংকের কাছে টু হেল্প আস।’ অবশ্য এই সহায়তা সরকার এখনই নিতে চায় না বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম (বিডিএফ)-২০১৮ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। বুধবার এই ফোরামে দেয়া বক্তব্যে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কথা উল্লেখ করে মুহিত একে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বোঝা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

সাংবাদিকরা অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এই ফোরামে রোহিঙ্গাদের ভরণপোষণেন বিষয়ে কোন ধরণের আশ্বাস বাংলাদেশ পেয়েছে কি না। বিশেষ করে বিশ্বব্যংক এবং এডিবির কাছ থেকে কোনো ধরনের বক্তব্য এসেছে কি না।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দরখাস্ত করেছি বিশ্বব্যংকের কাছে টু হেল্প আস। রোহিঙ্গা ইস্যুতে কী ধরনের হেল্প তারা আমাদের করতে পারে সেটা আমরা একটু স্লোলি যাচ্ছি। কারণ এখনই তাদের কাছে যদি চলে যাই ভাসানচরে পূনর্বাসনের অর্থের জন্য তাহলে সেটা কমপ্রোমাইজ হয়ে গেল না? এজন্য আমরা স্লোলি যাচ্ছি।’

আমরা দেখছি কীভাবে আমরা অগাতে পারি। উই ওয়ান্ট টু সি হাউমাচ গো ফরোয়ার্ড ইমপ্লিমেন্টেশন। যখনই আমরা দেখব এর চেয়ে বেশি সম্ভব হচ্ছে না তখনই আমরা তাদের কাছে যাব। সেজন্য আমরা ভাসানচরে আমাদের নিজেদের অর্থায়নে সেবিক ইনফ্রাসট্রাকচার তৈরি করছি। ওনাদের (দাতাদের) বলেছি আপনারা অপেক্ষা করেন আমরা অবস্থা দেখছি।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য নোয়াখালীর ভাসান চরে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য একনেকে একটি প্রকল্পও পাস হয়েছে।

বাংলাদেশে বোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা অবশ্য ১০ লাখের বেশি এবং এদেরকে ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। আগামী দুই মাস প্রতি সপ্তাহে দেড় হাজার করে রোহিঙ্গা ফিরে যাবে এবং পরে এই সংখ্যা বাড়বে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

উন্নয়ন ফোরামের সমাপনী অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সমস্যা ছাড়াও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়ন নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাড়তি অর্থায়ন সব দেশের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নে বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সকলের কাছেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ডলার বা টাকাটা কীভাবে পাওয়া যাবে। সরকার এসব বিষয় নিয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজে হাত দিয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীরাও সহায়তার কথা দিয়েছেন ‘

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মার্চে আমরা এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ পরিবর্তিত অবস্থার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এটা নতুন বছরের নতুন জার্নি। আমরা নতুন যায়গায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’

সম্মেলনে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে সরকার ও সহযোগী সংস্থাসমূহের মধ্যে অংশীদারত্ব শক্তিশালীকরার অঙ্গীকার করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যেগে ‍অনুষ্ঠিত দুই দিন ব্যাপী বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম এর বৈঠক বুধবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (অফিদ) এর মহাপরিচালক সুলেইমান জাসির আল হারবিশ, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট এনেট ডিক্সন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন চাই ঝ্যাং, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমহাপরিচালক মিরু মাসুজিমা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এ ফোরামে অংশ নেন।

ফোরামে আটটি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের কৃষি উন্নয়নে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈদেশিক নিয়োগ, বেসরকারিখাতের আরও বেশি অংশগ্রহণ, মানবসম্পদের উন্নয়ন, বৈষম্য রোধ, নারী নির্যাতন রোধ, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণ এবং টেকসই উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আলাদা আলাদা সেশনে এ বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতামত দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমান কার্গো নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর ব্যবস্থার আহ্বান আইএটিএর

রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্বব্যাংকে মুহিতের চিঠি ’টু হেল্প আস’

আপডেট সময় ১১:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার ভরণপোষণ ও নিরাপত্তার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে বিশ্বব্যাংককে চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মুহিত বলেন, ‘আমি নিজে দরখাস্ত করেছি বিশ্বব্যংকের কাছে টু হেল্প আস।’ অবশ্য এই সহায়তা সরকার এখনই নিতে চায় না বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম (বিডিএফ)-২০১৮ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। বুধবার এই ফোরামে দেয়া বক্তব্যে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কথা উল্লেখ করে মুহিত একে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বোঝা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

সাংবাদিকরা অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এই ফোরামে রোহিঙ্গাদের ভরণপোষণেন বিষয়ে কোন ধরণের আশ্বাস বাংলাদেশ পেয়েছে কি না। বিশেষ করে বিশ্বব্যংক এবং এডিবির কাছ থেকে কোনো ধরনের বক্তব্য এসেছে কি না।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দরখাস্ত করেছি বিশ্বব্যংকের কাছে টু হেল্প আস। রোহিঙ্গা ইস্যুতে কী ধরনের হেল্প তারা আমাদের করতে পারে সেটা আমরা একটু স্লোলি যাচ্ছি। কারণ এখনই তাদের কাছে যদি চলে যাই ভাসানচরে পূনর্বাসনের অর্থের জন্য তাহলে সেটা কমপ্রোমাইজ হয়ে গেল না? এজন্য আমরা স্লোলি যাচ্ছি।’

আমরা দেখছি কীভাবে আমরা অগাতে পারি। উই ওয়ান্ট টু সি হাউমাচ গো ফরোয়ার্ড ইমপ্লিমেন্টেশন। যখনই আমরা দেখব এর চেয়ে বেশি সম্ভব হচ্ছে না তখনই আমরা তাদের কাছে যাব। সেজন্য আমরা ভাসানচরে আমাদের নিজেদের অর্থায়নে সেবিক ইনফ্রাসট্রাকচার তৈরি করছি। ওনাদের (দাতাদের) বলেছি আপনারা অপেক্ষা করেন আমরা অবস্থা দেখছি।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য নোয়াখালীর ভাসান চরে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য একনেকে একটি প্রকল্পও পাস হয়েছে।

বাংলাদেশে বোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা অবশ্য ১০ লাখের বেশি এবং এদেরকে ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। আগামী দুই মাস প্রতি সপ্তাহে দেড় হাজার করে রোহিঙ্গা ফিরে যাবে এবং পরে এই সংখ্যা বাড়বে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

উন্নয়ন ফোরামের সমাপনী অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সমস্যা ছাড়াও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়ন নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাড়তি অর্থায়ন সব দেশের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নে বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সকলের কাছেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ডলার বা টাকাটা কীভাবে পাওয়া যাবে। সরকার এসব বিষয় নিয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজে হাত দিয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীরাও সহায়তার কথা দিয়েছেন ‘

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মার্চে আমরা এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ পরিবর্তিত অবস্থার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এটা নতুন বছরের নতুন জার্নি। আমরা নতুন যায়গায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’

সম্মেলনে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে সরকার ও সহযোগী সংস্থাসমূহের মধ্যে অংশীদারত্ব শক্তিশালীকরার অঙ্গীকার করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যেগে ‍অনুষ্ঠিত দুই দিন ব্যাপী বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম এর বৈঠক বুধবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (অফিদ) এর মহাপরিচালক সুলেইমান জাসির আল হারবিশ, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট এনেট ডিক্সন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন চাই ঝ্যাং, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমহাপরিচালক মিরু মাসুজিমা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এ ফোরামে অংশ নেন।

ফোরামে আটটি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের কৃষি উন্নয়নে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈদেশিক নিয়োগ, বেসরকারিখাতের আরও বেশি অংশগ্রহণ, মানবসম্পদের উন্নয়ন, বৈষম্য রোধ, নারী নির্যাতন রোধ, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণ এবং টেকসই উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আলাদা আলাদা সেশনে এ বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতামত দেন।