ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

নিজেকে ছোট করতে চাই না: ত্রাণমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গরিবদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণে সরকার পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিয়েছে দাবি করে এ বিষয়ে বেসরকারি উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানাতে রাজি নন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। মন্ত্রীর কাছে এই আহ্বান মানসম্মানের বিষয়। চলমান শৈত্যপ্রবাহে সরকারের মানবিক সহায়তার বিষয়ে জানাতে মঙ্গলবার নিজ মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মায়া। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণে আহ্বান জানাবে কি না-এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘শৈত্যপ্রবাহে আমি বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণের আহ্বান জানিয়ে নিজেকে ছোট করতে চাই না।’

এ সময় বেসরকারি খাতে যারা শীতবস্ত্র বিতরণ করেন তারা চলতি বছর এখনও সহায়তা শুরু না করায় সমালোচনাও করেন মায়া। বলেন, ‘আপনারা জানেন প্রতিবছর বিভিন্ন ব্যাংক, বিমা, রাজনৈতিক সংগঠন ও বিভিন্ন ব্যক্তি উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এবার তা করা হচ্ছে না। হয়ত শীত চলে গেলে তারা শীতবস্ত্র নিয়ে হাজির হবে।’

বেসরকারি উদ্যেগে শীতবস্ত্র যারা বিতরণ করে তারা হয়ত এবার বুঝতেই পারেনি এতো শীত শুরু হবে। কিছু ‘ক্ষমতাবিলাসী রাজনীতিক’ শীতার্ত মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে ঢাকায় বসে ফাঁকা আওয়াজ দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন মায়া। তাদেরকে ‘মায়াকান্না’ না করে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতেও আহ্বান জানান তিনি।

শীতবস্ত্রের অভাবে কেউ মারা যায়নি-মন্ত্রীর এমন দাবির পর পাবনায় ছয় জনের মৃত্যুর কারণ জানতে চান একজন সাংবাদিক। এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘তারা কেউই শীতে মারা যায়নি। তারা কোনো না কোনো অসুস্থতার জন্য মারা গেছেন।’

মন্ত্রণালয় কী করছে?

এবার বেশি শীত পড়বে এই বিষয়টি সরকার বুঝতে পেরে আগে থেকেই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান ত্রাণমন্ত্রী। জানান, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে মোট ২৮ লাখ কম্বল শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এ কারণে সারাদেশে ৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হলেও দেশে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে শীতবস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ২০ জেলায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে পদায়ন করেছি। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

মন্ত্রী জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কমিটির সভা করবেন, কম্বল ও শুকনো খাবার বিতরণ নিশ্চিত করবেন এবং শৈত্য প্রবাহের সার্বিক পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন।’

শৈত্য প্রবাহে প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা (দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা) তাদের অধিক যত্ন নেওয়ার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিতে সরকারিভাবে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। এর প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে থাকবেন অতিরিক্ত সচিব ফয়জুর রহমান। তাকে যেকোন সময় ১০৭২৭২১২১৬৯ নম্বরে পাওয়া যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবার পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

নিজেকে ছোট করতে চাই না: ত্রাণমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গরিবদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণে সরকার পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিয়েছে দাবি করে এ বিষয়ে বেসরকারি উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানাতে রাজি নন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। মন্ত্রীর কাছে এই আহ্বান মানসম্মানের বিষয়। চলমান শৈত্যপ্রবাহে সরকারের মানবিক সহায়তার বিষয়ে জানাতে মঙ্গলবার নিজ মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মায়া। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণে আহ্বান জানাবে কি না-এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘শৈত্যপ্রবাহে আমি বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণের আহ্বান জানিয়ে নিজেকে ছোট করতে চাই না।’

এ সময় বেসরকারি খাতে যারা শীতবস্ত্র বিতরণ করেন তারা চলতি বছর এখনও সহায়তা শুরু না করায় সমালোচনাও করেন মায়া। বলেন, ‘আপনারা জানেন প্রতিবছর বিভিন্ন ব্যাংক, বিমা, রাজনৈতিক সংগঠন ও বিভিন্ন ব্যক্তি উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এবার তা করা হচ্ছে না। হয়ত শীত চলে গেলে তারা শীতবস্ত্র নিয়ে হাজির হবে।’

বেসরকারি উদ্যেগে শীতবস্ত্র যারা বিতরণ করে তারা হয়ত এবার বুঝতেই পারেনি এতো শীত শুরু হবে। কিছু ‘ক্ষমতাবিলাসী রাজনীতিক’ শীতার্ত মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে ঢাকায় বসে ফাঁকা আওয়াজ দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন মায়া। তাদেরকে ‘মায়াকান্না’ না করে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতেও আহ্বান জানান তিনি।

শীতবস্ত্রের অভাবে কেউ মারা যায়নি-মন্ত্রীর এমন দাবির পর পাবনায় ছয় জনের মৃত্যুর কারণ জানতে চান একজন সাংবাদিক। এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘তারা কেউই শীতে মারা যায়নি। তারা কোনো না কোনো অসুস্থতার জন্য মারা গেছেন।’

মন্ত্রণালয় কী করছে?

এবার বেশি শীত পড়বে এই বিষয়টি সরকার বুঝতে পেরে আগে থেকেই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান ত্রাণমন্ত্রী। জানান, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে মোট ২৮ লাখ কম্বল শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এ কারণে সারাদেশে ৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হলেও দেশে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে শীতবস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ২০ জেলায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে পদায়ন করেছি। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

মন্ত্রী জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কমিটির সভা করবেন, কম্বল ও শুকনো খাবার বিতরণ নিশ্চিত করবেন এবং শৈত্য প্রবাহের সার্বিক পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন।’

শৈত্য প্রবাহে প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা (দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা) তাদের অধিক যত্ন নেওয়ার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিতে সরকারিভাবে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। এর প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে থাকবেন অতিরিক্ত সচিব ফয়জুর রহমান। তাকে যেকোন সময় ১০৭২৭২১২১৬৯ নম্বরে পাওয়া যাবে।