ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে : মির্জা ফখরুল দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলা প্রয়োজন: সেনাপ্রধান গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায়, প্রকল্প চূড়ান্ত: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশকে সিঙ্গাপুর বানাতে চাই না, বাসযোগ্য করতে চাই : প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ইরানের হৃদয় ভেঙে ইতিহাস গড়ে নকআউটে মিশর হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি ইউরোপের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের তুরাগে পিকনিক করতে গিয়ে ট্রলার থেকে পড়ে কিশোরের মৃত্যু ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আহত ছেলে

আ. লীগ নয়, ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিল খালেদা-এরশাদ: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ভোটারবিহীন ছিল না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ নয়, বাংলাদেশে ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিল ‘৮৮ সালে এরশাদ ও ‘৯৬ সালে খালেদা জিয়া। তাদের কেউ বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি।

দশম সংসদ নির্বাচনকে ভোটারবিহীন বলে বিএনপির সমালোচনাকে নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ওই নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছিল আর জনগণের সমর্থন আছে বলেই সরকার চার বছর পূর্ণ করেছে। শনিবার সন্ধ্যায় সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে তত্ত্বাবধায়ক সরাকরের দাবি পূরণ না হওয়ায়। আর সেই নির্বাচন ঠেকাতে সহিংস আন্দোলন হয় সে সময়। ভোটের আগে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত পাঁচ শতাধিক স্কুলে আগুন দেয়া হয়। ভোটের দিনও সহিংসতা হয় বেশ কিছু এলাকায়। বিরোধীদের হামলায় প্রাণ যায় একজন নির্বাচনী কর্মকর্তার। আবার বিভিন্ন এলাকায় ভোট দিতে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হন ভোটাররা।

বিএনপি অভিযোগ করে আসছে, তাদের বর্জনের মুখে সেই ভোটে পাঁচ শতাংশ মানুষও অংশ নেয়নি। আর যারা ভোটকেন্দ্রে যায়নি, তারা তাদের আন্দোলনে পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছেন।

তবে নির্বাচন কমিশন যে সময় ৩৯.৬৬ শতাংশ ভোট পড়ার কথা জানায়। এই বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া ভোট ঠেকানোর নামে অগ্নিসংযোগ করেছে। স্কুল পুড়িয়েছে। প্রিজাইডি অফিসার হত্যা করেছে। তারপরও জনগণ রুখে দাড়িয়ে নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই আমরা চার বছর পূর্ণ করতে পারলাম।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগেও দুই দফা বিরোধী দলবিহীন নির্বাচন হয়েছে বাংলাদেশে। আরও এক দফা করার চেষ্টাও হয়েছিল। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ১৯৮৮ সালে নির্বাচন হয়েছে বিরোধী দলের বর্জনের ‍মুখে। এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে বিএনপির সরকারে থাকাকালে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। আবার ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারিও বিরোধী দলের বর্জনের মুখে আরেকবার নির্বাচনের চেষ্টা করেছিল বিএনপি। কিন্তু তার ১১ দিন আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের পদ ছাড়েন সে সময়ের রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ, জারি করেন জরুরি অবস্থা।

এই ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়া, এরশাদ খালেদা জিয়া ভোট চুরি করেছিল বলেই ক্ষমতা পাঁচ বছর পূর্ণ করতে পারেনি। এরশাদ ৮৮ সালে নির্বাচন করে ৯০ সালে তার পতন হয়েছিল। ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন করে খালেদা জিয়া তো দেড় মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি।’

বিএনপি বর্তমান সরকারকে অনির্বাচিত দাবি করলেও শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত। গণতন্ত্রকে সুরক্ষা করা আমাদের লক্ষ্য ছিল। খালেদা জিয়া চেয়েছিল এদেশে যেন গণতান্ত্রিক ধারা না থাকে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভোট ছাড়াই রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের কোনো ভোটে ক্ষমতায় এসেছিল যে বিএনপি গণতন্ত্র, গণতন্ত্র করে? কোন গণতন্ত্রে বিএনপির জন্ম? অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে যাদের জন্ম তাদের মুখে গণতন্ত্রের বুলি আওড়ায় কীভাবে?’।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নকআউট ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন ইংলিশ ডিফেন্ডার

আ. লীগ নয়, ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিল খালেদা-এরশাদ: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ভোটারবিহীন ছিল না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ নয়, বাংলাদেশে ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিল ‘৮৮ সালে এরশাদ ও ‘৯৬ সালে খালেদা জিয়া। তাদের কেউ বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি।

দশম সংসদ নির্বাচনকে ভোটারবিহীন বলে বিএনপির সমালোচনাকে নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ওই নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছিল আর জনগণের সমর্থন আছে বলেই সরকার চার বছর পূর্ণ করেছে। শনিবার সন্ধ্যায় সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে তত্ত্বাবধায়ক সরাকরের দাবি পূরণ না হওয়ায়। আর সেই নির্বাচন ঠেকাতে সহিংস আন্দোলন হয় সে সময়। ভোটের আগে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত পাঁচ শতাধিক স্কুলে আগুন দেয়া হয়। ভোটের দিনও সহিংসতা হয় বেশ কিছু এলাকায়। বিরোধীদের হামলায় প্রাণ যায় একজন নির্বাচনী কর্মকর্তার। আবার বিভিন্ন এলাকায় ভোট দিতে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হন ভোটাররা।

বিএনপি অভিযোগ করে আসছে, তাদের বর্জনের মুখে সেই ভোটে পাঁচ শতাংশ মানুষও অংশ নেয়নি। আর যারা ভোটকেন্দ্রে যায়নি, তারা তাদের আন্দোলনে পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছেন।

তবে নির্বাচন কমিশন যে সময় ৩৯.৬৬ শতাংশ ভোট পড়ার কথা জানায়। এই বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া ভোট ঠেকানোর নামে অগ্নিসংযোগ করেছে। স্কুল পুড়িয়েছে। প্রিজাইডি অফিসার হত্যা করেছে। তারপরও জনগণ রুখে দাড়িয়ে নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই আমরা চার বছর পূর্ণ করতে পারলাম।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগেও দুই দফা বিরোধী দলবিহীন নির্বাচন হয়েছে বাংলাদেশে। আরও এক দফা করার চেষ্টাও হয়েছিল। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ১৯৮৮ সালে নির্বাচন হয়েছে বিরোধী দলের বর্জনের ‍মুখে। এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে বিএনপির সরকারে থাকাকালে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। আবার ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারিও বিরোধী দলের বর্জনের মুখে আরেকবার নির্বাচনের চেষ্টা করেছিল বিএনপি। কিন্তু তার ১১ দিন আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের পদ ছাড়েন সে সময়ের রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ, জারি করেন জরুরি অবস্থা।

এই ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়া, এরশাদ খালেদা জিয়া ভোট চুরি করেছিল বলেই ক্ষমতা পাঁচ বছর পূর্ণ করতে পারেনি। এরশাদ ৮৮ সালে নির্বাচন করে ৯০ সালে তার পতন হয়েছিল। ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন করে খালেদা জিয়া তো দেড় মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি।’

বিএনপি বর্তমান সরকারকে অনির্বাচিত দাবি করলেও শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত। গণতন্ত্রকে সুরক্ষা করা আমাদের লক্ষ্য ছিল। খালেদা জিয়া চেয়েছিল এদেশে যেন গণতান্ত্রিক ধারা না থাকে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভোট ছাড়াই রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের কোনো ভোটে ক্ষমতায় এসেছিল যে বিএনপি গণতন্ত্র, গণতন্ত্র করে? কোন গণতন্ত্রে বিএনপির জন্ম? অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে যাদের জন্ম তাদের মুখে গণতন্ত্রের বুলি আওড়ায় কীভাবে?’।