ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

ক্ষমতায় টিতে থাকতে বিচারবহির্ভূত হত্যা চলছে: খালেদা জিয়া

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ক্ষমতায় টিতে থাকতে হত্যা চলছে, এমন অভিযোগ করে এগুলো বন্ধের তাগাদা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসব করে কেউ কোনোদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি বলেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক টুইট বার্তায় এ কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ ক্ষেত্রে তিনি স্বাধীনতা উত্তর নিরাপত্তা হেফাজতে বামপন্থী নেতা সিরাজ সিকদারের মৃত্যুর উদাহরণ দেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন লেখেন, ‘রাজনৈতিক-বিশ্বাসের জন্য জানুয়ারি ২, ১৯৭৫ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী সিরাজ সিকদার, যে বিচার আজও হয়নি। শুধু ক্ষমতা স্থায়ী করতে ৭১’র পর ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যা শুরু করে শাসকগোষ্ঠী, কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। ক্ষমতার জন্য হত্যা বন্ধ হোক।’

বামপন্থী নেতা সিরাজ শিকদারের মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত এক বিষয়। এই নেতা কৃষক শ্রমিকদের মুক্তির কথা বলে ‘পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি’নামে দল করেছিলেন। এই দলটি সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। পরে নিষিদ্ধ হওয়া দলটির নেতা-কর্মীরা হত্যা, চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে।

বায়াত্তরে সর্বহারা পার্টির প্রথম কংগ্রেসে নতুন মার্ক্সবাদী তত্ত্ব দাঁড় করান সিরাজ সিকদার। সেখানে বলা হয়, ‘সশস্ত্র বিপ্লব’ই লক্ষ্য। তারা চলমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ‘বুর্জোয়া গণতন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

১৯৭৩ সালে নির্বাচনের পরে সিরাজ সিকদার গঠন করেন ‘পূর্ব বাংলার জাতীয় মুক্তিফ্রন্ট’। তিনি ছিলেন তার প্রধান। ১৯৭৪ সালে তিনি আত্মগোপনে যান। ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের হালিশহরে গোয়েন্দা সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই তাঁকে বিমানে ঢাকায় আনা হয়। পরদিন শেরেবাংলা নগর থেকে সাভারে রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন বলেছিল, সিরাজ সিকদার পালানোর চেষ্টাকালে গুলিতে মারা যান তিনি। তবে সমালোচকরা একে হত্যা বলে আসছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছখ্যাত বিজয়

ক্ষমতায় টিতে থাকতে বিচারবহির্ভূত হত্যা চলছে: খালেদা জিয়া

আপডেট সময় ০৯:৩৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ক্ষমতায় টিতে থাকতে হত্যা চলছে, এমন অভিযোগ করে এগুলো বন্ধের তাগাদা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসব করে কেউ কোনোদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি বলেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক টুইট বার্তায় এ কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ ক্ষেত্রে তিনি স্বাধীনতা উত্তর নিরাপত্তা হেফাজতে বামপন্থী নেতা সিরাজ সিকদারের মৃত্যুর উদাহরণ দেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন লেখেন, ‘রাজনৈতিক-বিশ্বাসের জন্য জানুয়ারি ২, ১৯৭৫ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী সিরাজ সিকদার, যে বিচার আজও হয়নি। শুধু ক্ষমতা স্থায়ী করতে ৭১’র পর ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যা শুরু করে শাসকগোষ্ঠী, কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। ক্ষমতার জন্য হত্যা বন্ধ হোক।’

বামপন্থী নেতা সিরাজ শিকদারের মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত এক বিষয়। এই নেতা কৃষক শ্রমিকদের মুক্তির কথা বলে ‘পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি’নামে দল করেছিলেন। এই দলটি সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। পরে নিষিদ্ধ হওয়া দলটির নেতা-কর্মীরা হত্যা, চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে।

বায়াত্তরে সর্বহারা পার্টির প্রথম কংগ্রেসে নতুন মার্ক্সবাদী তত্ত্ব দাঁড় করান সিরাজ সিকদার। সেখানে বলা হয়, ‘সশস্ত্র বিপ্লব’ই লক্ষ্য। তারা চলমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ‘বুর্জোয়া গণতন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

১৯৭৩ সালে নির্বাচনের পরে সিরাজ সিকদার গঠন করেন ‘পূর্ব বাংলার জাতীয় মুক্তিফ্রন্ট’। তিনি ছিলেন তার প্রধান। ১৯৭৪ সালে তিনি আত্মগোপনে যান। ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের হালিশহরে গোয়েন্দা সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই তাঁকে বিমানে ঢাকায় আনা হয়। পরদিন শেরেবাংলা নগর থেকে সাভারে রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন বলেছিল, সিরাজ সিকদার পালানোর চেষ্টাকালে গুলিতে মারা যান তিনি। তবে সমালোচকরা একে হত্যা বলে আসছেন।