ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

ক্ষমতায় টিতে থাকতে বিচারবহির্ভূত হত্যা চলছে: খালেদা জিয়া

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ক্ষমতায় টিতে থাকতে হত্যা চলছে, এমন অভিযোগ করে এগুলো বন্ধের তাগাদা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসব করে কেউ কোনোদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি বলেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক টুইট বার্তায় এ কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ ক্ষেত্রে তিনি স্বাধীনতা উত্তর নিরাপত্তা হেফাজতে বামপন্থী নেতা সিরাজ সিকদারের মৃত্যুর উদাহরণ দেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন লেখেন, ‘রাজনৈতিক-বিশ্বাসের জন্য জানুয়ারি ২, ১৯৭৫ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী সিরাজ সিকদার, যে বিচার আজও হয়নি। শুধু ক্ষমতা স্থায়ী করতে ৭১’র পর ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যা শুরু করে শাসকগোষ্ঠী, কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। ক্ষমতার জন্য হত্যা বন্ধ হোক।’

বামপন্থী নেতা সিরাজ শিকদারের মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত এক বিষয়। এই নেতা কৃষক শ্রমিকদের মুক্তির কথা বলে ‘পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি’নামে দল করেছিলেন। এই দলটি সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। পরে নিষিদ্ধ হওয়া দলটির নেতা-কর্মীরা হত্যা, চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে।

বায়াত্তরে সর্বহারা পার্টির প্রথম কংগ্রেসে নতুন মার্ক্সবাদী তত্ত্ব দাঁড় করান সিরাজ সিকদার। সেখানে বলা হয়, ‘সশস্ত্র বিপ্লব’ই লক্ষ্য। তারা চলমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ‘বুর্জোয়া গণতন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

১৯৭৩ সালে নির্বাচনের পরে সিরাজ সিকদার গঠন করেন ‘পূর্ব বাংলার জাতীয় মুক্তিফ্রন্ট’। তিনি ছিলেন তার প্রধান। ১৯৭৪ সালে তিনি আত্মগোপনে যান। ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের হালিশহরে গোয়েন্দা সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই তাঁকে বিমানে ঢাকায় আনা হয়। পরদিন শেরেবাংলা নগর থেকে সাভারে রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন বলেছিল, সিরাজ সিকদার পালানোর চেষ্টাকালে গুলিতে মারা যান তিনি। তবে সমালোচকরা একে হত্যা বলে আসছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

ক্ষমতায় টিতে থাকতে বিচারবহির্ভূত হত্যা চলছে: খালেদা জিয়া

আপডেট সময় ০৯:৩৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ক্ষমতায় টিতে থাকতে হত্যা চলছে, এমন অভিযোগ করে এগুলো বন্ধের তাগাদা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসব করে কেউ কোনোদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি বলেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক টুইট বার্তায় এ কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ ক্ষেত্রে তিনি স্বাধীনতা উত্তর নিরাপত্তা হেফাজতে বামপন্থী নেতা সিরাজ সিকদারের মৃত্যুর উদাহরণ দেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন লেখেন, ‘রাজনৈতিক-বিশ্বাসের জন্য জানুয়ারি ২, ১৯৭৫ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী সিরাজ সিকদার, যে বিচার আজও হয়নি। শুধু ক্ষমতা স্থায়ী করতে ৭১’র পর ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যা শুরু করে শাসকগোষ্ঠী, কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। ক্ষমতার জন্য হত্যা বন্ধ হোক।’

বামপন্থী নেতা সিরাজ শিকদারের মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত এক বিষয়। এই নেতা কৃষক শ্রমিকদের মুক্তির কথা বলে ‘পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি’নামে দল করেছিলেন। এই দলটি সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। পরে নিষিদ্ধ হওয়া দলটির নেতা-কর্মীরা হত্যা, চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে।

বায়াত্তরে সর্বহারা পার্টির প্রথম কংগ্রেসে নতুন মার্ক্সবাদী তত্ত্ব দাঁড় করান সিরাজ সিকদার। সেখানে বলা হয়, ‘সশস্ত্র বিপ্লব’ই লক্ষ্য। তারা চলমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ‘বুর্জোয়া গণতন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

১৯৭৩ সালে নির্বাচনের পরে সিরাজ সিকদার গঠন করেন ‘পূর্ব বাংলার জাতীয় মুক্তিফ্রন্ট’। তিনি ছিলেন তার প্রধান। ১৯৭৪ সালে তিনি আত্মগোপনে যান। ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের হালিশহরে গোয়েন্দা সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই তাঁকে বিমানে ঢাকায় আনা হয়। পরদিন শেরেবাংলা নগর থেকে সাভারে রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন বলেছিল, সিরাজ সিকদার পালানোর চেষ্টাকালে গুলিতে মারা যান তিনি। তবে সমালোচকরা একে হত্যা বলে আসছেন।