ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আসন সমঝোতা হলেও জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে: নাহিদ ইসলাম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বিপিএল এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল, সময়সূচি প্রকাশ গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নির্ধারণ আইন অনুমোদন হয়েছে : আসিফ নজরুল বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের ঘরে ঘরে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: দুলু জামায়াত জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত, রাতে প্রার্থী ঘোষণা শহীদ হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড়, পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস আবারও ঢাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, মানুষের ভোগান্তি ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন তারা যেন প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করেন’:নজরুল ইসলাম

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস প্রত্যাখ্যান, অনশন না ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ নিয়ে আশ্বাস দিলেও তা প্রত্যাখান করেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, ‘বহুবার আমাদেরকে আশ্বাস দেওয়া ও সময় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। আমরা এখন আর শিক্ষামন্ত্রী বা কারও আশ্বাস নয়, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।’ মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশনরত নন-এমপিও শিক্ষকরা এসব কথা বলেন।

নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ডা. বিনয়ভূষণ রায় অসুস্থ থাকায় অনশনের কর্মসূচি সমন্বয় করছেন সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘বহুবার আমরা আশ্বাস পেয়েছি। বহুবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠকও হয়েছে। তিনি আমাদের কাছে তিন মাস সময়ও নিয়েছিলেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত করতে পারেননি। এ কারণে আমরা তার এবারের আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করেছি।’

অনশনে থাকা শিক্ষকদের সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতির ভাষ্য, ‘২০১২ সালে আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। আমরা ঢাকায়ও এসেছিলাম। কিন্তু তখন নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বৈঠক হবে না বলে জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।

এরপর ২০১৩ সালে আবারও আন্দোলন শুরু করলে আমাদের এমপিওভুক্তির আশ্বাস দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। তখন আমাদের কাছ থেকে তিন মাস সময় নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৭ সাল পেরিয়ে গেলেও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। এরপর আমরা ২০১৫ সালে এই প্রেসক্লাবের সামনে ২৮ দিন অনশন করেছিলাম। তখন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০১৬ সাল থেকে আমাদের এমপিওভুক্ত করা হবে।’

২০১৬ সালে জাতীয় প্রেসক্লাব, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সামনে অনশন করেছিলেন বলে জানান নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তিনি বললেন, ‘তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পক্ষ থেকে দলটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা আবারও আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তখন তারা বলেছিলেন, ২০১৭-১৮ সালের বাজেটে আমাদের এমপিওভুক্ত করা হবে। কিন্তু করা হয়নি। এখন আমরা আর কারও আশ্বাস নয়, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।’

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে নন-এমপিও শিক্ষকদের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বসে আমরা আপনাদের এমপিওভুক্ত করবো।’

তখন এমপিওভুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের বাইরে আছেন। তবে যাওয়ার আগে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এমপিওভুক্তির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি।’

শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, ‘শিক্ষকরা আমাদের শিক্ষা পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তারা আমাদের নয়নের মণি। আমি এই পরিবারের একজন কর্মী। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। আশা করি, আপনারা বিষয়টা বুঝবেন। আপনাদের এমপিওভুক্ত করা হবে।’

কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে এমপিওভুক্তির দাবিতে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়া অনশন না ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ কারণে শিক্ষামন্ত্রীসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দলকে নিরাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, অনশনে থাকা ১১ জন শিক্ষককে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাবো। এ পর্যন্ত আমাদের ৩৩ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে তিন জন এখনও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস প্রত্যাখ্যান, অনশন না ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন

আপডেট সময় ০১:৫৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ নিয়ে আশ্বাস দিলেও তা প্রত্যাখান করেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, ‘বহুবার আমাদেরকে আশ্বাস দেওয়া ও সময় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। আমরা এখন আর শিক্ষামন্ত্রী বা কারও আশ্বাস নয়, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।’ মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশনরত নন-এমপিও শিক্ষকরা এসব কথা বলেন।

নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ডা. বিনয়ভূষণ রায় অসুস্থ থাকায় অনশনের কর্মসূচি সমন্বয় করছেন সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘বহুবার আমরা আশ্বাস পেয়েছি। বহুবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠকও হয়েছে। তিনি আমাদের কাছে তিন মাস সময়ও নিয়েছিলেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত করতে পারেননি। এ কারণে আমরা তার এবারের আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করেছি।’

অনশনে থাকা শিক্ষকদের সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতির ভাষ্য, ‘২০১২ সালে আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। আমরা ঢাকায়ও এসেছিলাম। কিন্তু তখন নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বৈঠক হবে না বলে জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।

এরপর ২০১৩ সালে আবারও আন্দোলন শুরু করলে আমাদের এমপিওভুক্তির আশ্বাস দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। তখন আমাদের কাছ থেকে তিন মাস সময় নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৭ সাল পেরিয়ে গেলেও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। এরপর আমরা ২০১৫ সালে এই প্রেসক্লাবের সামনে ২৮ দিন অনশন করেছিলাম। তখন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০১৬ সাল থেকে আমাদের এমপিওভুক্ত করা হবে।’

২০১৬ সালে জাতীয় প্রেসক্লাব, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সামনে অনশন করেছিলেন বলে জানান নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তিনি বললেন, ‘তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পক্ষ থেকে দলটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা আবারও আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তখন তারা বলেছিলেন, ২০১৭-১৮ সালের বাজেটে আমাদের এমপিওভুক্ত করা হবে। কিন্তু করা হয়নি। এখন আমরা আর কারও আশ্বাস নয়, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।’

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে নন-এমপিও শিক্ষকদের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বসে আমরা আপনাদের এমপিওভুক্ত করবো।’

তখন এমপিওভুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের বাইরে আছেন। তবে যাওয়ার আগে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এমপিওভুক্তির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি।’

শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, ‘শিক্ষকরা আমাদের শিক্ষা পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তারা আমাদের নয়নের মণি। আমি এই পরিবারের একজন কর্মী। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। আশা করি, আপনারা বিষয়টা বুঝবেন। আপনাদের এমপিওভুক্ত করা হবে।’

কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে এমপিওভুক্তির দাবিতে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়া অনশন না ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ কারণে শিক্ষামন্ত্রীসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দলকে নিরাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, অনশনে থাকা ১১ জন শিক্ষককে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাবো। এ পর্যন্ত আমাদের ৩৩ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে তিন জন এখনও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’