ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মিয়ানমারে ফিরে ক্যাম্পে থাকতে চান না হিন্দু রোহিঙ্গারা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর সেখানে কোনো ক্যাম্পে থাকতে না চাওয়ার কথা জানিয়েছেন হিন্দুধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গারা। যে এলাকায় তারা থাকতেন, সেখানে তাদের সম্পদ ও সম্পত্তির বিষয়ে প্রত্যাবাসন শুরুর আগেই নিশ্চয়তা চাইছে তারা। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে সে দেশের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে সিংহভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠী হলেও কয়েক শ হিন্দুধর্মাবলম্বীও রয়েছে। ২২ জানুয়ারি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এই হিন্দুদের ফিরিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হবে।

২২ জানুয়ারি প্রত্যাবাসনের শুরুতেই সাড়ে চার শতাধিক হিন্দু রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। কিন্তু তারা ফিরে যাওয়ার আগে কিছু বিষয়ে নিশ্চয়তা চাইছে। যেমন তাদের ফেলে আসা সম্পত্তি, ঘর-বাড়ি, দোকানপাট ফিরে পাওয়া যাবে কি না, এই প্রশ্নের জবাব চাইছে তারা।

মিয়ানমার থেকে আসা মাঝি মধুরাম শীল এ বিষয়ে বলেন, মুখোশধারী লোকজন তাদের বসতবাড়ির মালামাল লুটের পাশাপাশি হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ কারণে তাদের দেশ ছাড়তে হয়েছে। বাংলাদেশে ক্যাম্পে জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য মিললেও ভিটেমাটি সহায়-সম্পত্তির জন্য তারা ফিরতে চান। কিন্তু সেটি ফিরে পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে তাদের।

মিয়ানমারে জীবন ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা বিষয়ে আগাম ঘোষণা চাইছেন জগদীশ শীল। তাদের গ্রামের পাশে একটি পুলিশ ক্যাম্প বসানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নইলে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর আবার হামলা করতে পারে। মিয়ানমারে কোনো ক্যাম্পে থাকতে চান না জানিয়ে আরও কয়েকজন বলেন, তাদের জায়গা-জমি বাড়ি-ঘর ফেরতের বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

শনিবার সকালে ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, হিন্দু শরণার্থীরা তাদের জিনিসপত্র গুছগাছ করছে। মিয়ানমারের চিকনছড়ি থেকে স্ত্রী-পুত্র সাত জনকে নিয়ে পালিয়ে আসা সুরুদন পাল জানান, সেখানকার চিকনছড়ি বাজারে তিনি ব্যবসা করতেন। তার প্রায় ১৫ বিঘা জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া ঘরটি পুড়িয়েছে, গরু-ছাগল লুট করেছে। এখন মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে কীভাবে চলবেন, এ নিয় দুচিন্তায় সুরুদন।

উখিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, হিন্দু নেতা ও ইউপি সদস্য স্বপন শর্মা রনি বলেন, ২২ জানুয়ারি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হচ্ছে। শুরুতেই হিন্দু শরণার্থীদের মিয়ানমারের ফেরত পাঠানো মধ্য দিয়ে এই প্রত্যাবাসনের উদ্বোধন হবে। রনি বলেন, ‘এখানে বসবাসরত হিন্দুরা মিয়ানমারে ফিরে যেতে আগ্রহী। তবে তাদের সেখানে হারানো সহায়-সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে সে দেশের সরকারকে।

উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিম হিন্দু গ্রামের একটি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছিল ১৪৫ পরিবারের ৫৬০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে বর্তমানে ১১০ পরিবারের ৩৯৮ জন ক্যাম্পে রয়েছেন। বাকিদের খোঁজ খবর প্রশাসনের কাছে নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মিয়ানমারে ফিরে ক্যাম্পে থাকতে চান না হিন্দু রোহিঙ্গারা

আপডেট সময় ১২:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর সেখানে কোনো ক্যাম্পে থাকতে না চাওয়ার কথা জানিয়েছেন হিন্দুধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গারা। যে এলাকায় তারা থাকতেন, সেখানে তাদের সম্পদ ও সম্পত্তির বিষয়ে প্রত্যাবাসন শুরুর আগেই নিশ্চয়তা চাইছে তারা। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে সে দেশের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে সিংহভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠী হলেও কয়েক শ হিন্দুধর্মাবলম্বীও রয়েছে। ২২ জানুয়ারি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এই হিন্দুদের ফিরিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হবে।

২২ জানুয়ারি প্রত্যাবাসনের শুরুতেই সাড়ে চার শতাধিক হিন্দু রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। কিন্তু তারা ফিরে যাওয়ার আগে কিছু বিষয়ে নিশ্চয়তা চাইছে। যেমন তাদের ফেলে আসা সম্পত্তি, ঘর-বাড়ি, দোকানপাট ফিরে পাওয়া যাবে কি না, এই প্রশ্নের জবাব চাইছে তারা।

মিয়ানমার থেকে আসা মাঝি মধুরাম শীল এ বিষয়ে বলেন, মুখোশধারী লোকজন তাদের বসতবাড়ির মালামাল লুটের পাশাপাশি হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ কারণে তাদের দেশ ছাড়তে হয়েছে। বাংলাদেশে ক্যাম্পে জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য মিললেও ভিটেমাটি সহায়-সম্পত্তির জন্য তারা ফিরতে চান। কিন্তু সেটি ফিরে পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে তাদের।

মিয়ানমারে জীবন ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা বিষয়ে আগাম ঘোষণা চাইছেন জগদীশ শীল। তাদের গ্রামের পাশে একটি পুলিশ ক্যাম্প বসানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নইলে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর আবার হামলা করতে পারে। মিয়ানমারে কোনো ক্যাম্পে থাকতে চান না জানিয়ে আরও কয়েকজন বলেন, তাদের জায়গা-জমি বাড়ি-ঘর ফেরতের বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

শনিবার সকালে ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, হিন্দু শরণার্থীরা তাদের জিনিসপত্র গুছগাছ করছে। মিয়ানমারের চিকনছড়ি থেকে স্ত্রী-পুত্র সাত জনকে নিয়ে পালিয়ে আসা সুরুদন পাল জানান, সেখানকার চিকনছড়ি বাজারে তিনি ব্যবসা করতেন। তার প্রায় ১৫ বিঘা জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া ঘরটি পুড়িয়েছে, গরু-ছাগল লুট করেছে। এখন মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে কীভাবে চলবেন, এ নিয় দুচিন্তায় সুরুদন।

উখিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, হিন্দু নেতা ও ইউপি সদস্য স্বপন শর্মা রনি বলেন, ২২ জানুয়ারি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হচ্ছে। শুরুতেই হিন্দু শরণার্থীদের মিয়ানমারের ফেরত পাঠানো মধ্য দিয়ে এই প্রত্যাবাসনের উদ্বোধন হবে। রনি বলেন, ‘এখানে বসবাসরত হিন্দুরা মিয়ানমারে ফিরে যেতে আগ্রহী। তবে তাদের সেখানে হারানো সহায়-সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে সে দেশের সরকারকে।

উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিম হিন্দু গ্রামের একটি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছিল ১৪৫ পরিবারের ৫৬০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে বর্তমানে ১১০ পরিবারের ৩৯৮ জন ক্যাম্পে রয়েছেন। বাকিদের খোঁজ খবর প্রশাসনের কাছে নেই।